টাচ নিউজ ডেস্কখ: একুশে পদকপ্রাপ্ত বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের দশম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০০৯ সালের এই দিনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। স্মৃতি পরিষদের চেয়ারম্যান ও করিমপুত্র শাহ নুর জালাল জানান, বাউল শাহ আবদুল করিম স্মৃতি পরিষদ জন্মস্থান উজান ধল গ্রামের বাড়িতে তার কর্ম ও সৃষ্টি নিয়ে এক আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। আবদুল করিমের মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন, মিলাদ মাহফিল, আলোচনা সভা ও করিমগীতির অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। আলোচনা সভায় উপস্থিত থাকবেন সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকসহ অতিথিরা। এছাড়া স্থানীয় শিল্পীরা সংগীত পরিবেশন করবেন।

শুধু আধ্যাত্মিকতায় নয় জাগতিক বিষয়ে শাহ আবদুল করিমের সৃষ্টির দখলদারিত্ব কোনো অংশেই কম নয়। রাষ্ট্র, সমাজ এবং হাওরাঞ্চলের অবহেলিত মানুষের দুঃখ-দুর্দশা, হাসি-আনন্দ, প্রেম-বিরহ আর অধিকারের কথা তার গানে ফুটে উঠেছে। গানের মাধ্যমে সহজ সরল ভাষা আর হৃদয় কাড়া সুরের মাধ্যমে তুলে নিয়ে এসে বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিম স্থান করে নিয়েছেন অসংখ্য সংগীত প্রেমির অন্তরে।

মানুষ হয়ে মানুষকে কষ্ট না দেওয়াটাই মানুষের বড় ধর্ম এ সত্যই শাহ আবদুল করিম লেখার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি ছিলেন শোষকের বিরুদ্ধে হুংকার, দিয়েছেন বিপ্ল­বের ডাক। প্রেম দিয়ে শত্রুকে জয় করা এবং সম্প্রীতির শিক্ষা দিয়েছেন শাহ আবদুল করিম।

শাহ আবদুল করিম ১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের দিরাই থানার উজানধল গ্রামে এক কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম ইব্রাহীম আলী ও মাতার নাম নাইওরজান।

দারিদ্র ও জীবন সংগ্রামের মাঝে বড় হওয়া বাউল শাহ আবদুল করিমের সঙ্গীত সাধনার শুরু ছেলেবেলা থেকেই। বাউল সম্রাটের প্রেরণা তার স্ত্রী আফতাবুন্নেসা। যাকে তিনি আদর করে ‘সরলা’ নামে ডাকতেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে