ছবি: মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া

মিজানুর রহমান শেলী: আজ আমার বাবা মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী আব্দুল মান্নান ভূঁইয়ার ২য় মৃত্যুবার্ষিকী। মহান মুক্তিযুদ্ধে বাবা ও দুই চাচার অংশগ্রহণ ছিল আমাদের গর্বের বিষয়। একই পরিবারের সকল ভাই যুদ্ধে অংশগ্রহণ উদাহরণ অনন্য।

স্বধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বাবা নেই। আছে অনেক স্মৃতিময় স্থান। স্মৃতির আলিঙ্গণে ভরা শত শত ভালোবাসা।

বাবা একটি বই লিখেছেন, ‘আমাদের মুক্তিযুদ্ধ’ নামে। দুঃসাহসিক অভিযানের কথা ভরপুর লেখার ভেতর। বাবা ও দুই চাচার কথার পাশাপাশি আছে মায়ের যুদ্ধ সময়ের কথা। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের কীভাবে মুঠো চাল তুলে ভাত রান্না করে খাইয়েছেন। আরও আছে সেইসব যুদ্ধ সময়ের দিনগুলোর কথা।

বাবা চলে গিয়েছেন। আজ বাবার জন্য কোরআন ক্ষতম দেয়া হলো। আমরা সবাই হুজুররাসহ দোয়া করলাম। এতিমখানার এতিমদের দোয়া-দুরুদ। খাওয়া-দাওয়া দাওয়াত আছে।

বাবা ইপিআর এর সদস্য ছিলেন। যুদ্ধ করেছেন ইপিআরে চাকরি অবস্থায়। অনেক মুক্তিযোদ্ধা বাবার কাছে যুদ্ধের সময় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। অনেকে বাবার সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধ করেছেন। নায়ক অবস্থায় স্বেচ্ছায় অবসরপ্রাপ্ত হোন। স্বাধীনতার পর সুগার করপোরেশনে অফিসার হিসেবে চাকরি করেন। ২০০০ দিকে তিনি চাকরি জীবন শেষ করেন। জীবনের শেষ অবদি সমাজকল্যাণ কাজে জড়িত ছিলেন। মসজিদ, মাদ্রসা ও স্কুলের উন্নয়ণে কাজ করতেন। মৃত্যুর পূর্বে কংশনগর সরকারি প্রাথমিক স্কুলের সভাপতি ছিলেন।
কংশনগর উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠালগ্নে সশরীরে বাবার অনেক কিছুতে অংশগ্রহণ ছিল।

বাবা আজ নেই। ওপারে বাবা যেন ভালো থাকেন। দোয়া কামনা থাকলো সবার কাছে।

লেখকঃ পুলিশ সুপার, পিবিআই, ঢাকা মেট্রো দক্ষিণ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে