টাচ নিউজ ডেস্ক: জাতীয় পার্টি’র কো-চেয়ারম্যান বিদিশা এরশাদ বলেছেন, চাচা (জি এম কাদের) এর কাছে নিজের ভাতিজা সাদ এরশাদ এমপি ও এরিক এরশাদ নিরাপত্তা বোধ করে না সেই ব্যাক্তি দেশ, জাতি ও দলীয় নেতা কর্মীদের নিরাপত্তা দিবেন কি করে ? একটি দলের লক্ষ্য থাকে ক্ষমতায় যাওয়ার কিন্তু (কাদের)’র কি রয়েছে সেই স্বকীয়তা ?

গতকাল সোমবার বিকেলে জাতীয় পার্টি’র গুলশানস্হ কার্যালয়ে রুপনগর ও পল্লবী থানা জাতীয় পার্টি নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় কালে তিনি আরও বলেন, জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে যার অবদান সবচেয়ে বেশী, সাবেক রাষ্ট্রপতি পল্লীবন্ধু এরশাদ মুক্তি আন্দোলনে কারাবরণ থেকে শুরু করে রাজপথের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে যিনি পল্লীবন্ধুকে মুক্তি করে এনেছেন। পরিবারের সদস্য সহ কারাবরণকারী ছেলে সাদ এরশাদ এবং সংসারের জন্যও এই নারী শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণে সময় দিতে পারেন নি। সেই নেত্রী, জাতীয় সংসদের মাননীয় বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ এমপি যখন অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন ঠিক সেই সময়ে কাদের সাহেব চর দখলের মতো পল্লীবন্ধুর বড় সন্তান সাদ এরশাদ এর নির্বাচনী আসন রংপুর-৩ (সদর) এ নিজেকে আগাম প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিলেন। লালমনিরহাটের সংসদ সদস্য থাকাবস্হায় ও দলীয় চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর এই ঘোষণা রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহলে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। তাঁর সেই ঘোষণায় তিনি কি সুযোগ নিতে চেয়েছেন তা জাতির সামনে দিনের আলোর মতোই পরিস্কার হয়ে গেছে।

বিদিশা এরশাদ আরও বলেন, উচ্চ বিলাসী রাজনৈতিক মনোভাব কখনোই দেশ ও দল পরিচালনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারেনা আর উপমহাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ভাই কখনো উত্তরাধিকার হতে পারে না এবং এধরনের কোনো উদাহরণও কোথাও নেই।

ঢাকা মহানগর উত্তর জাপা’র আহবায়ক মোঃ জহির উদ্দিন জহিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধানবক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব কাজী মোঃ মামুনুর রশীদ, অ্যাডভোকেট রুবায়েত হাসান, মেজর (অবঃ) সিকদার আনিসুর রহমান,
আকতার হোসেন,নাফিস আহমেদ, সাগীর আহমেদ হেলা কাজী শামসুল ইসলাম, আক্তার হোসেন, নাফিজ আহমেদ ও ইদ্রিস আলী ও এজাজ আহম্মেদ খান প্রমুখ।

প্রধান বক্তা হিসেবে মতবিনিময় সভায় দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব কাজী মোঃ মামুনুর রশিদ বলেন, পল্লীবন্ধু এরশাদ শুধু একটি নাম নয়! তিনি একটি উন্নয়ন। তাই তাঁর শাসনামলে যুগান্তকারী ইতিহাসে স্হান করে নেওয়া কর্মকান্ডের কথা ছড়িয়ে দিতে হবে সকল প্রজন্মের কাছে।
মহাকুমাকে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ তথা পল্লী পরিষদ তাঁরই একটি অমোঘ সৃষ্টি তা তুলে ধরতে হবে। পথকলি ট্রাষ্ট, গুচ্ছ গ্রাম এবং একটি রাষ্ট্রকে বিকেন্দ্রীকরণের মধ্য দিয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ যেমন এদেশের জাতীয় সংসদ কতৃক সফল রাষ্ট্রপতির মর্যাদা অর্জন করেছেন। তাঁর সেই মর্যাদা ও সম্মান কোন অপকৌশল ও ষড়যন্ত্রের জন্য ম্লান হয়ে যেতে পারে না। তাঁর রেখে যাওয়া স্ত্রী ও যোগ্য সন্তানরাই নতুন করে আপনাদের সাথে নিয়ে পিতার অসমাপ্ত স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলবে ইনশাআল্লাহ।

প্রধান অতিথি ও প্রধান বক্তা উভয়ই অসুস্থ পল্লীমাতা বেগম রওশন এরশাদ এমপির সুস্থতা কামনায় সকলের নিকট দোয়া চেয়ে বলেন, জাতীয় পার্টির সুদিন উদ্ধারে আপনারা তাঁর জন্য দোয়া করুন। তিনি যেন আমাদের মাঝে পল্লীবন্ধু এরশাদের হয়ে ও জাতীয় পার্টির আলোক বর্তিকা হিসেবে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে পারেন। তাঁর সিদ্বান্ত ও পরামর্শই হবে আমাদের নব ধারার পূর্ণ গঠনের জাতীয় পার্টির মূলশক্তি।

মতবিনিময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মিরপুর থানা জাতীয় পার্টির সিনিয়র সহ সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম, রূপনগর থানা জাপার সহ সভাপতি মো. রিয়াজ খান, রূপনগর থানা জাপার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এসএম মাসুম সুমন, রূপনগর থানা জাপার সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফ আহমেদ রাজু, মিরপুর থানা জাপা নেতা কবিরুল ইসলাম, জাপা নেতা মো. সাজ্জাতুর রহমান, বীরমুক্তিযোদ্ধা মুক্তার হোসেন, রূপনগর জাপা নেতা খান মো. মুশফিকুর রহমান, ছাত্র নেতা এবিএম মিয়াদ হোসেন ও মো. স্বপন সরদার।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে