টাচ নিউজ ডেস্কঃ বাংলাদেশ দূতাবাস বার্লিনে যথাযোগ্য মর্যাদায় ও বিনম্র শ্রদ্ধায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয়েছে। কোভিড-১৯ মহামারী পরিস্থিতি বিবেচনায় দূতাবাস প্রাঙ্গণে সীমিত উপস্থিতির বিধান অনুসরণ করে অনুষ্ঠানটি পালন করা হয়।

চলতি বছরের গত ১৮-২০ ফেব্রুয়ারি ২০২২ মেয়াদে জার্মানির মিউনিখ শহরে অনুষ্ঠিত ‘মিউনিখ সিকিউরিটি সম্মেলন’ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রীর ১৭-২১ ফেব্রুয়ারি মিউনিখ সফর উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রদূত ও দূতাবাসের কর্মকর্তা সমন্বয়ে গঠিত একটি দল মিউনিখ শহরে ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অবস্থান করে। মঙ্গলবার (২২ ফেব্রুয়ারি) যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান ‘শহীদ দিবস’ ও ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ পালিত হয়।

জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচির সূচনা করা হয়। তারপর রাষ্ট্রদূত জনাব মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার নেতৃত্বে দূতাবাসের কর্মকর্তা ও কর্মচারি ও উপস্থিত অতিথিবৃন্দ শহিদ স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পন করে একুশের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে মহান ‘শহীদ দিবস’ ও ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। বাণীপাঠের পরপরই উপস্থিত দূতাবাস সদস্যগণ ও কমিউনিটির অংশগ্রহণে একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

রাষ্ট্রদূত তাঁর বক্তব্যে শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এর গুরুত্ব, ইতিহাস ও তাৎপর্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন যে, ৫২’ এর ভাষা আন্দোলনকেই বাংলাদেশ রাষ্ট্র সৃষ্টির পথে আন্দোলনের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে মনে করা যায়। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত ভাষা আন্দোলনের বিশাল প্রেক্ষাপটে ততোধিক বিশালত্ব নিয়ে বিরাজিত একটি নাম জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ভাষা আন্দোলনের প্রথম পর্যায়ে ১৯৪৭-৪৮ সালে বঙ্গবন্ধু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দ্বিতীয় পর্যায়ে অর্থাৎ ১৯৫২ সালে জেলে থেকেও তিনি ২১ ফেব্রুয়ারিতে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ ও মিছিল করার জন্য ছাত্রসমাজকে উদ্বুদ্ধ করেন। তাই ভাষা আন্দোলন ও বঙ্গবন্ধু, বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা সংগ্রাম, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ একে অপরের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন সম্পর্কে জড়িত।

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলাকে মাতৃভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য জীবন উৎসর্গকারী সকল ভাষা শহিদকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে তিনি আরও বলেন, ১৯৯৯ সালে জাতিসংঘের ইউনেস্কো কর্তৃক ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণায় কয়েকজন প্রবাসী বাঙ্গালির সাথে সরকার প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদানও স্মরণযোগ্য। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণার ফলে বিভিন্ন ভাষাভাষি মানুষের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় অমর একুশে চেতনা আজ এক অনুপ্রেরণা ।

এরপর সকল শহীদের আত্মার শান্তি কামনা ও দেশ ও জাতির কল্যাণে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। পরিশেষে, অনুষ্ঠানে যোগদানকৃত সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে এবং করোনাকালীন সময়ে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য অনুরোধ ও সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করে রাষ্ট্রদূত অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে