টাচ নিউজ ডেস্ক: ফুলবাড়ী চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন ও নেতাদের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, দু:খজনক হলেও সত্য ১৩ বছরেও ফুলবাড়ী চুক্তি বাস্তবায়ন হয় নাই।

তিনি বলেন, প্রাণ, প্রকৃতি ও পরিবেশকে বহুজাতিক কম্পানির মুনাফার আগ্রাসন থেকে রক্ষা করার যে লড়াই বাংলাদেশে চলমান, ২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট সংঘটিত ফুলবাড়ী গণ-অভ্যুত্থান তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। ফুলবাড়ী গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফুলবাড়ীর জনগণ শুধু ফুলবাড়ীই নয়, বাংলাদেশের গোটা উত্তরবঙ্গকে এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছিল।

সোমবার নয়াপল্টনের যাদু মিয়া মিলনায়তনে ঐতিহাসিক ফুলবাড়ী দিবসের ১৩তম বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ফুলবাড়ী গণ-অভ্যুত্থানের এক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো, এই অভ্যুত্থান দপ করে জ্বলে ওঠা কোনো আগুনের মতো হঠাৎ নিভে যায়নি, পুঁজিতান্ত্রিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে স্থানীয় জনগণের সংহতির বন্ধনকে আরো মজবুত করেছে, স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের সপক্ষের রাজনৈতিক শক্তির বিকাশের রাস্তা তৈরি করেছে, ফুলবাড়ীর প্রতিরোধের সঙ্গে সারা দেশের মানুষকে শরিক করেছে, স্থানীয় প্রতিরোধকে জাতীয়, এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে করপোরেট আগ্রাসনের বিরুদ্ধে চলমান আন্তর্জাতিক প্রতিরোধের সঙ্গেও যুক্ত করে দিন দিন ফুলবাড়ীর চেতনাকে আরো মজবুত করেছে। ফলে বহুজাতিক এশিয়া এনার্জি ও তার দেশীয় লবিস্টদের নানামুখী তৎরতার বিরুদ্ধে ফুলবাড়ীর জনগণকে ২৬ আগস্টের পরও বার বারই ফুঁসে উঠতে দেখা গেছে।

ন্যাপ মহাসচিব বলেন, সাম্প্রতিককালে এশিয়া এনার্জি ও তার এদেশীয় দোসরদের তৎপরতার একটা গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো বড়পুকুরিয়া। সরকারের মন্ত্রী বড়পুকুরিয়ায় উন্মুক্ত খননের কথা বলে চলেছেন, ভাড়াটে বিশেষজ্ঞ পত্রিকায় কলাম লিখছেন, ভাড়াটে সাংবাদিক ছাপাচ্ছেন মিথ্যা ও ভুল তথ্যে ভরা সংবাদ। তাঁদের এসব অপতৎপরতা প্রতিরোধ করার লক্ষে জাতীয়কে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

তিনি বলেন, বিপর্যয়ের চিত্র এত স্পষ্ট হওয়ার পরও শাসকগোষ্ঠীর কাছে কম্পানির স্বার্থ, কমিশন ও মুনাফার ধান্দা প্রাধান্য পায় বলেই একেকবার একেক ছুতায় উন্মুক্ত খননের তৎপরতা চলে; জনসচেতনতা ও জনপ্রতিরোধের মুখে যা আবার দ্রুতই মিলিয়ে যায়। ফুলবাড়ী গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ডাক দিয়ে যায়- শুধু ফুলবাড়ী বা বড়পুকুরিয়া নয়, গোটা উত্তরবঙ্গের জন্য বিপর্যয় সৃষ্টিকারী এই উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের সব তৎপরতার চিরস্থায়ী অবসান বাংলাদেশের নিরাপদ অস্তিত্বের জন্য ভীষণ জরুরি।

ন্যাপ ভাইস চেয়ারম্যান কাজী ফারুক হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশগ্রহন করেন ন্যাপ যুগ্ম মহাসচিব মো. নুরুল আমান চৌধুরী, মো. আতিকুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামাল ভুইয়া, সহ-সম্পাদক এডভোকেট আবদুস সাত্তার, ঢাকা মহানগর যুগ্ম সম্পাদক মো. শামিম ভুইয়া, শ্রম সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান প্রমুখ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে