বশির আহমেদ ডালিম, মুরাদনগর প্রতিনিধি: করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার মানুষের মাঝে জনসচেতনা বৃদ্ধির লক্ষে কাজ করছেন মুরাদনগর কর্মরত প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

উপজেলাবাসীকে খাদ্যসামগ্রী সহায়তা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও আইন শৃঙ্খলা নিশ্চিত করণে মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভিষেক দাশ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাজমুল আলম, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মনজুর আলম ও প্রকল্প কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল হাই সরকার দিনরাত কাজ করে চলেছেন।

করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে তাদের নেতৃত্বে উপজেলা, স্বাস্থ্য বিভাগ ও পুলিশ প্রশাসনের কার্যক্রম প্রশংসিত হয়ে উঠছেন উপজেলাবাসীর কাছে। মুরদনগরে প্রশাসনের সহযোগিতায় সরকারি, বিভিন্ন ব্যক্তি ও সামাজিক সংগঠণের মাধ্যমে প্রায় ৮ হাজার কর্মহীন পরিবারে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া এলাকাভিত্তিক ব্যক্তি উদ্যোগে করোনায় কর্মহীন পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণকারিদের করোনা সচেতনতা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাচলের নির্দেশনাও প্রদান করছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলার গ্রামের মানুষকে সচেতন করতে এলাকায় এলাকায় মাইকিং ও জীবানুনাশক স্প্রেও করছেন। উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে জনসমাগম এড়ানোর জন্য কয়েকটি বড় বাজার খোলা মাঠে স্থানান্তর করেছেন। স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করতে উদ্বুদ্ধ করেছেন। এ ছাড়া উপজেলার সকল সাপ্তাহিক হাট বন্ধ রেখেছেন।

অন্যদিকে গ্রাম পর্যায়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ে কর্মরত ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী ও কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইটারদের মাধ্যমে সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যহত রয়েছে বলে জানা গেছে।

মুরদনগরে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও লকডাউনে থাকা পরিবারগুলোকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করেছেন। ওইসব পরিবারে থাকা শিশুদেরও খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে লকডাউনে থাকা ওইসব পরিবারে নিয়মিত খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। এসব কাজে মুরদনগর উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকাণ্ড সর্ব মহলে প্রশংসিত হয়েছে। পাশাপাশি মহামারি করোনা যুদ্ধেও এলাকার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখতে দিনরাত নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসন।

মুরাদনগর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান জানান, ইউএনও, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, প্রকল্প কর্মকর্তা ও ওসি তাঁরা সরকারি কর্মকর্তা হয়েও মানব সেবায় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। তাঁরা করোনা কালে মুরাদনগর উপজেলাবাসীর মনে জায়গা করে নিয়েছেন।

উপজেলার প্রকল্পকর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ আব্দুল হাই সরকার বলেন, বিভিন্ন ভাগে উপজেলা প্রশাসন ২ হাজার ৪৮ পরিবারকে সহায়তার পাশাপাশি ৩৯০ পেকেট শিশু খাবার বিতরণ করা হয়েছে। তাছাড়া করোনায় আক্রান্ত অনেক পরিবারকে ওষুধ, ফল দিয়েছি।

তিনি আরো বলেন, মুরাদনগরবাসীকে বলবো আপনারা সরকারি সকল আইন মানুন। আমরা আপনাদের পাশে আছি। মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একেএম মনজুর আলম বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সকলকে সচেতন থাকতে হবে। এ যুদ্ধ আমাদের একার না। পুলিশ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উপজেলাবাসীকে সচেতন রাখতে কাজ করে চলেছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাজমুল আলম বলেন, করোনাভাইরাস সারা দেশে মহামারি আকার ধারণ করেছে। এ অবস্থায় উপজেলাবাসীকে সচেতন ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভিষেক দাশ জানান, উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকার পাশাপাশি উপজেলাবাসীর ভূমিকাও অনেক। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অসহায় কর্মহীন পরিবারে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠন ও ব্যক্তি উদ্যোগে মুরাদনগর কর্মহীন পরিবারে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে