টাচ নিউজ ডেস্কঃ ময়মনসিংহ নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের জন্য একনেকে ১২২ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ টাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আধুনিক যানবাহন ও যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করা হবে।

মঙ্গলবার শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে সভায় সভাপতিত্ব করেন।

এদিকে প্রকল্প অনুমোদনের খবর ছড়িয়ে পড়লে ময়মনসিংহ নগরবাসী আনন্দে মেতে উঠেন। ময়মনসিংহ নগরীর জন্য একেক করে উল্লেখযোগ্য প্রকল্প অনুমোদন হওয়ায় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা আবারও প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন। তারা পুরো বিষয়টিকে মেয়র টিটু’র চেষ্টার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। দী

র্ঘ ১২ বছর ময়মনসিংহ নগরীতে ব্যাপক উন্নয়ন কমকাণ্ড এবং করোনা পরিস্থিতিতে জীবন বাজি রাখার কারণে মেয়র টিটুকে দেশের অন্যতম ‘শীর্ষ জনপ্রতিনিধি’ উপাধি দিয়েছেন ময়মনসিংহবাসী। এ

কনেক সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিব, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য, মেয়র মোঃ ইকরামুল হক টিটু, প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মঙ্গলবার একনেকে কাঙ্খিত প্রকল্পটি অনুমোদন হওয়ায় মেয়র মোঃ ইকরামুল হক টিটু ময়মনসিংহ নগরবাসীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা সব সময় ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রতি আন্তরিক। তিনি ময়মনসিংহবাসীকে বিভাগ ও সিটি কর্পোরেশন উপহার দিয়েছেন। নবগঠিত এ সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়নের জন্য পর্যায়ক্রমে একাধিক প্রকল্প দিচ্ছেন। আমরা ময়মনসিংহবাসী তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ। মেয়র জানান, প্রকল্পটি অনুমোদনের মধ্য দিয়ে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন কাঙ্খিত স্বপ্নের পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেলো। উল্লেখিত প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সক্ষমতার ব্যাপক পরিবর্তন ঘটবে। পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক ময়মনসিংহ নগরী বিনির্মাণে এ প্রকল্প মাইলফলক হয়ে থাকবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মেয়র সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

জানা যায়, মেয়র মোঃ ইকরামুল হক টিটু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় উপস্থিত থেকে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়নের বিষয় তুলে ধরেন। তিনি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন উন্নয়নের আলোক দিশারী সফল রাষ্ট্রনায়ক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি। একই সাথে ধন্যবাদ জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী, পরিকল্পনা মন্ত্রী, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব এবং পরিকল্পনা কমিশনের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে। নাগরিক নেতা আব্দুল কাদের চৌধুরী মুন্না বুধবার দৈনিক জাগ্রত বাংলা’কে বলেন, ময়মনসিংহ নগরীর উন্নয়নে বহু প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে অধিকাংশ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পগুলো সমাপ্ত হবে। দৃশ্যমান প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ হলে ব্যাপক সুবিধা পাবেন নগরবাসীসহ বৃহত্তর ময়মনসিংহের মানুষ। তিনি জানান, সব কিছুই সম্ভব হয়েছে মেয়র মোঃ ইকরামুল হক টিটু’র দূরদৃষ্টির কারণে। সূত্র মতে, নগরীতে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প, ক্লিন ইমেজ, বিচক্ষণতা, গ্রহণযোগ্যতা, বলিষ্ঠ নেতৃত্ব এবং সাংগঠনিক দক্ষতার জন্য প্রধানমন্ত্রীর গুডবুকে রয়েছেন মেয়র টিটু। করোনা পরিস্থিতিতে নতুন করে যোগ হয়েছে জীবন বাজি রেখে নাগরিকদের জন্য কাজ করার বিষয়টি।

সূত্র জানায়, নগরীতে টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নসহ প্রয়োজনীয় আধুনিক যানবাহন ও যন্ত্রপাতি ক্রয়, পরিবেশবান্ধব বর্জ্য সংগ্রহ, অপসারণ ও প্রক্রিয়াকরণ, সিটি কর্পোরেশনের মেশিনারীজ ও যান্ত্রিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে বর্জ্য পরিবহনে দক্ষতা বৃদ্ধি, বর্জ্য ব্যবস্থা সহজিকরণ ও পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে এ প্রকল্প কাজ করবে। ২০২৪ সালের মধ্যে প্রকল্পটি সমাপ্ত হবে বলে মসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইউসুফ আলী বুধবার দৈনিক জাগ্রত বাংলা’কে নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, প্রকল্পের আওতায় চেন এক্সাভেটর, মোবাইল ওয়েস্ট কন্টেইনার, চেন ডোজার, ল্যান্ডফিল কম্প্যাক্টর, ব্যাকহো লোডার, গারবেজ কমপ্যাক্টর, ডাম্প ট্রাক, হুইজ লোডার, মোবাইল ট্রলি, হুইজ এক্সাভেটর ইত্যাদি ক্রয়সহ বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট, পাবলিক টয়লেট, কম্পোস্ট প্ল্যান্ট, পাম্প হাউজ, ডাস্টবিন, ফিকাল স্ল্যাজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, লিচেট পন্ড, স্যানিটারী ল্যান্ডফিল ইত্যাদি নির্মাণ করা হবে।

জানা যায়, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে নাগরিকদের জন্য কাজ করে ময়মনসিংহ বিভাগসহ দেশের মানুষের হৃদয়ে ঠাঁই করে নিয়েছেন মেয়র মোঃ ইকরামুল হক টিটু। দাগ কেটেছেন কোটি মানুষের হৃদয়ে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী অসহায় পরিবারের মধ্যে খাদ্যপণ্য বিতরণ এবং জনসচেতনতার জন্য অক্লান্ত শ্রম দিয়েছেন জননন্দিত এই মেয়র। মানুষ যখন প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস সংক্রমণের অজানা আশঙ্কায় ছিলেন তখনও সড়কে অবস্থান করেন মেয়র টিটু। পরিচ্ছন্ন রাখেন প্রধান সড়ক এবং ওয়ার্ডগুলোর সড়কসহ নগরীর অলিগলি। জীবন বিপন্ন হতে পারে জেনেও মানুষের জন্য কাজ করে যাওয়ার বিষয়টিকে মহানুভবতার সর্বোচ্চ স্বীকৃতি দিয়েছেন ময়মনসিংহবাসী। এটি মেয়র টিটু’র প্রতি মানুষের অকৃতিম ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। বিশ্লেষকদের মতে, মেয়র টিটু ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করে আন্দোলিত করেছেন নগরীর লাখ লাখ মানুষকে। তিনি বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন। আমূল পরিবর্তন করায় দেশব্যাপী অনুকরণীয় জনপ্রতিনিধিতে পরিণত হয়েছেন। বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার মেয়ররা এখন তার ব্যবস্থাপনাকে অনুসরণ করেন। সূত্র মতে, বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার নাগরিকসহ প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা, রাজনৈতিক নেতা ও গণমাধ্যম কর্মীরা অকপটে স্বীকার করেন মেয়র মোঃ ইকরামুল হক টিটু’র মহানুভবতা।

সূত্র জানায়, মেয়র মোঃ ইকরামুল হক টিটু একজন স্বাপ্নিক মানুষ। সেবার মানসিকতা ও নতুন নতুন কনসেপ্ট বাস্তবায়ন করে বদলে দিয়েছেন নগরীর দৃশ্যপট। সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার মেয়রদের মধ্যে যেক’জন আলোচিত তাদের একজন মেয়র টিটু। ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প, ক্লিন ইমেজ, বিচক্ষণতা এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে তিনি সকলের নজর কেড়েছেন। মেয়র টিটু সম্পর্কে গণমাধ্যম, উন্নয়ন ও সংস্কৃতি সংগঠক স্বাধীন চৌধুরী দৈনিক জাগ্রত বাংলা’কে বলেন, নিজের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে টিটু নগরবাসীর পাশে দাঁড়িয়েছেন। সকলের প্রিয় এই মানুষ নাগরিক সুরক্ষার জন্য জীবন বাজি রেখে কাজ করেন। এ যুগে তার মতো জনপ্রতিনিধি পাওয়া দৃষ্টান্ত। নিঃসন্দেহে তিনি মহানুভব। তিনি বলেন, মেয়র টিটু কোটি মানুষের হৃদয়ে ঠাঁই করে নিয়েছেন। শক্তিশালী টিমওয়ার্ক, নিজের কর্ম এবং সাহসিকতায় দেড়শ’ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত ময়মনসিংহ (২০১৮ সালে বিলুপ্ত হওয়া পৌরসভা) সিটি কর্পোরেশনকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে