রিফাত বিন মিজান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কৃতি সন্তান, বাংলাদেশ সহ ভারতীয় উপমহাদেশের অমর সুর সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ’র ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

সোমবার(৬ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে পালিত হচ্ছে দিনটি। অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে আলাউদ্দিন খাঁ’র ম্যুরালে পুস্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এরপর সঙ্গীতাঙ্গনের সরোদ মঞ্চে আলোচনা সভা হয় অনুুষ্ঠিত হয়।

সঙ্গীতাঙ্গন পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি আল মামুন সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. রুহুল আমিন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হোসেন রেজা, বিশিষ্ট মুক্তিযুদ্ধা আখতার হোসেন সাঈদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাবেদ রহিম বিজন, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক ওসমান গণি সজিব ও সুর সম্রাট আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান সরকার প্রমুখ।

সুর সম্রাট দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গনের সাধারণ সম্পাদক মনজুরুল আলমের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন বিশিষ্ট সমাজসেবী নজরুল ইসলাম।

আলাউদ্দিন খাঁ (৮ অক্টোবর ১৮৬২ – ৬ সেপ্টেম্বর ১৯৭২) একজন বাঙালি সঙ্গীতজ্ঞ। বাবা আলাউদ্দিন খান নামেও তিনি পরিচিত ছিলেন। সেতার ও সানাই এবং রাগ সঙ্গীতে বিখ্যাত ঘরানার গুরু হিসাবে সারা বিশ্বে তিনি প্রখ্যাত। মূলত সরোদই তাঁর শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের বাহন হলেও সাক্সোফোন, বেহালা, ট্রাম্পেট সহ আরো অনেক বাদ্যযন্ত্রে তাঁর যোগ্যতা ছিল অপরিসীম। আলাউদ্দিন খাঁর জন্ম ত্রিপুরা প্রদেশের শিবপুর গ্রামে, বর্তমান বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। তাঁর সন্তান ওস্তাদ আলী আকবর খান ও অন্নপূর্ণা দেবী নিজস্ব ক্ষেত্রে উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। আচার্যের বিখ্যাত শিষ্যরা হলেন পণ্ডিত রবি শঙ্কর, পণ্ডিত নিখিল ব্যানার্জী, বসন্ত রায়, পান্নালাল ঘোষ সহ আরো অনেকে।

তাঁর অপর দু’ভাই হলেন ওস্তাদ আফতাব উদ্দীন খান (তবলা ও বংশীবাদক) এবং ওস্তাদ আয়াত আলী খান (সুরবাহার বাদক)। পাঁচ ভাই, দুই বোনের মধ্যে আলাউদ্দিন খাঁ ছিলেন তৃতীয়।
তিনি সরোদবাদনে ‘দারা দারা’ সরক্ষেপণ পদ্ধতি প্রবর্তন করেন যা ‘মাইহার ঘরানা’ নামে পরিচিত।

১৯১৮ সালে তিনি ভারতের মাইহারে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। ব্রিটিশ সরকার তাকে ‘খাঁ সাহেব’ উপাধিতে ভূষিত করেন।

১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ভারতের ‘সংগীত আকাদেমি পুরস্কার’ পান এবং ১৯৫৪ সালে আকাদেমির ফেলো নির্বাচিত হন। ১৯৫৮ সালে ‘পদ্মভূষণ’১৯৬১ সালে তিনি বিশ্বভারতী কর্তৃক ‘দেশিকোত্তম’ উপাধিতে ভূষিত হন।ভারতের দিল্লি ও বাংলাদেশের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে আজীবন সদস্যপদ প্রদান করে। ১৯৭২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ভারতের মাইহারের ‘মদিনা ভবনে’ তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে