টাচ নিউজ ডেস্কঃ রাজধানীতে বিশ্ব পানি দিবস উপলক্ষে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও ‘ভূগর্ভস্থ পানির অদৃশ্য সমস্যা ও সম্ভাবনাকে দৃশ্যমান করা’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২১ মার্চ) ঢাকার সিদ্বেশ্বরীর স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে রিভার এন্ড সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট বাংলাদেশ (আরএসডিবি) এ অনুষ্ঠিনের আয়োজন করে।

আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব ও নেচার কনজার্ভেশন ম্যানেজমেন্টের নির্বাহী পরিচালক এস এম মঞ্জুরুল হান্নান খান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রিভার এন্ড সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট বাংলাদেশ’র সিনিয়র সহ-সভাপতি মোশাররফ হোসেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)’র প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. আহম্মদ কামরুজ্জামান, পরিবেশ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ মোঃ মনির হোসেন চৌধুরী, স্টাফফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড.মাহমুদা পারভিন, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ ১ম শ্রেণি খাদ্য কর্মকর্তা সমিতির নিরাপদ খাদ্য, পানি ও পুষ্টি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মু. মোহসীন আলী, আরপিএম ডিভিশন ড্রপ এর প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর আমির খসরু, স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক গুলশান আরা লতিফা ও ন্যাপ মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভূইয়া।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই আগত অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্যে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন রিভার এন্ড সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট বাংলাদেশ’র সাধারণ সম্পাদক রিভার ইসমাইল গাজী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এস এম মঞ্জুরুল হান্নান খান বলেন, উন্নয়নের দোহাই দিয়ে পরিবেশ ও পানিকে আমরা নষ্ট হতে দিতে পারিনা। প্রকৃতিকে আমরা যতো বেশি আঘাত করবো ততোই আমরা বিভিন্ন ভাইরাস বা মহামারিতে আক্রান্ত হবো। আজকে আমাদের এই ছোট্ট সোনামনিদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনের জন্য অবশ্যই পানি ও পরিবেশকে নিরাপদ রাখতে হবে।

বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বিভিন্ন উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা নিজেরাই নিজেদের মারাত্মক ক্ষতি করছি। যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা ফেলছি। কোনো রকম সচেনতার বালাই নেই। যে যার ইচ্ছেমতো পরিবেশকে বিনষ্ট করছি।

তিনি আরো বলেন, সরকারি ও বেসরকারিভাবে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বর্জ্যগুলো আমরা যথাযথ নিয়মে সরিয়ে নিচ্ছি না। এতে করে আমাদের পানি দূষণ ও পরিবেশ দূষণ বেড়েই চলেছে। আগামীর প্রজন্মকে সুন্দর বাংলাদেশ উপহার দেয়ার জন্য এখনই সচেতন হতে হবে এবং সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায়ই এটা সম্ভব হবে ।

এসময় বিশেষ অতিথি বক্তারা বলেন, সুস্থ ও সুন্দর জীবনের জন্য নিরাপদ পানি অপরিহার্য।বাংলাদেশে নিরাপদ পানি সংকট সবচেয়ে বড় সংকট। এর সমাধান খুব সহসাই সম্ভব নয়। তবে সবাই আন্তরিক হলে খুব বেশি সময় লাগার কথা নয়। জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদেরই এ বিষয়ে বেশি আন্তরিকতা দরকার। তবে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাই হতে পারে এর সমাধানের একমাত্র উপায়।

দুপুর ৩টায় শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে বিকাল ৪টায় শেষ হয়। এসময় শিশুরা তাদের বিভিন্ন চিত্রকর্মের মাধ্যমে পানি দূষণ ও এর প্রতিকারের উপায় তুলে ধরেছে। এরপরই জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় নাগরিক সংলাপ।

মোঃ মঞ্জুর হোসেন ইশার সঞ্চালনায় অতিথিদের ক্রেস্ট প্রদান ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিশুদের পুরষ্কার বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে