এফ এম শরিফুল ইসলাম শরিফঃ ব্যক্তিগতভাবে আমি সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। জীবিকার তাগিদে ব্যবসা বাণিজ্য করে থাকি। মাঠপর্যায়ে ঠিকাদারি করতে যেয়ে আমাকে বিভিন্ন প্রকৌশলীদের অনৈতিক সুবিধা চাওয়ার দাবি মেটাতে হয়েছে। সরকারি প্রকৌশলী বা ডাক্তার যারা বিভিন্ন দায়িত্বে আছেন তারা সকলে অসৎ, চোর কিংবা দুর্নীতি পরায়ণ এমনটি সত্য নয়। এমন হলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব ছিলনা কিন্তু কতপয় কিছু ইঞ্জিনিয়ার এবং ডাক্তার আছেন দুর্নীতিবাজ এটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে আমরা এসকল বিষয়ে সংবাদ দেখে থাকি।

মূল প্রসঙ্গে আসি তাহলো, গত ১৯ জানুয়ারি জামালপুরে একটি সভায় মির্জা আজম সমাজের সামগ্রিক অবক্ষয় নিয়ে কথা প্রসঙ্গে দুর্নীতিগ্রস্ত প্রকৌশলী ও চিকিৎসকদের সমালোচনা করেন। দেশের ‘সবচেয়ে মেধাবী’ শিক্ষার্থীরা বুয়েট–মেডিকেলে ভর্তি হন। কিন্তু সরকারি চাকরিতে আসার পর তাঁরা দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। এবং দুর্নীতি বোঝাতে চোর শব্দটি ব্যবহার করেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় প্রকৌশলী এবং ডাক্তারদের সংগঠন থেকে প্রতিবাদ লিপি দিয়ে একটি ইস্যু সৃষ্টি করার পায়তারা চলছে। উনি তার বক্তব্যে কখনোই বলেননাই যে বুয়েটের সব চোর কিংবা মেডিক্যালের সব চোর । আমরা অস্বীকার করতে পারি না সরকারি চাকুরীরত একটি অংশ ডাক্তার, ইন্জিনিয়ার দূর্নীতিতে জড়িত রয়েছে।

মীর্জা আজম ৬ বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য। তিনি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।সুতরাং বিষয়গুলো তিনি কাছ থেকে দেখেছেন এবং তার অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি বিষয়টি তার বক্তব্যে তুলে ধরেছেন। কিন্তু একটি গোষ্ঠী সূর্যের মত ধ্রুব বিষয়টির কালিমা সামগ্রিক পেশাজীবীদের গায়ে লেপন করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্টী প্রেস রিলিজ বা প্রতিবাদ লিপি দিয়ে সমগ্র ইঞ্জিনিয়ার এবং ডাক্তারদের সম্পৃক্ত করে জননেতা মীর্জা আজমের বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্রের জাল বুনার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে।

আমাদের মনে রাখতে হবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিশ্বস্ত ভ্যানগার্ড জনাব মির্জা আজম এমপি সাংগঠনিক দক্ষতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে স্বীকৃত। তিনি অতি-জনপ্রিয় এবং জনবান্ধন নেতা।বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যে কয়েকজন নেতা সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে তাদের মধ্যে অন্যতম মির্জা আজম এমপি।১/১১ সময়ে এবং পরবর্তী রাজনৈতিক সংকটে রাজপথে নেত্রী মুক্তি আন্দোলনে ছিলেন সম্মুখভাগে।দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে রয়েছে তার গৌরবময় অধ্যায়।আজও তিনি দেশ ও জাতির ভাগ্যোন্নয়নে জননেত্রী শেখ হাসিনার পাশে থেকে অতন্দ্র প্রহরীর মত কাজ করে যাচ্ছেন।

আমরা কাছ থেকে দেখেছি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এমপি রাজনৈতিক জীবনে সত্যের সাথে আপোষহীন।সুতরাং তিনি সবসময় উচ্চস্বরে সত্য প্রকাশে অগ্র সৈনিক হিসেবে প্রকৃত সত্যকথা উচ্চারণ করবেন।আমরা সময়ের সাহসী রাজনীতিবিদ মির্জা আজম ভাই এর সাঙ্গে রাজপথে সক্রিয় ছিলাম,আছি এবং থাকবো।আমি হুশিয়ার উচ্চারণ করে বলতে চাই,প্রকৃত সত্য উন্মোচনে বা সত্য কথা বললে যাদের গাঁয়ে জ্বালা হয় বা যারা ষড়যন্ত্রের বীজ বপন করে তাদের বিরুদ্ধে আমরা সোচ্চার রয়েছি।মীর্জা আজমের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্তদের কঠিন জবাব দেওয়া হবে।সুতরাং মনে রাখতে হবে পেশাজীবি লেবাজ পরিচয়ে এমন অপেশাদার আচরণ করলে এর ফলাফল ভালো হবে না।

আমি বিশ্বাস করি দেশের সচেতন ইঞ্জিনিয়ার এবং ডাক্তাররা বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন এবং তারা নিজেরাও পেশাগত যায়গায় কারও অপকর্মের দ্বায় নিজেদের করে নেবে না।সুতরাং সামগ্রিকভাবে প্রতিবাদলিপি দিয়ে ষড়যন্ত্র করে কোন লাভ হবে না।মীর্জা আজম এমপি রাজনৈতিক সততা এবং স্পষ্টভাষী বক্তব্যের এক অনন্য উদাহরণ।সুতরাং সত্যের পক্ষে বলিষ্ঠ কন্ঠ রোধ করতে তাকে বিতর্কিত করার অপপ্রয়াস শক্ত হাতে দমন করা হবে। আমরা সবসময় বিশ্বাস করি, যতই ষড়যন্ত্র হোক জননেতা মীর্জা আজম সত্যের সাথে আপোষহীন থাকবেন এবং সর্বদা সত্য কথা বলে আমাদের সত্যের পথে লড়াই করতে অনুপ্রেরণা যুগিয়ে যাবেন।

লেখকঃ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে