টাচ নিউজ ডেস্কঃ রাজনীতি থেকে অবসর নিলেন প্রবীন রাজনীতিবিদ আজম খান। বুধবার (৫ জানুয়ারি)  জাতীয় প্রেসক্লাবের অডিটরিয়াম মিলনায়তনে দুপুরে সংবাদ সম্মেলনের মাধম্যে তিনি নিজের রাজনৈতিক জীবনের ইতি টানেন।

উপস্থিত সাংবাদিক ও তার ভক্ত অনুসারীদের সামনে ৫২ বছরের রাজনীতিকে বিদায় জানিয়ে আজম খান বলেন, দীর্ঘ জীবন রাজনীতির অনেক চড়াই-উতরাই এর সঙ্গে ছিলাম। জীবনের শেষ দিকে এসে বন্ধু-বান্ধব, স্ত্রী অনুরোধ উপেক্ষা করে আজ রাজনীতি থেকে নিজে অবসর গ্রহণ করলাম।

ভবিষ্যতে কোরআনের আলোকে বাকি জীবন কাটিয়ে দেওয়ার একান্ত ইচ্ছা পোষণ করে অন্য সবাইকে এই পথে আসার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মকে রাজনীতির পথ তৈরী করে দিতে হবে। আমরা যারা ৬০ উর্দ্ধ বয়স তাদের রাজনীতি থেকে সড়ে আসা উচিত। তিনি তার শহীদ দুই ভাইয়ের নামে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর দুটি বাড়ি অস্থায়ীভাবে বরাদ্ধ দিয়ে ছিলেন।

প্রধান মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য হলেও আমার দুই ভাইয়ের নামে যে দুটি বাড়ি অস্থায়ী বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছিল তা স্থায়ী করে দেওয়ার অনুরোধ করছি।

তিনি অবসরের বাকিটি সময় বৃক্ষরোপন, মৎস্য চাষ, গরু পালন, অসহায় কুকুর-বিড়াল ও খরগোস সহ অন্যান্য প্রাণীদের প্রতিপালন করতে চান। তিনি সকল ধর্ম প্রাণ মুসলমানদেরকে পবিত্র কোরআনের বাংলা তরজমা সহ পাঠ করার আহ্বান জানান।

তিনি সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, রাজনীতির ষড়যন্ত্রের কারনে জীবনে বহু বছর জেল খেটেছি। কিন্তু আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলতে চাই আমার হাতে রক্তের কোন দাগ নেই। কালিগঞ্জের শহীদ ময়জুদ্দিন হত্যার বিষয় আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ সেটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক। আমি এই হত্যার সাথে কোন ভাবেই জড়িত নয়। মহামান্য হাইকোর্ট আমাকে সম্পূর্ণভাবে অব্যাহত করেছেন।

তিনি আরো বলেন, কোন রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে আমার কোন অভিযোগ নেই। জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধেও আমার কোন অভিযোগ নেই। রাজনীতির দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় নিজেকে ব্যর্থ মনে হয়েছে। সেজন্য স্বেচ্ছায়-স্বজ্ঞানে রাজনীতি থেকে নিজেকে সড়িয়ে নিলাম।

তিনি সকলের সহযোগিতা কমনা করেন। আগামী দিনের সকল মানবিক কাজের।

তিনি তার নির্বাচনী এলাকার জনসাধারণের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন আপনাদের সাথে রাজনীতি করতে গিয়ে আমার যদি কোন ভুলভ্রান্তি হয়ে থাকে তাহলে আমাকে ক্ষমা করে দিবেন। রাজনীতির মধ্য দিয়ে আপনাদের জন্য হয়তো আগামীতে কিছু করতে পারবো না। একজন মানুষ হিসেবে এবং আপনাদের এলাকার সন্তান হিসেবে ভবিষ্যতেও আপনাদের পাশে থাকবো।

তার বক্তব্য শেষে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে রাজনীতিতে অবসর গ্রহণ করায় তাকে ফুলের শুভেচ্ছা জানান এবং বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মঞ্জুর হোসেন ঈসা তাকে স্মারক শুভেচ্ছা প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সকল শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে