টাচ নিউজ ডেস্ক: রাজধানীর শ্যামবাজারের কাছে বুড়িগঙ্গা নদীতে লঞ্চের ধাক্কায় অপর একটি লঞ্চ ডুবে যাওয়ার ঘটনায় ৩২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তারা সবাই মুন্সীগঞ্জের। এ দুর্ঘটনায় গ্রামে গ্রামে চলছে শোকের মাতম। চারদিকে হৃদয় বিদারক দৃশ্য। বুকফাটা আর্তনাদের শব্দে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।

এমএল মর্নিং বার্ড নামে ওই লঞ্চটি মুন্সিগঞ্জের কাঠপট্টি থেকে যাত্রী নিয়ে সদরঘাটের দিকে আসছিল। সোমবার (২৯ জুন) সকাল সোয়া ৯টার দিকে শ্যামবাজারের কাছে নদীতে ময়ূর-২ লঞ্চের ধাক্কায় সেটি ডুবে যায়। সাঁতরে কয়েকজন তীরে উঠতে পারলেও বেশিরভাগ মানুষ ডুবে যায়। শুরু হয় উদ্ধারকাজ।

যারা মারা গেছেন: শাহাদাত হোসেন (৪৪), আবু তাহের বেপারী (৫৮), সুমন তালুকদার (৩৫), ময়না বেগম (৩৫), তার মেয়ে মুক্তা আক্তার (১৩), আফজাল শেখ (৪৮), মনিরুজ্জামান মনির (৪২), গোলাপ হোসেন (৫০), সুবর্ণা বেগম (৩৮), তার ছেলে তামিম (১০), আবু সাঈদ (৩৯), সুফিয়া বেগম (৫০), শহিদুল ইসলাম (৬১), মিজানুর রহমান কনক (৩২), সত্য রঞ্জন বনিক (৬৫), শামীম বৈপারী (৪৪), বিউটি আক্তার (৩৮), আয়শা বেগম (৩৫), মো. মিল্লাত (৩৫), মো. আমির হোসেন (৫৫), সুমনা আক্তার (৩২), পাপ্পু (৩২), মো. মহিম (১৭), দিদার হোসেন (৪৫), হাফেজা খাতুন (৩৮), হাসিনা রহমান (৩৫), সিফাত (৮), আলম বেপারী, তার ভাগ্নে তালহা (২), ইসমাইল শরীফ (৩৫), সাইফুল ইসলাম (৪২) ও বাসুদেব নাথ (৪৫)।

রাতে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসনের তালিকা অনুযায়ী ৩০ জন মুন্সীগঞ্জের এবং ১ জন ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার। ৩০ জনের মধ্যে মুন্সীগঞ্জের সদর উপজেলার ১৯ জন, টঙ্গীবাড়ি উপজেলার ৯ জন, সিরাজদিখান উপজেলা এবং শ্রীনগর উপজেলার ৩ জন।

মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার জানান, এমভি মর্নিং বার্ড নামে ওই লঞ্চটি মন্সীগঞ্জের মিরকাদিমের কাঠপট্টি থেকে শতাধিক যাত্রী নিয়ে সদরঘাটের দিকে যাচ্ছিল। সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শ্যামবাজারের কাছে বুড়িগঙ্গা নদীতে চাঁদপুর  থেকে আসা ময়ূর-২ লঞ্চের ধাক্কায় ডুবে যায় মর্নিং বার্ড। জেলা প্রশাসনে নিহতদের তালিকা করা হয়েছে।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মোহাম্মদ শাহজামান জানান, ৩২ জনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের সবার বাড়ি মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায়।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে