বন্ধ্যা

ত্রিবেণী রায় তনু

জ্বরের শরিলডা আর ভাল্লাগেনা, খালি মনে কয় এই দুনিয়ায় আমার সময় শ্যাষ কইরা দিবো বিধাতা।
খুব তাড়াতাড়িই আমি যামু চইলা।
অহন ভরা সইন্ধ্যা লাগছে।
কাম কোনোমতে সাইরা শুইয়া রইছি হ্যার মিহি চুপচাপ চাইয়া।
বড্ড অসহায় লাগতাছে আমার, কিচ্ছু ভাল্লাগতাছে না।
হ্যায় হের মতো থাহে, কহনো কথা কয়, কহনো আমার মুহের মিহি চাইয়াও দ্যাহেনা।
আমিও তারে জ্বালাইনা, জীবনডাই আমারে জ্বালায় দিয়া গ্যাছে, আর হ্যার জ্বালা আমি বাড়াইতাছি দিনে দিনে মাইনষের কাছে।
তারে কইলাম আমার বড্ড একা লাগতাছে,
সে চুপ রইলো, কিছু কইলো না।
আইজ আমার জ্বরের সপ্তম দিন হইলো, কিন্তু হ্যায় একটাবার জিয়াগাও দ্যাহে নাই “তোমার শরিলডা এহন কেমন আছে বর্ষালী?”
আমি জিগাইলাম আমি মইরা গেলে খুব সুখী হইবা তুমি?
হ্যায় তাও কিছু কয়না।
শরিলের ব্যথার চাইতে আমার বুহের ব্যথা বাড়তাছে।
আমি কানবারও পারতাছিনা।
আমি কিয়ের লেইগা জন্মাইছি এই দুনিয়ায়?
কিয়ের লেইগা আমার বিধি আমারে বন্ধা বানাইলো?
ক্যাবল সন্তান জন্ম দিতে পারি নাই দেইখা আইজ এতো এতো অবহেলা।
আমার বিয়ার বছর ঘুরতে না ঘুরতেই সবাই মিল্লা আমারে আমার ‘বর্ষালী’ নামডা ভুলায় দিয়া “বন্ধা” ডাকা শুরু করছে।
বাপের দেওয়া নামডা আইজ বন্ধায় গিয়া ঠ্যাকছে।
আমার অসুখ পাইয়া মাইনষে আনন্দ লাগায় দিছে,
কারণ আমি মরলে তো হ্যারে আরেকটা বিয়া দিতে পারবো।
আমিই ক্যাবল বোঝা হইয়া অন্ন ধ্বংস করতাছি।
কিন্তু
আমি তো বাঁচতে চাইছিলাম,
আমি চাইছিলাম কাম কইরা খাইতে।
আমি এই সংসার করতে চাই নাই, আমি চাইছিলাম নিজের খাওনের ট্যাহা নিজে কামাইতে।
বাপ মায় পড়ায় নাই, আর স্বামীর বাড়ি?
এই কথা আর না-ই কই।
তয় মরণের আগে,
আমি হ্যারে প্রাণ ভইরা দোয়া দিয়া গেলাম,
আমি মরলে যেনি হ্যায় সন্তানের বাপ হইতে পারে।

লেখক: শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে