বাংলাদেশে রাজনীতির দুঃসময় চলছে। বিরোধী দল নেই। সরকারী দলেও এখন প্রকৃত কর্মীরা নেই। ভিন্ন দলের কর্মীরা ঢুকে পড়েছে কৌশলে। যারা এক সময় আওয়ামী লীগের বিরোধীতা করেছে তারাই এখন ক্ষমতাবান। নেতারাও এলাকায় অনুপুস্থিত। দলের মধ্যেই ফুসে উঠছে বিদ্রোহ। এমন চিত্র দলের জন্য সুখকর নয়। সকল নেতৃত্ব প্রধানমন্ত্রী কেন্দ্রিক হয়ে পরেছে। যে কোন বিষয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ছাড়া কার্যকর হয়না। মন্ত্রীরা যেন চাকুরী করছেন। অথচ এটাই ছিল দল গোছানোর মোক্ষম সময়। যারা দলের গুরত্বপুর্ন পদে রয়েছেন তারা দলের মধ্যে কতৃত্ব বজায় রাখতে উপদল গঠন করছেন। নির্বাচন এলে পছন্দের প্রার্থীকে নমিনেশন পাইয়ে দিতে তৎপর হন। যে কারনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও এখন ক্ষুদ্ধ। নেতাদের বদলে আমলা নির্ভরতা বেড়েছে সরকার পরিচালনায়। এবং আমলারা কখনোই জন স্বার্থ নিয়ে ভাবেনা। পদ্মা সেতু চালু হলে দেশে পরিবর্তন আসবে কিন্তু কৃতত্বটি দলের পক্ষে যাবেনা। দেশে এখন একটি কথাই বলাবলি হচ্ছে ” শেখ হাসিনা ছাড়া কেউ সৎ না”।

বি এন পি দল হিসাবে প্রায় বিলুপ্ত। তাদের কোন রাজনৈতিক কার্যক্রম নেই। সংসদে যে কয়জন প্রতিনিধি রয়েছে তারা দলের হয়ে বক্তব্য দেয়। এছাড়া ফখরুরুল ইসলাম আলমগীর মাঝে মাঝে বিভিন্ন সভাতে হাজির হন। তারা জিয়া স্বাধীনতার ঘোষক এই বিতর্কেই আটকে রয়েছে। জামাত এবং মৌলবাদীদের সঙ্গে জোট বেধে সরকার পতনের ষরযন্ত্র করছে গোপনে। জনগনের সঙ্গে জনগনকে নিয়ে এবং জনগনের জন্য রাজনীতি করছেনা। বি এন পি নেতাদের বক্তব্য বিবৃতি শুনে দলের কর্মীরাও এখন বিরক্ত। ইতিমধ্যে অনেক কর্মী দল ছেড়েছে। হেফাজত ই ইসলামির নেতাদের দুস্কর্ম আর অপরাধ ধরা পরার পর এখন মৌলবাদীরাও চুপ হয়ে গেছে।

এমনিতেই করোনা সংক্রমনের কারনে কোন সভা সমিতি করা যাচ্ছেনা। লক ডাউন আর নিষেধাজ্ঞার পর দেখা সাখ্যাতও নেই। টেলিভিশনের প্রচারনাও কেউ দেখেনা। এখন শোস্যাল মিডিয়াতেই সব কিছুর বিনিময় হয়- রাজনীতিও। সুযোগ পেয়ে ইচ্ছা মত নিজের মতামত প্রকাশ করে সকলে। এই মতামতকে গন্য করেই রাজনীতি করেন নেতারা। তৃতীয় পক্ষ হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল। এখন তারাও বয়সের ভারে আবোলতাবোল বলেন। জনগন শোনেওনা। দল হিসাবে আওয়ামী লীগই স্বক্রিয়। কিন্তু
আওয়ামী লীগের রাজনীতি সংস্কারের দাবী রাখে। ভবিষ্যত রাজনীতি নির্ভর করবে বর্তমান নেতৃত্বের উপর। যোগ্য আর ত্যগী নেতা-কর্মী বেছে নিতে ভুল করলে মাশুল গুনতে হবে আওয়ামী লীগকেও। বিপদ এলে সুবিধাবাদিদের এই সুন্দর চেহারাটিও আর দেখা যাবেনা। সবিনয়ে নেতৃত্বকে অনুরোধ জানাব দলকে সংগঠিত করার।

যেসব আসনে জনপ্রতিনিধির মৃত্যু হয়েছে সেই সব আসনে প্রতিযোগিতায় নেমেছে অর্ধশত করে প্রার্থী। এদের মধ্যে সদ্য যোগ দেওয়া অন্য দলের নেতারাও রয়েছে। আওয়ামী লীগ জনগনের দল। দীর্ঘদিন অত্যাচার নির্যাতন সয়ে যারা দলকে ক্ষমতায় এনেছে তাদের মূল্যায়ন করা জরুরী। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রায়সই কথাটি বলেন কিন্তু কার্যকর হচ্ছেনা। দলের ভবিষ্যত নেতৃত্বও চিহ্নিত করা প্রয়োজন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে