টাচ নিউজ ডেস্ক: মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ময়মনসিংহে শুরু হয়েছে সাত দিনব্যাপী বই মেলা। নগরীর শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন উদ্যানের বৈশাখী মঞ্চে এ বই মেলার আয়োজন করেছে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন। এবারের বই মেলার প্রতিপাদ্য বিষয় ছিলো, ‘পড়িলে বই আলোকিত হই, না পড়িলে বই অন্ধকারে রই’।

শুক্রবার (২৫ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অনলাইনে সংযুক্ত হয়ে মেলার উদ্বোধন করেন স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ ও প্রাবন্ধিক অধ্যাপক যতীন সরকার। এ সময় তিনি বলেন, বুদ্ধিজীবী ও স্বচ্ছল ব্যক্তিদের লাইব্রেরি স্থাপন, বই মেলার আয়োজন ইত্যাদি বিষয়ে এগিয়ে আসতে হবে, যাতে করে নতুন প্রজন্মের পাঠাভ্যাস তৈরি হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার শফিকুর রেজা বিশ্বাস বলেন, বই আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারক-বাহক। সুনাগরিক ও পরিশিলীত জাতি গঠন করতে বই মেলার মতো এমন আয়োজন নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতি মসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইউসুফ আলী বলেন, মাননীয় মেয়র মো. ইকরামুল হক টিটুর উদ্যোগে এই বই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক চর্চা বৃদ্ধিতে বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকে। ডিজিটাল ডিভাইসের প্রতি আসক্তি দূর করতে এবং নতুন প্রজন্মকে বইমুখী করতে এ ধরণের উদ্যোগ অব্যহত রাখতে মসিক মেয়রের নির্দেশনা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মো. আহমার উজ্জামান, মসিকের ৩০ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. আবুল বাশার, ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বাবুল হোসেন এবং পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সভাপতি আব্দুর রব মোশারফ। এ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মসিক সচিব রাজীব সরকার। এ ছাড়া অনুষ্ঠান শেষে রাজীব সরকার রচিত রবীন্দ্রনাথ, সত্যজিৎ ও বিবিধ প্রসঙ্গ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। পরে বেলুন উড়িয়ে এবং ফিতা কেটে মেলার উদ্বোধন করা হয়।

মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেছে, এ বইমেলায় বাংলা একাডেমি, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রসহ বেশ কিছু স্বনামধন্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের ৩৭টি স্টলে রয়েছে দেশ-বিদেশের বইয়ের সম্ভার। প্রকাশক-বিক্রেতারা বলছেন, পাঠকের চাহিদা মাথায় রেখেই সাজানো হয়েছে স্টল। বই মেলায় প্রথম দিন থেকেই বেশ সাড়া পড়েছে। ক্রেতা-দর্শনার্থীরা মেলা প্রাঙ্গণে এসে ঘুরে ঘুরে তাদের পছন্দের বই দেখছেন, পড়ছেন ও কিনছেন।

আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে মেলা প্রাঙ্গণ। এ ছাড়া প্রতিদিন বিকেলে থাকছে আলোচনা অনুষ্ঠান, স্বরচিত কবিতাপাঠ, আবৃত্তি, কুইজসহ বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে