বাংলাদেশী টিচার্স এসোসিয়েশন ইউকের (বিটিএ) দীর্ঘদিনের সদস্য ও এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোশতাক হোসেইন চৌধুরীর বিদায় উপলক্ষ্যে সংবর্ধনা ও ইফতার মাহফিল অনিুষ্ঠিত।

মোশতাক হোসেইন চৌধুরী চলতি মাস স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য আমেরিকায় পাড়ি জমিয়েছেন।  এ উপলক্ষ্যে গত ২৬ শে এপ্রিল মঙ্গলবার বিটিএর দীর্ঘদিনের সহকর্মীগন, সংগঠনের পক্ষে তাঁর সম্মানে এ সংবর্ধনা ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেন।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আবু হোসেন। সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল বাসিত চৌধুরী সমাবেশ নির্বাহের কাজটি করেন।

শুরুতেই মোশতাক চৌধুরীকে ফুলের তোড়া দিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হয়।

এতে উপস্থিত সহকর্মীগন বিলেতে অবস্থানকালে স্কুলে, কমিউনিটিতে, খেলাধুলাসহ উৎকর্ষসাধনমূলক নানা কর্মকাণ্ড ও শিক্ষার অন্যান্য ক্ষেত্রে তাঁর আকর্ষণ, আগ্রহ, উৎসাহ, ভূমিকা, নেতৃত্ব দান, বন্ধুবাৎসল্য, সাফল্য ইত্যাদির নানা দিকে আলোকপাত করেন। তাঁর সান্নিধ্য ও সাহচর্য ছিল উদ্দীপনামূলক, প্রেরণদায়ক, সুখকর ও শিক্ষণীয়, এমনটি প্রতিফলিত হয়েছে সবার কথনে ও বর্ণনায়।

মোশতাক হোসেইন চৌধুরী লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস্ বাবার স্টেপনীতে অবস্থিত ম্যারিয়ন রিচার্ডসন প্রাইমারী স্কুলে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকে বহুদিন ধরে সাফল্যের সঙ্গে শিক্ষকতা করে আসছিলেন। এর আগে তিনি একই বারার অনুরূপ আরও দুটি স্কুলে কাজ করেছেন এবং সেই সঙ্গে একাধিক কমিউনিটি স্কুলে বাংলা পড়িয়েছেন।

অতিসম্প্রতি মিস্টার চৌধুরী শিক্ষকতা থেকে আগাম অবসর নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বোনদের সংস্পর্শে থেকে আরও উপভোগ্য জীবন যাপনের উদ্দেশ্যে আপাতত: বিলেত ছেড়েছেন। একজন বন্ধুবৎসল, বুদ্ধিদীপ্ত, একনিষ্ঠ, নির্মোহ, নি:স্বার্থপর এবং উত্তম ও বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন সদস্য হিসেবে প্রথম দিন হতেই প্রায় তিন যুগ ধরে বিটিএর প্রায় সবধরণের কর্মকাণ্ড ও কার্যক্রমে তিনি অংশ নিয়েছেন এবং বেশীরভাগ ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে এসেছেন।

স্বাধীনচেতা মোশতাক চৌধুরী স্থানীয় একটি টিভি চ্যানেলে টক শো উপস্থাপনা করেছেন। বিটিএ ছাড়াও কমিউনিটির অন্যান্য অনেক অনুষ্ঠানে তিনি আবৃত্তি, গান ইত্যাদিতে নিয়মিত অংশ নিয়েছেন। তিনি একজন তুখোড় দাবাড়ু। লন্ডনে দাবা খেলার প্রসারে তিনি অনন্য ভূমিকা রেখেছেন। তিনি লন্ডনস্থ বৃটিশ-বাংলা চেস এসেসিয়েশনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। এই সংগঠনের মাধ্যমে তিনি উল্লেখযোগ্য বেশ কয়েকটি দাবা প্রতিযোগিতার আয়োজন ও সফল বাস্তবায়নে অগ্রনী ও মূখ্য ভূমিকা রেখেছেন।

বেশ কিছুদিন যাবত অনেকটা অসুস্থ থাকার পর, ইদানিং তাঁর দেহে এক সফল অস্ত্রপচার ও বিশেষজ্ঞ ডাক্তারগনের প্রবল আশঙ্কার অবসান শেষে, তিনি এখন প্রায় পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

তাঁর বিদায় সংবর্ধনায় প্রেসিডন্ট ও সেক্রেটারী ছাড়াও, অন্যান্য সদস্য যারা উপস্থিত ছিলেন তারা হচ্ছেন, মোহাম্মদ এহিয়া, মৌলানা রফিক আহমেদ, কে এম আবু তাহের চৌধুরী, শফি আহমদ, মাজেদ বিশ্বাস, দরবেশ চৌধুরী, মুজিবুল হক মনি, মেজবাহ কামাল, আব্দুল মোক্তাদির, আনহারুজ্জামান চৌধুরী, মোস্তফা কামাল মিলন, লুৎফুর রহমান, আশীদ আলী, ডক্টর রোয়াব উদ্দীন ও হাবিবুর রহমান।

এই সমাবেশে উপস্থিত সবাই, বিলেতে অবস্থানকালে শিক্ষকতায় পেশাদারিত্ব আর কমিনিউনিটিতে তাঁর স্বত:স্ফুর্ত ও সক্রিয় পদচারণা এবং অবদানের কথা তুলে ধরেন। তিনি সর্বক্ষেত্রে সততা, নিষ্ঠা, ঐকান্তিকতা ও আন্তরিকতার স্বাক্ষর যে রেখে গেছেন, তা উপস্থিত সবাই এক বাক্যে স্বীকার করেছেন। আলাপকালে কথা ও আচরণে সবার অবয়বে বিষন্নতা ও বিমর্ষতার ছাপ সদাপ্রচ্ছন্ন থাকলেও নতুন জীবনে তাঁর আগ্রহ, উদ্দীপনা, আনন্দ ও উচ্চাশায় সবাই স্বস্তি ও গভীর তৃপ্তি প্রকাশ করেন। ছয় ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থান করলেও বিটিএর প্রতি, বিটিএর সকলের প্রতি তাঁর টান ও ভালবাসা সদাবিদ্যমান থাকবে বলে তিনি নির্দ্বিধায় উল্লেখ করেছেন। বলেছেন, অবারিত চিত্তে তাঁর বাহুদ্বয় সম্প্রসারিত থাকবে, বিটিএর যে কোনো প্রয়োজনে। তাঁর এই ঔদার্যে সবাই মুগ্ধ এবং পুলক অনুভব করেন এবং তাঁকে ধন্যবাদ জানান। বিটিএর সহকর্মীদের বদান্যতায় তিনি যে ভীষণভাবে আপ্লুত ও কৃতজ্ঞ, তা প্রকাশে তিনি আদৌ কুণ্ঠা বোধ করেন নি।

তিনি আমেরিকার ডেট্রয়েটে পুরোপুরিভাবে নতুন জীবন শুরু করতে গেছেন। তিনি বিলেতে তাঁর অভিজ্ঞতাকে ভবিষ্যত জীবনের সোপান হিসেবে বিবেচনা করে যাবার কথা ব্যক্ত করেছেন।

সেখানে তাঁর জীবনটা যাতে সুন্দর, সাবলীল, স্বস্তিদায়ক, উপভোগ্য ও তৃপ্তিদায়ক হয়, মৌলানা রফিক আহমেদ কর্তৃক পরিচালিত ইফতারপূর্বক মোনাজাতে সবাই এ দোয়াই করেন। সমাবেশের শেষ পর্যায়ে কৃতজ্ঞতা এবং বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনের স্বাক্ষর এবং স্মৃতিস্বরূপ দৃষ্টিনন্দন কুলচিহ্ন অর্থাৎ ক্রেস্ট ও বিশেষ উপহার বিদায়ী সহকর্মীর হাতে তুলে দেওয়া হয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে