ড. মো: শাহ কামাল খান: হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী স্বাধীনতার মহান স্থপতি অবিসংবাদিত নেতা বাঙ্গালীর অহংকার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি এই শোকের মাসে গভীর বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর সম্মন্ধে দুটি কথা লেখার দু:সাহস করছি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অপর নাম বাংলাদেশের স্বাধীনতা, যার জন্ম না হলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না। শত সহস্র বছরের পরাধীনতার গুনি মুছে ফেলে অনেক ত্যাগ তিথিক্ষা, অশ্রু, ব্যথা, বেদনা, সম্ভ্রমহানি তথা এক সাগর রক্তের বিনিময়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরে অর্জিত হয় আজন্ম লালিত আমাদের গৌরবের, অহংকারের, সার্বভৌমত্বেও প্রতীক লাল সবুজ পতাকা খচিত প্রিয় স্বাধীনতা।

এই ভূখন্ড আর্য, দ্রাবিড়, পাল, সেন, খিলজি, মুঘল, পাঠান, সুলতান, নবাবব, পর্তুগিজ, বর্গি ইষ্টইন্ডিয়া কোম্পানি, রাজা, জমিদার সবশেষে ঔপনিবেশিক পাকিস্তানীরা বারবার আমাদের খাদ্য, বস্ত্র, চিকিংসা, বাসস্থান, শিক্ষা তথা মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। আমাদের ভাষা, ধর্ম ও মত প্রকাশের স্বকীয়তা পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ ছিল। বিভিন্ন সময়ে স্বাধীকার আদায়ের সংগ্রামে আবর্তিন হয়ে কত যে অমিয় সম্ভবানাময় প্রাণ ঝরে গেছে তার কোন ইয়ত্বা নেই।

ভাষা আন্দোলনে আত্মদানকৃত শহীদেও রক্তে রোপিত হয় স্ভাধীনতার বীজ। সেখান ীেথকে সূত্রপাত হয়ে বায়ান্ন, চুয়ান্ন, বাষট্টি, ছিষট্টি, উনষত্তরে জনগণের ক্ষোভের বর্হিপ্রকাশ ও গণআন্দোলনের মাধ্যমে পত্রপল্লবে বিকশিত হয়ে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে রুপ নেয়। ইতিহাসের পরতে পরতে নিষ্পেষিত নিপিডিড়ত মুক্তিকামী মানুষের গণআন্দোলনের পথিকৃত, অবিসংবাদিত নেতা, সর্বাকলের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী ইতিহাসের মহানায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুরের নেতৃত্বে অনলবর্ষি বক্তৃতা, হিমালয় সমব্যক্তিত্ব, আমাদরও মুক্তি লাভের অদম্য বাসনাধারী ছাত্র, তরুণ, তরুণী, কৃষক, কামার, কুমার, জেলে, তাতীসহ সকল জাতী ধর্ম নির্বিশেষে এই ভূখন্ডে বসবাসকারী প্রায় সকল মানুষের অবর্নণীয় আত্মত্যাগর নিকট পরাভূত হয় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধের সকল সংগঠক, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান আত্মদানকারী বীর শহীদ, সম্ভ্রমহারা সকল বীরাঙ্গনা মা, যুদ্ধাহতসহ সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অসীম ত্যাগের বিনিময়ে পৃথিবীর বুকে লাল-সবুজ পতাকার আবির্ভাব হয়, সৃষ্ঠি হয় বাংলাদেশ নামক স্বাধীন ভূখন্ড। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষীয় মুক্তিযদ্ধ শেষে ১৯৭১-এর ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বাহিনীর কাছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণ করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নামক স্বাধীন রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা হয়। নি:সন্দেহে এ এক অনন্য অর্জন, অসাধারণ প্রাপ্তি, বাঙালি জাতির জন্য এ এক অন্যরকম পাওয়া।

১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারিতে শেখ মুজিব পাকিস্তানের কারাগার থেকে ক্তু হয়ে স্বদেশে প্রত্যার্বতন করেন এবং বাংলাদশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতন০া, ক্ষুধা মুক্ত, দারিদ্রমুক্ত, নারী নির্যাতন মুক্ত, মাদক মুক্ত, সন্ত্রাস মুক্ত, নাশকতা মুক্ত, জঙ্গীবাদ মুক্ত, অশিক্ষা এবং কুসংস্কার মুক্ত শ্রেণী বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মনে বিশ্বের বিস্ময় বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে ক্রমাগত এগিয়ে চলছিল দেশ। কৃষি প্রধান এই দেশের কৃষিকে এক অনন্য অবস্থানে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে জাতির পিতা শেখ মুজিবের ভূমিকা অসামান্য।

বঙ্গবন্ধুর অবস্থান, কৃষিবিদ ক্লাশওয়ান। ১৯৭৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে কৃষিবিদদের প্রথম শ্রেণীর মর্যাদা দেওয়ার ঘোষণা দেন। ২৯১৯ সাল থেকে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন প্রতিবছর দিনটিকে ‘কৃষিবিদ দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে। ক্ষুধা ও দারিদ্র মুক্ত দেশ গঠনে বঙ্গবন্ধুর অবদান চিরদিন জাতি মনে রাখবে। জনদরদি নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবরি রহমান তাঁর এক ভাষণে বলেছিলেন, “বাংলাদেশে কেউ না খেয়ে মরবে না, সবাই এদেশে সুখী ও তৃপ্ত জীবনযাপন করবে।” তিনি ছিলেন অত্যন্ত দূরদর্শি। তাঁর ভাবনায় শুধু বাংলাদেশ নয়, তিনি ভাবতেন সারা বিশ্বকে নিয়ে। তিনি সমগ্র পৃথিবীকে ক্ষুধা ও দারিদ্র মুক্ত করার স্বপ্ন দেখতেন, প্রচেষ্টা চালাতেন, সংগ্রাম করতেন। তাইতো তিনি ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেষণে বলেছিলেন “ÒLet us together creat a world that can eradicate poverty, hunger, war and human suffering and achieve global peace & security for the well-being of humanity’’

লেখক: প্রকল্প পরিচালক, কৃষি আবহাওয়া তথ্য পদ্ধতি উন্নতকরণ প্রকল্প, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে