টাচ নিউজ ডেস্কঃ রাজধানীর কদমতলীতে শিশুর মৃত্যু নিয়ে ধূম্রজাল। হত্যা না স্বাভাবিক মৃত্যু? মোটা অংকের টাকা খরচ করে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা। এলাকাবাসির চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

জানা গেছে, কদমতলী থানাধীন ৬০নং ওয়ার্ড, স্মৃতিধারা এলাকায় ৪নং রোডে বাপ্পির বাড়িতে নিচতলায় মোহাম্মদ নামে এক শিশু (১) গত বৃহস্পতিবার মারা যায়। এলাকাবাসির অভিযোগ শিশুটির পোস্টমর্টেম ছাড়া মাটি দিয়ে মৃত্যুর আসল রহস্য আড়াল করা হয়েছে। অন্যদিকে বাড়িওয়ালার ক্ষমতা ও টাকার কাছে মানবতা হেরে গেছে বলে মনে করেন সচেতন মহল।

শিশুটি মৃত্যুর তিনদিন পর রবিবার এলাকায় জানাজানি হলে এক প্রকার চাপা ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে সারাদিন চলে দরকষাকষি। গভীর রাতে সমাহার সমিতির জামালের সহযোগিতায় রাজুসহ এলাকার প্রভাবশালী মহলের অদৃশ্য ইশারায় এক প্রকার সমঝোতায় বাধ্য হন ভুক্তভোগি পরিবার।

এলাকাবাসি নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানায়, বাড়ীওয়ালা ও বাড়াটিয়ার ঝগড়ার বলি হয়েছে শিশু মোহাম্মদ। তাদের ঝগড়ার কারণে বাড়ীওয়ালা বাপ্পি গেটের চাবি না দিয়ে গেট বন্ধ করে রাখে। শিশুর বাবা আসলে গেট খুলে দিবে বলে বাড়িওয়ালা বলেন। এ কথা জানিয়েছেন শিশু মোহাম্মাদের মা।

শিশুর মা আসমা অভিযোগ করে বলেন, বাড়িওয়ালার অবহেলার কারণে আমার সন্তান মারা গেছে। ঝগড়ার কারণে আমাকে হাসপাতালে যেতে দেয়নি। হাসপাতালে গিয়ে যদি মারা যেত তাহলে মনকে বুঝদিতে পারতাম।

সমঝোতার আগে শিশুর মা আসমা এ প্রতিবেদকে যে সব কথা বলেন তা ভিডিও রেকডিং রয়েছে।

এরপর এপ্রতিবেদক এ বিষয়ে বাড়ির মালিক বাপ্পির কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার বাড়াটিয়া আসমা সে ভালো না। সে ঝগড়া করে,মিথ্যা কথা বলে, গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করতে চায়। এ কারণে তাকে আমার বাসায় রাখবোনা। তার শিশু সন্তান মায়ের অবহেলার কারণে মারা গেছে। সে আমাকে ফাঁসাতে চায়। তাকে বিভিন্ন সময় আমি (বাপ্পি) টাকা পয়সা দিয়ে সহযোগিতা করেছি। কিন্তু সে আজ আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা বলছে। পুলিশ বলেছে তাকে বের করে দিতে। বিকালেই বের করে দেয়া হবে।

এলাকাবাসির তথ্যমতে জানা যায়, সমাহার সমিতির জামাল সে বিভিন্ন সময় পিছনের দরজা দিয়ে মানুষকে বিপদে ফেলে, সামনের দরজা দিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়ায়। সে এভাবে প্রতিনিয়ত মানুষদের প্রতারণা করে অর্থ হাতিয়ে নেয়। তার এক পুলিশ কর্মকর্তা আত্মীয় হওয়ার সুবাধে র্দীঘদিন কদমতলী থানাধীন এলাকায় যত অপকর্ম হয় জামালের হাত ধরে মীমাংসা ও সমযোতা করে থাকেন। জামালের বাইরে গেলে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার মিথ্যা জিডি-মামলা করানোর ভয়-ভীতি দেখায়।

বর্তমানে জামালের কাছে এলাকাবাসী জিম্মি। এসব করে জামাল বর্তমানে কটিপতি বনে গেছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দৃষ্টি দেয়ার জন্য বিনিত অনুরোধ জানায় এলাকাবাসি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে