টাচ নিউজ ডেস্কঃ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি ইউনিয়নের বিএম কন্টেইনার ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ৩৩ জন নিহত হয়েছেন। সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ৩৩ জনের লাশ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। মরদেহগুলো চেনার কোনো উপায় নেই। পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ টেস্ট করা লাগতে পারে।

রবিবার (৫ জুন) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের চকবাজার জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. শহীদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম।

মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, “সবগুলো লাশের ময়নাতদন্তের পাশাপাশি ডিএনএ নমুনা সংরক্ষণ করা হবে। পরিচয় নিশ্চিত না হয়ে লাশ হস্তান্তর করা হবে না। সিএমপি কমিশনার আমাদের এই নির্দেশনা দিয়েছেন।”

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আলাউদ্দিন তালুকদার বলেন, “রবিবার বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ৩৩ জনের লাশ এসেছে। লাশগুলো হাসপাতালের মর্গে রাখা আছে। সকাল ৯টার পর যে লাশগুলো আনা হয়েছে, সেগুলো চেনার উপায় নেই। পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ টেস্ট করা লাগতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “অধিকাংশরাই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন। তাদের তথ্য আমাদের কাছে নেই। আহতদের মধ্যে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে ৮৪ জন। সেই সঙ্গে সিএমএইচ, বেসরকারি হাসপাতাল পার্ক ভিউ, ন্যাশনাল হাসপাতাল ও মেট্রোপলিটনসহ বিভিন্ন হাসপাতালে অনেকে চিকিৎসাধীন আছেন। কয়েকজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।”

ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন জানান, আগুন নেভাতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচজন কর্মী নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ২১ জন। আহতরা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন। কয়েকজন কর্মীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

অগ্নিকাণ্ডে নিহত ফায়ার সার্ভিসের কর্মীর মধ্যে একজনের নাম মনিরুজ্জামান (৩২)। অন্যদের নাম জানা যায়নি। নিহতদের মধ্যে আরও চার জনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন— মোমিনুল হক, মহিউদ্দিন, হাবিবুর রহমান ও রবিউল আলম।

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক নিউটন দাশ বলেন, “ফায়ার সার্ভিসের সব ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। এখনও আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি। তবে তীব্রতা কিছুটা কমেছে। এরই মধ্যে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সেই সঙ্গে পানির সংকট দেখা দিয়েছে। এ জন্য আমরা নিরাপদে অবস্থান করছি। পানির ব্যবস্থা করে আবারও উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করা হবে।”

এদিকে, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসনের উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা মো. আলমগীর। তিনি জানান, কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে হতাহতদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম নগর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বিএম ডিপোতে শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে আগুন লাগে। আমদানি-রপ্তানি করা বিভিন্ন পণ্য এই ডিপোতে রাখা হয়। ডিপোতে আমদানি-রপ্তানি বিভিন্ন মালামালবাহী কনটেইনার ছিল। ডিপোর কনটেইনারে রাসায়নিক ছিল, বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। দ্রুত চারদিকে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় হতাহত হয়েছে বেশি।

ডিপোর পরিচালক মুজিবুর রহমান বলেন, “কি কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে কন্টেইনার থেকেই আগুন ধরেছে বলে ধারণা করছি।”

এদিকে বিস্ফোরণের ঘটনায় ছড়িয়ে পড়া কেমিক্যাল নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর ১৫০-২০০ সদস্যের একটি দল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে এসে কাজ শুরু করেছেন।

চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ইঞ্জিনিয়ারিং কোর ১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মনিরা সুলতানা সাংবাদিকদের বলেন, “আগুন এখনো নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। ডিপোটিতে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড রয়েছে। আমাদের কেমিক্যাল বিশেষজ্ঞরা ফায়ার সার্ভিস সঙ্গে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন।”

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে