টাচ নিউজ ডেস্কঃ ভার্চুয়্যালী ৫১তম স্বাধীনতা দিবস পালন করেছে বাংলাদেশী টিচার্স এসোসিয়েশন ইউ কে (বিটিএ)।

শুক্রবার (২৫শে মার্চ) সন্ধ্যে সাতটায় জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়।

সংগঠনের প্রেসিডেন্ট আবু হোসেন স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে আত্মাহুতি দানকারী লক্ষ লক্ষ শহীদ, প্রায় তিন লক্ষ নির্যাতিতা মা-বোন ও কোন না কোনভাবে কোটি আত্মত্যাগকারীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং অনুষ্ঠানে যোগদান করার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন।

সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল বাসিত চৌধুরীর সঞ্চালনায় অংশগ্রহনকারীদের সবাই স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক স্মৃতি চারণ করেন। তারা হচ্ছেন, বিটিএর সদস্যদের মধ্যে জামাল উদ্দিন আহমেদ, ইকবাল হোসেইন, মিসবাহ কামাল আহমেদ, এ কে এম এহিয়া, আফিফা রহমান, শাফি আহমেদ, কানিজ আশরাফি, তসউর আলী, মোস্তফা কামাল মিলন, ডক্টর রোয়াব উদ্দিন, ডক্টর নুরুল ইসলাম, রাহেল ইয়াহিয়া, হাবিবুর রহমান, মাহবুব হোসেন, শওকত মাহমুদ টিপু, জাকির হোসেন পারভেজ, রাজিয়া মান্নান, মুনজেরিন রশীদ, হাসনা রহমান, রোকসানা গনি, সাঈদা চৌধুরী, মিসবাহ আহমেদ, সেলিনা রহমান, আশরাফুন হোসেন এবং শওকত মাহমুদ টিপুর ছেলে সাজিদ মাহমুদ। মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা শিশু ছিলেন বা ওই সময়ের পরে যারা জন্ম গ্রহন করেছেন, তাঁরাও অত্যন্ত আগ্রহভরে পিতা মাতা, দদাদাদীর কাছ থেকে শোনা বাস্তব ঘটনাসমূহ রোমন্থন করেন।

নতুন প্রজন্মের সদস্যরা, সদস্যগন যারা সে সময়ে অত্যন্ত কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গেছেন, তাঁদের অভিজ্ঞতাকে গ্রন্থাকারে লিপিবদ্ধ করার প্রয়োজনীয়তার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। বিটিএ কর্তৃক এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবার প্রয়াস চালাবার কথা উচ্চারিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ঢাকা ‘ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই ইন দ্য ইউকে’র সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা দেওয়ান গৌস সুলতান স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে আগত দিনের সন্তানদের মাঝে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ছড়িয়ে দেওয়ার এবং তা তাদের অন্তরে গ্রোথিত করার গুরুত্বের বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।

স্মৃতিচারণকারী প্রায় সবার বিবরণের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা, ছোট হোক আর বড় হোক, কোন না কোনভাবে মুক্তিযুদ্ধে সাহায্য করেছেন, তারা সবাই মুক্তিযোদ্ধা। অনেক মা খাবারের অভাবে সদ্য ভূমিষ্ট শিশুর পুষ্টির জোগান দিতে পারেননি, ভয়ভীতি কিংবা পালিয়ে বেড়ানোর মত বিড়ম্বনায় পতিত হয়ে নিজেদের বৃদ্ধ বাবা-মা ও শিশু-কিশোরকে হারাতে হয়েছে, এমন বাস্তব চিত্রের প্রতিফলন হয়েছে কারো কারো স্মৃতিচারণে। ২৫শে মার্চের কাল্ রাতের গনহত্যাকে বিশ্বের সবচেয়ে অমানবিক, নৃশংস ও ন্যাক্যারজনক ঘটনা বলে জনাব সুলতান আখ্যায়িত করেছেন।

এই প্রজন্মের শিক্ষক কানিজ আশরাফির কথার উল্লেখ করে তিনি বলেন যে, পাকিস্তানীরা ঐ রাতে ঢাকার তিনটি স্থাপনাকে নিমেষেই মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়। তারা ভাবতো যে, শহীদ মিনারে এমন কী আছে যে বাঙ্গালীরা ওখানে গিয়ে শপথ নিয়ে বেপরোয়া ও অপ্রতিরুদ্ধ হয়ে ওঠে। তারা সেদিন ডিনামাইট দিয়ে শহীদ মিনারকে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল, ধংস করেছিল দৈনিক ইত্তেফাক ও দ্য পিপল নামক পত্রিকাদ্বয়ের স্থাপনা। পাকবাহিনী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো, তৎকালীন ইপিআর এবং রাজারবাগ পুলিশ হেড কোয়ার্টারে যে ধংসযজ্ঞ ও হত্যাযজ্ঞে মেতে উঠেছিল, তা দুনিয়ায় নজিরবিহীন। তিনি এই জঘন্য গনহত্যার দিনটাকে আন্তর্জাতিক গনহত্যা দিবসে পরিগণিত করার আহ্বান জানান।

সাড়ে ১৬ বছর বয়সী সহোদর ভাইয়ের একেবারে সম্মুখে ১৮ বছর বয়সী বড় ভাইকে পাকসেনারা গুলি করে হত্যা করেছিল। বিটিএর সদস্য তসউর আলীর পূর্ণ বিজয়ের মাত্র দিন আগে পিঠাপিঠি প্রিয় ভাইয়ের এমন হৃদয়বিদারক হত্যার কান্নাজড়িত বিবরণ যোগদানকারী সবাইকে হতবিহ্বল ও অনুভূতিপ্রবণ করে তোলে।

বিএটিএর সদস্যগন ছাড়াও, কমিউনিটির গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এতে অংশ নেন। স্মৃতিচারণ শেষে সাংস্কৃতিক পর্বে আবৃত্তি ও সঙ্গীতে অংশ নেন মোস্তফা কামাল মিলন, মুনজেরিন রশীদ, মিসবাহ কামাল আহমেদ, এ কে এম এহিয়া ও আশরাফুন হোসেন। অতিথিদের মধ্যে প্রধান অতিথি আবৃত্তি পরিবেশন করেন এবং গান পরিবেশন করেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট শিল্পী বিশেষ করে আশির দশকের সাড়া জাগানো জনপ্রিয় শিল্পী সৈয়দ তারেক ও বাসিত চৌধুরীর পত্নী নিবেদিতপ্রাণ সংস্কৃতি ও সমাজকর্মী সাঈদা চৌধুরী।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে