টাচ নিউজ ডেস্কঃ অব্যাহত বৃষ্টি ও উজানের ঢলে আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে কুড়িগ্রামের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন দেড় লাখ মানুষ। দুর্ভোগে পড়েছেন দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষ। এছাড়া শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

অন্যদিকে, গো-খাদ্য নষ্ট হয়ে হয়ে যাওয়ায় গবাদি পশুর খাদ্য সংকট নিয়েও চরম বিপাকে পড়েছেন বানভাসি মানুষ।

পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বন্যার পানি প্রবেশ করছে উঁচু এলাকাগুলোতেও। কাঁচা-পাকা সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় ভেঙে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।

সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের পোড়ার চরের সাবের আলী বলেন, এই চরের সবগুলো বাড়িঘরে পানি উঠেছে। কিছু পরিবার অন্যত্র চলে গেলেও অনেক পরিবার নৌকায়, কিছু পরিবার ঘরের ভেতর উঁচু করা মাচানে দিনরাত পার করছেন। সরকারিভাবে ত্রাণ সহায়তা পেলেও তা রান্না করার মতো উপায় নেই।

একই ইউনিয়নের খেয়ার আলগা চরের মইনুল হক বলেন, বাড়িতে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমাদের খাবার তেমন কষ্ট না হলেও গরু, ছাগল, ভেড়ার খাদ্য সংকট নিয়ে বিপদে আছি। গবাদি পশুই আমাদের সম্পদ। এটা রক্ষা করতে না পারলে আমাদের বাঁচার উপায় থাকবে না।

সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর বলেন, বন্যার পানি বাড়ায় প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্ল্যাহ আল মামুন বলেন, কুড়িগ্রামের প্রধান তিনটি নদীর মধ্যে দুইটি নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, ৯ উপজেলার বন্যা কবলিত মানুষের জন্য ৩১৩ মেট্রিক টন চাল, নগদ ১৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা, ১ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, ১৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকার শিশু খাদ্য ও ১৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা গো-খাদ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিতরণও করা হচ্ছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে