আজিজুর রহমান প্রিন্স: কিছু মানুষ আছে যারা সবকিছুতেই রাজনীতি খুঁজেন। কিন্তু রাজনীতি করতে ইস্যু লাগে, প্রতিপক্ষ লাগে। বাংলাদেশে এখন কে কার প্রতিপক্ষ বোঝা মুশকিল। কি নিয়ে কার সঙ্গে তারা রাজনীতি করেন তা’ও পরিস্কার নয়। সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করাই রাজনীতি নয়। দলের নীতি আদর্শে উদ্ভুদ্ধ করে জনগনকে নিয়ে নিয়মাতান্ত্রিক আন্দোলন করা হল রাজনীতি। পাকিস্তান আমলে নেতারা জেল জুলুম সয়েছেন। জনগনের দাবী আদায়ে মৃত্যুকেও ভয় করেননি। এখন লাঠি চার্জ করা দেখলেই লুকিয়ে যান নেতারা। ঘরে বসেই বিবৃতি দেন ” সরকার কথা বলতে দিচ্ছেনা”। হুঙ্কার দেন সরকার উৎখাত করবেন, কর্মীদের রাস্তায় নামার আহবান করে রাতেই মন্ত্রীকে বলে রাখেন” কাল রাস্তায় নামবো, আমার কথাটা পুলিশকে একটু বলে দিবেন প্লিজ”। সত্যও বলেননা তারা। দেশের মানুষ উন্নতি দেখলেও নেতারা গলা ফাটিয়ে দেশ ধ্বংস হয়ে গেছে বলে বক্তৃতা করেন। এসব শুনে এখন মানুষ হাসে। আলোচনায় বসলেই নির্বাচন দাবী করেন বলেন নির্বাচন দিলেই দেশে গনতন্ত্র ফিরে আসবে। আবার নির্বাচন দিলে বলতে শুরু করেন নির্বাচন সুষ্ঠ হবেনা। নির্বাচনের দিন নির্বাচন সুষ্ঠ হচ্ছেনা বলে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেন। আসলে তারা জনগনের কাছে যাননা, গেলেও সারা পাননা। তাই ভরসা পাননা নির্বাচনেও। অনিবার্য পরাজয় জেনে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেন। কারচুপির অভিযোগ এনে মুখ রক্ষা করেন জনগনের কাছে। এজেন্টদের বেড় করে দিয়েছে দাবী করেন। এজেন্ট না থাকলেওত বাক্সে ভোট পরতে পারে। ভোটারদেরত কেউ বেড় করে দেয়না। ভোটারদের গায়েও লেখা থাকেনা কে কার সমর্থক! প্রার্থীতা প্রত্যাহার করবেন কেন? এমন দুর্বল রাজনীতি দেখে সমর্থকরাও ঘরে বসে থাকে ক্ষোভে। এখন একটাই রাজনীতির শ্লোগান তাদের “ভোট চুরি হয়ে গেছে”। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও নির্বাচনে হেরে গিয়ে ভোট চুরির অভিযোগ করেছেন। একটার পর একটা মামলা করে অভিযোগ প্রমান করতে পারেননি। মিথ্যা অভিযোগ কারে এখন দলের সমর্থনও হারাতে বসেছেন।

রাজনীতির কথা ভেবে বলতে হয়। আর বলা কথা প্রমান করে দেখাতে হয়। একবার কোন কথা মিথ্যা প্রমানীত হলে সেই নেতার রাজনীতি সেখানেই শেষ হয়ে যায়। পদ্মা সেতু নিয়ে বি এন পি মিথ্যাচার করেছে প্রতিদিন। দাবী করেছে আওয়ামী লীগ সরকার এই সেতু নির্মান করতে পারবেনা। বি এন পি ক্ষমতায় গিয়ে দুইটা পদ্মা সেতু নির্মান করে দিবে। সেই পদ্মা সেতু আওয়ামী লীগ সরকার করে ফেলেছে। এবং বি এন পি নেত্রী টাকা চুরির মামলায় জেলে গেছেন। যারা নেত্রীর কথা বিশ্বাস করে শ্লোগান দিয়েছে তারা এখন লজ্জায় মুখ ঢাকেন। তাহলে জণগন এই দলের সমর্থন করবে কোন ভরসায়? আবার যদি মিথ্যা হয়! বিশ্ব বলছে বাংলাদেশ এগিয়ে গেছে। বি এন পি নেতারা দাবি করছেন দেশ ভারতের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। আবার ভারতও বলছে বাংলাদেশ সব সূচকে ভারতের চেয়ে এগিয়ে গেছে। বি এন পি নেতাদের এই দাবীই দলের অবস্থানকে ধ্বংস করে দিয়েছে। সরকারের উপর দায় চাপিয়ে লাভ নেই। বাংলাদেশে মানুষ এখন সচেতন হয়ে গেছে সব বুঝে।

লেখক: কলামিস্ট। টরন্টো, কানাডা।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে