টাচ নিউজ ডেস্ক

সড়ক সংস্কারের দাবিতে লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দরে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম শনিবার থেকে বন্ধ রয়েছে। রোববার সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করে বুড়িমারী স্থলবন্দর কাস্টস সহকারী কমিশনার আব্দুস সালাম বলেন, ব্যবসায়ীদের একটি অংশ সড়ক সংস্কারের দাবিতে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে।

স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় বুড়িমারী স্থলবন্দর থেকে পাটগ্রামগামী প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বন্দর হয়ে উভয় দেশের ট্রাক প্রায় সময় বিকল হয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন যানবাহন মালিক তথা ব্যবসায়ীরা। তাই সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছিলেন ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ।

অবশেষে সরকার সড়ক ও জনপদ বিভাগের আওতায় প্রায় ৩০ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেয়। ১৮ ফুট প্রস্থের মহাসড়কটির দু’পাশে ৫ ফুট করে মোট ১০ ফুট সস্প্রসারণ করা হবে। ফলে ২৮ ফুট প্রস্থ করা হবে রাস্তাটির ১০ কিলোমিটার। যার প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় ধরা হয় ৩ কোটি টাকা। দরপত্রের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ হলেও কাজ শুরুতে বিলম্ব করায় ফুঁসে ওঠেন ব্যবসায়ীরা।

দ্রুত কাজ শুরুর দাবিতে গত সপ্তাহে উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা আলোচনা করে শনিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত আমদানি রফতানি কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেন। সেই ঘোষণা অনুযায়ী শনিবার থেকে বন্দরের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

এদিকে ব্যবসায়ীদের আন্দোলন ঘোষণার পর পরেই তড়িঘড়ি করে সড়ক সংস্কার কাজ শুরু করতে নেমে পড়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। যদিও সড়কে কাজ শুরু হয়নি। কিন্তু মালামাল সরবরাহ শুরু করা হয়। এরপরেও পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী শনিবার থেকে বন্দরে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ রাখে উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা।

বন্দরের ব্যবসায়ীদের একটি অংশ দাবি করেছে বন্দরের একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারছে না। ফলে ওই সিন্ডিকেট যা খুশি তাই করছে। বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ এরই অংশ। দৌরাত্ম্য থামাতে ওই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সরকারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত বলেও দাবি করেন তারা।

বুড়িমারী স্থলবন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ী তারেক ইসলাম বলেন, সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু হলেও অহেতুক রাজনৈতিক স্ট্যান্ড নিতেই ব্যবসায়ীদের হুমকি দিয়ে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। চাঁদাবাজ এ সিন্ডিকেটটির বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ নেয়া উচিত।

বুড়িমারী স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য হাসানুজ্জামান হাসান বলেন, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের কমিটি না থাকায় ব্যবসায়ীরা অজানা আতঙ্কে থাকেন। তাই ঝামেলা এড়াতেই ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ রাখেন ব্যবসায়ীরা।

বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য সচিব এএসএম নেওয়াজ নিশাত বলেন, সড়ক সংস্কারের দাবিতে উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী শনিবার থেকে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ঠিকাদার কাজ শুরু করলেও তাদের মাঠ-স্থাপনা করা হয়নি। সংস্কার ও মেরামত কাজ দ্রুত করার জন্যই আমরা এ সিদ্ধান্তে অনড়। তবে যেহেতু কাজ শুরু হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে আমরাও ভাবছি।

বুড়িমারী অভিবাসন পুলিশের (ইমিগ্রেশন) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপ পরিদর্শক (এসআই) খন্দকার মাহমুদ বলেন, আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও চালু আছে পাসপোর্ট যাত্রী চলাচল কার্যক্রম।

কুড়িগ্রাম সড়ক ও জনপদের নির্বাহী প্রকৌশলী ও লালমনিরহাটের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা আলী নূরায়েন বলেন, দরপত্র আহ্বান ও ঠিকাদার নিয়োগ শেষে বুড়িমারী স্থলবন্দর মহাসড়কের ১০ কিলোমিটার সংস্কার ও সস্প্রসারণ কাজ শুরু হয়ে গেছে। তবে বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রাখার বিষয়টি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বিষয় বলে দাবি করেন তিনি।

বুড়িমারী স্থলবন্দর কাস্টমসের সহকারী কমিশনার (এসি) আব্দুস সালাম বলেন, কাস্টমস কার্যালয় খোলা রয়েছে। ব্যবসায়ীরা আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রেখেছে বলে শুনেছি। ব্যবসায়ীদের পণ্য আমদানি-রফতানি কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে কতদিন আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে সে বিষয়ে নিশ্চিত করে তিনি কিছু বলতে পারেননি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে