জি. মুনীর:
গত শুক্রবার, ২ আগস্ট দিনটিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরো একটি দুঃসংবাদের জন্ম দিলো ওয়াশিংটন। আরো খুলে বললে বলতে হয়, এই দুঃসংবাদের জন্ম দিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্বয়ং। দিনটিতে ওয়াশিংটন নিজেকে প্রত্যাহার করে নিলো ‘ইন্টারমেডিয়েট-রেঞ্জ নিউক্লিয়ার ফোর্সেস ট্রিটি’ থেকে। সংক্ষেপে এ চুক্তিটি আইএনএফ চুক্তি নামে সমধিক পরিচিত। চুক্তিটি ৩০ বছর আগে স্বাক্ষরিত হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতা মিখাইল গরবাচেভের মধ্যে। এই চুক্তির মাধ্যমে এমন সব অস্ত্র উৎপাদন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, যা গোটা বিশ্বকে পারমাণবিক যুদ্ধের প্রায় দুয়ারে নিয়ে দাঁড় করিয়েছিল। এই চুক্তির মাধ্যমে দেশ দু’টি সম্মত হয়েছিল- তারা ভূমি থেকে নিক্ষেপণযোগ্য ৫০০ থেকে ৫৫০০ কিলোমিটার (৩১০ থেকে ৩৪১৭ মাইল) পাল্লার কোনো ব্যালাস্টিক ও ক্রুজ মিসাইল তৈরি ও ব্যবহার করবে না এবং বিদ্যমান মিসাইলগুলো ধ্বংসও করে ফেলবে।

এ দিকে সিএনএন এক সংবাদে জানিয়েছে, পেন্টাগন কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পরীক্ষা করবে এর একটি নতুন ক্রুজ মিসাইল। এর রেঞ্জ বা পাল্লা যা, তা এই চুক্তি অনুযায়ী নিষিদ্ধ। প্রকাশিত খবরমতে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এ অস্ত্রটি নিয়ে কাজ করে আসছিল দুই বছর ধরে।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা টেলিভিশন নিউজ নেটওয়ার্ককে বলেছেন, ওয়াশিংটন অস্ত্রটি মোতায়েন করতে চায় ইউরোপে, যাতে সেখানে তারা রুশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যেতে পারেন। তা ছাড়া তারা এর মাধ্যমে চাচ্ছেন রাশিয়ার বন্দর, সামরিক ঘাঁটি এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোতে আঘাত হানার সক্ষমতা অর্জন করতে।
স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার সার্ফেস-টু-সার্ফেস মিসাইলের মধ্যে রয়েছে : চবৎংযরহম ওও এবং গএগ খধহপব। যুক্তরাষ্ট্র ১৯৮০-এর দশকের প্রথম দিকে এগুলো মোতায়েন করেছিল পশ্চিম ইউরোপে। অপর দিকে তদানীন্তন সোভিয়েত ইউনিয়ন পশ্চিম সোভিয়েত ইউনিয়নে মোতায়েন করেছিল ঝঝ-২০ মোবাইল লাঞ্চার। এসব অস্ত্রের সক্ষমতা ছিল কয়েক মিনিটের মধ্যে পশ্চিম ইউরোপের বেশির ভাগ নগরী এবং সোভিয়েত ইউনিয়নে আঘাত হানার। এর ফলে পারমাণবিক যুদ্ধের আশঙ্কা আরো বেড়ে গিয়েছিল বিশেষ করে যখন যুক্তরাষ্ট্র ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছিল পশ্চিম জার্মানিতে।

আলোচ্য চুক্তিটি বাতিলের প্রবণতা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বেড়ে গেল তখন, যখন দেশটি রাশিয়া ও চীনের সাথে লিপ্ত হলো ‘গ্রেট পাওয়ার কনফ্লিক্টে’, অর্থাৎ বড় ধরনের ক্ষমতার দ্বন্দ্বে। এর ফলে, যুক্তরাষ্ট্র চাইল নিজের সামরিক শক্তি বাড়িয়ে রাশিয়াকে দমিয়ে রাখতে এবং একই সাথে ঠেকিয়ে দিতে চীনের অর্থনৈতিক উত্থানকে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র মনে করে রাশিয়া ও চীন হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের স্বেচ্ছাচারী কর্তৃত্ব ও প্রভুত্বের পথে বড় চ্যালেঞ্জ।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন, এই চুক্তি থেকে নিজেদের দেশকে প্রত্যাহার করে নেয়ার বিষয়ে। তবে তিনি এই চুক্তি ভেঙে যাওয়ার জন্য অভিযুক্ত করেছেন রুশ পক্ষকে। তিনি অভিযোগ তুলেছেন এমনভাবে, যেন যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তি মেনে আসছিল; কিন্তু রাশিয়া ‘নন-কম্লপায়েন্ট মিসাইল সিস্টেম’ ধ্বংস করেনি। তবে মস্কো বারবার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। মস্কো বলেছে, ভূমি থেকে নিক্ষেপযোগ্য এসএস-৮ মিসাইলকে যুক্তরাষ্ট্র ‘চুক্তিবিরোধী’ বললেও আসলে তা নয়। রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রকে ও অন্যান্য পরাশক্তিকে এবং একই সাথে বিদেশী সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে, তাদের এই অস্ত্রব্যবস্থা পরীক্ষা করে দেখার জন্য। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনের সমঝোতা ও অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে। এর পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার বিরুদ্ধে এমন সব আলটিমেটাম দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ভালো করেই জানে যে, রাশিয়া তা গ্রহণ করবে না। অপর দিকে রাশিয়া মনে করে, যুক্তরাষ্ট্রই মেনে চলেনি আইএনএফ চুক্তি। এই চুক্তি ভঙ্গ করে যুক্তরাষ্ট্র ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে পোল্যান্ড ও রোমানিয়ায়। সেখানে এমন সব লাঞ্চার মোতায়েন করা হয়, যেগুলো ইউএস যুদ্ধজাহাজের মাঝারি পাল্লার টমাহক ক্রুজ মিসাইলের সমকক্ষ। রাশিয়া আরো অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র এই মহাদেশে যে সশস্ত্র ড্রোন মোতায়েন করেছে, তা-ও এই চুক্তির লঙ্ঘন।
যুক্তরাষ্ট্র এ চুক্তি এবং মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হওয়ার কারণ হচ্ছে, দেশটি চায় রাশিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক অবরোধ বাড়িয়ে তুলতে। কিন্তু তার চেয়েও মৌলিকভাবে চায় চীনের সাথে ‘গ্রেট পাওয়ার কনফ্লিক্টের’ প্রস্তুতি নিতে। যুক্তরাষ্ট্রের চীনকে এই বৃত্তাবদ্ধ করা এবং ওবামা প্রশাসনের সময়ে শুরু হওয়া এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলে ব্যাপক নৌ ও বিমানবাহিনী মোতায়েনের প্রয়াসের বিপরীতে বেজিং গড়ে তোলে মাঝারি পাল্লার মিসাইলব্যবস্থা। উল্লেখ্য, চীন আইএনএফ চুক্তিতে স্বাক্ষরদাতা কোনো দেশ নয়।

পেন্টাগন জবাব দিতে চায় এ অঞ্চলে তার আগ্রাসী মিসাইল সিস্টেম মোতায়েন করে। আর এগুলোর টার্গেট হবে চীনের বড় বড় নগরী। এ ধরনের মিসাইল সিস্টেম মোতায়েনের পথে বাধা হয়ে থাকা আইএনএফ চুক্তির অবসান ঘটানো কোনো দুর্ঘটনা নয়। কারণ, এ ধরনের মোতায়েন যুগপৎ মিলে গেছে চীনের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যযুদ্ধের বিষয়টির সাথে। যখন গত ফেব্রুয়ারি মাসে ট্রাম্প প্রশাসন এই চুক্তি থেকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে, তখন মস্কো ও চীন উভয়ই এর নিন্দা জানায়। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়াও চুনয়িং বলেন, ‘চীন এ ধরনের কাজের বিরোধিতা করে। আমরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানাব, এই চুক্তির দায় মেনে চলতে।’ তিনি ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র চায় : ংঁঢ়বৎরড়ৎরঃু রহ ংঃৎধঃবমরপ বিধঢ়ড়হৎু। তার বক্তব্য হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত অস্ত্রের ক্ষেত্রে প্রাধান্য অর্জন করতে চায়। তিনি আরো বলেন, এর ফলে অনেক এলাকার নিরাপত্তাই হুমকির মুখে পড়বে।

এ দিকে, বেশির ভাগ পশ্চিম ইউরোপীয় দেশের সরকার ও ন্যাটো ওয়াশিংটনের সাথে সুর মিলিয়ে বলছে, এই চুক্তি ধ্বংস করার জন্য রাশিয়া দায়ী। তা সত্ত্বেও কিছু উদ্বেগও প্রকাশ করা হচ্ছে। জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাস বলেন, আইএনএফ চুক্তি ভেঙে যাওয়ার ফলে
ইউরোপ নিরাপত্তা হারিয়েছে। তিনি আরো বলেন, আজকের দিনে আমাদেরকে আবারো নতুন করে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা রুখতে অবশ্যই অস্ত্রনিরোধ ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের বিধিনিষেধগুলো মেনে চলতে সম্মত হতে হবে।’

বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডিদিয়ার রেন্ডার্স টুইটারে লিখেছেন : ‘দুঃখ প্রকাশ করছি আইএনএফ চুক্তি শেষ হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে। এই চুক্তি আমাদের নিরাপত্তা দিয়েছে ৩০ বছর ধরে।’ বেলজিয়াম আবারো দৃঢ়তার সাথে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও নিরোধের পক্ষে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে। বেলজিয়াম যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, একটি গঠনমূলক সংলাপের আয়োজন করতে এবং স্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পদক্ষেপে সম্মত হতে। নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, ইতালি ও তুরস্কসহ বেলজিয়াম এমন দেশ; যেখানে যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করে থাকে। পশ্চিম ইউরোপে ওয়াশিংটনের কোনো মিত্র দেশ এখন পর্যন্ত এমন কোনো আভাস-ইঙ্গিত দেয়নি যে, তারা তাদের ভূখণ্ডে মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করতে দিতে প্রস্তুত রয়েছে। মস্কো এটুকু স্পষ্ট করেছে যে, এ ধরনের কোনো ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা হলে, তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলোকে টার্গেটে পরিণত করা হবে। আইএনএফ চুক্তি ভেঙে দেয়ায় ইউরোপের নিরাপত্তাকে উপেক্ষা করার অভিযোগ তোলার পেছনে রয়েছে, ইউরোপের বড় বড় শক্তিগুলোও চায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদাভাবে আবারো নিজেদের সামরিকায়ন করতে। বিশেষত, এমন ইচ্ছা পোষণ করেছে জার্মানি।

এখন ব্যাপকভাবে ধরে নেয়া হচ্ছে, আইএনএফ চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পরপর এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ নয়া ঝঞঅজঞ (ঝঃৎধঃবমরপ অৎসং জবফঁপঃরড়হ ঞৎবধঃু) নামের চুক্তিরও অবসান ঘটবে। তা ২০২১ সালে নবায়ন করা না হলে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যাবে। এই চুক্তির মাধ্যমে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু পারমাণবিক ওয়ারহেড মোতায়েনের সর্বোচ্চ সীমা ১৫৫০টিতে বেঁধে দেয়া হয় এবং একই ধরনের সীমা বেঁধে দেয়া হয় অন্য দু’টি দেশের বেশ কয়েকটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালাস্টিক মিসাইলের সংখ্যার ওপর। ট্রাম্প চুক্তিটিকে বর্ণনা করেছেন ওবামা প্রশাসনের করা ‘বেশ কয়েকটি খারাপ চুক্তির মধ্যকার একটি’ হিসেবে। অপর দিকে তার নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন গণমাধ্যমে বলছেন, এই চুক্তি নবায়ন করার সম্ভাবনা নেই। এর অর্থ দাঁড়াবে, পারমাণবিক যুদ্ধ থামানোর মতো আর কোনো চুক্তির অবশেষও থাকবে না। পেন্টাগন খোলাখুলি পারমাণবিক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। নিউক্লিয়ার অপারেশন সম্পর্কিত একটি ‘জয়েন্ট ডকট্রিন’ ইন্টারনেটে পোস্ট করা হয়েছে গত মধ্যজুনে। এতে বলা হয়েছে : ‘পারমাণবিক অস্ত্র সিদ্ধান্তসূচক ফলাফল এবং কৌশলগত স্থিতিশীলতার একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার মৌলিকভাবে পরিবর্তন আনবে, একটি যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে; যেটি চাইবেন বিজয়ী কমান্ডারেরা।’ পেন্টাগন কাজ করছে এমন একটি অস্ত্র তৈরি করতে, যা হবে ‘ব্যবহারের উপযোগী’। এটি হবে ‘লো-ইয়েল্ড ট্যাকটিক্যাল’ পারমাণবিক অস্ত্র। আর যুদ্ধকে ‘গ্রেট পাওয়ার’ যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে মোড় ঘুরানোর কাজে ব্যবহার করা হবে। তবে পরিস্থিতি আসলে তেমন নয়। পুরোমাত্রায় পারমাণবিক যুদ্ধ ছাড়া এটি শেষ হবে না।

ট্রাম্প প্রশাসনের আইএনএফ চুক্তি থেকে সরে আসা এবং পারমাণবিক যুদ্ধমুখী উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপগুলোর ক্ষেত্রে বড় ধরনের বিপদ হচ্ছে, স্বদেশে তার রাজনৈতিক বিরোধী ডেমোক্র্যাটিক পার্টি থেকে কোনো সাড়া না দেয়া। হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভ ও সিনেটে বিপুল ভোটে রেকর্ড পরিমাণ ৭৩৮ বিলিয়ন ডলারের সামরিক বাজেট পাস করে এলে ডেমোক্র্যাটরা পরিপূর্ণ প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেছেন নিউক্লিয়ার কনফিগারেশনের প্রতি। ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের হোয়াইট হাউজের সাথে বাজেট সমঝোতাকারী, হাউজ স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি কিংবা সিনেট মাইনরিটি লিডার চাক শুমার- এ দুইজনের কেউই আইএনএফ চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে আসার ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেননি।
ডেমোক্র্যাটিক প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে ‘ফ্রন্ট রানার’ জন বাইডেন টুইট করে বলেছেন, ‘দ্য ইউএস মাস্ট লিড দ্য ফ্রি ওয়ার্ল্ড।’ সেই সাথে তিনি চীনের সমালোচনাও করেছেন। এলিজাবেথ ওয়ারেন নীরব থেকেছেন এই চুক্তি বাতিলের ব্যাপারে। তবে তিনি টুইট করেছেন : ‘দ্য ইউএস হ্যাজ টু গেট টাফ অন চায়না।’ আলোচিত বার্নি স্যান্ডার্স এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

সব কিছু মিলে এটা স্পষ্ট, আমেরিকা যখন একটি গ্লোবাল নিউক্লিয়ার কনফিগারেশনের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে, আইএনএফ চুক্তিকে অসার করে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সে প্রস্তুতিই নিচ্ছে। আর গোটা বিশ্বের মানুষও নিকট ভবিষ্যতের সম্ভাব্য এক পারমাণবিক যুদ্ধের হুমকির মুখে। এর এক মাত্র জবাব রয়েছে আমেরিকান জনগণের পক্ষ থেকে পারমাণবিক যুদ্ধবিরোধী নতুন কোনো ব্যাপক গণ-আন্দোলন গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সম্প্রসারণবিরোধী অবস্থান থেকে সরিয়ে আনা। ট্রাম্প প্রশাসনের মাথা থেকে পারমাণবিক সুপ্রিমেসি অর্জনের হুজুগ থেকে সরিয়ে আনা জরুরি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে