টাচ নিউজ ডেস্কঃ জার্মান প্রবাসী মাসরুর হোসেন ভূইয়া লিটন, নারী আর মাদকই যেন তার একমাত্র নেশা। এ পর্যন্ত বৈধ বিয়ের সংখ্যা তিন তবে বহু নারীর সাথে ব্যাক্তিগত সম্পর্কের অভিযোগ রয়েছে। এসব সম্পর্কের অভিযোগ অন্য কেউ করেনি করেছেন খোদ তার সহধর্মীনির।

ফের বিয়ে করেছেন প্রবাসী মাসরুর হোসেন, অভিযোগ তার ফাঁদে পা দিয়ে জীবনে দুঃখ ডেকে আনলেন আরো এক নারী। প্রথম স্ত্রীর সাথে মাসরুর ডিভোর্সের কারণ ছিলো অবাধে নারীদের সাথে মেলামেশা আর মাদকের নেশা। এরপর মায়ার জালে ফেলে তিনি বিয়ে করেন পলিন নামের এক নারীকে। সেই নারীর থেকে হাতিয়ে নেন বিপুল অংকের টাকা, আর তার বদলে সেই নারী পান স্বামীর অবহেলা। অত্যাচারের মাত্রা এতটাই ছিলো যে সেই স্ত্রীকে দারস্ত হতে হয়েছিলো পুলিশ কার্যালয়ে।

২০১৩ সালে হারিফুন পলিনের বিয়ে হয় জার্মান প্রবাসী মাসরুর হোসেন ভূইয়া লিটনের সাথে। বিয়ের পর কিছু দিন সব ঠিক থাকলেও আস্তে আস্তে দৃশ্যমান হতে থাকে মাসরুর হোসেনের আসল চেহারা।

স্ত্রীর অভিযোগ বিয়ের পর থেকেই পর-নারীর প্রতি আসক্ত মাসরুর, নিয়মিত বিভিন্ন মাদকও গ্রহন করতেন তিনি। মাদকের জন্য আর্থিক যোগান দিতেও চাপ দিতেন স্ত্রীকে।

জানা যায়, কুমিল্লা সদর উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়ন লালমতি গ্রামের মুন্সি বাড়ির ছেলে মাসরুর হোসেন ভূইয়া লিটন। তার বাবার নাম মরহুম সিরাজুল ইসলাম ও মা বেগম নাহার। বর্তমানে কুমিল্লা সদর কোতয়ালীর বাগিচাগাওয়ের নাহার মঞ্জিলে বসবাস করেন তারা বাবা মা। প্রকৃত অর্থে মুন্সি পরিবারের ছেলে হলেও কাগজে-কলমে নিজর পরিচয় দেন ভূয়া হিসেবে।

ভুড়িচং উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান সাজ্জাত হোসেনের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্ত্রী পলিনকে ডিভোর্স দিয়ে নতুন করে বিয়ে করছেন মাসরুর হোসেন এমটা শুনেছেন তিনি। তবে প্রবাসী মাসরুরের নারী লোভী স্বভাব ও মাদক সেবনের বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন। একই কথা বলেছেন বিজয়পুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান খোরসেদ আলম।

২০১০ সালে রিমু নামের প্রথম স্ত্রীর সাথে একই অভিযোগের জেরে ডিভোর্স হয় মাসরুর হোসেনের। প্রথম স্ত্রীকেও অস্বাভাবিক নির্যতন করতেন মাসরুর ।

ভুক্তেভুগী স্ত্রী জানান, তার স্বামী মাসরুর হোসেন ভূইয়া লিটনের সাথে জার্মানে একাধিক নারীর সাথে অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে। নেশায় বুদ হয়ে মাতাল অবস্থায় সেই সব নারীদের নিজের বাসায়ও নিয়ে আসতেন লিটন। এসবের জেয়ে প্রায়ই চলতো তাদের পারিবারিক কোলাহল। শুধু স্বামী লিটনেরেই নয়, তার বোন রেশমা ও পরিবারের অনেক সদস্য দ্বারা নির্যতনের শিকার হয়েছেন তিনি।

স্বামীকে তার বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিতেন শশুড় বাড়ির লোকজন এমন অভিযোগ তুলে ভুক্তোভুগী বলেন, তারা (শশুর বাড়ির লোকজন) আমাদের পারিবারিক কোলাহল মেটানোর পরিবর্তে আমার বিরুদ্ধে নানা উসকানি আচরণ করতো।

পরকীয়া ও মাদকের প্রতিবাদ করতে গেলে পাশবিক শারীরিক নির্যতনের শিকার হতেন তিনি। শারীরিক নির্যাতন সহ্য না করতে পেরে জার্মান পুলিশের সহায়তাও নিয়েছেন তিনি।

তবে পুলিশ দফরতে গিয়ে ক্ষমা চাইলে স্বামীকে ক্ষমা করে ফের সুখে থাকার স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। কিন্ত এত নির্যতন আর ত্যাগ শিকারের পরেও পরকীয়ায় আসক্ত স্বামীকে ফেরাতে পারেননি এই গৃহবধু।

নারীদের সরলতার সুযোগ নিয়েই নারীদের ভোগের পণ্য করে আর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছেন দুষ্ট চরিত্রের মাসরুর হোসেন। এবার তার ফাঁদে পা দিয়েছে আরো এক নারী। সামাজের এমন ধূত-কীটদের জন্যই প্রশ্ন উঠেছে নারীদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে। মাসরুর হোসেনের স্ত্রী হিসেবে সম্পর্কে জড়ানো সেই নারীর ভবিষ্যৎ আজ শঙ্কায় জড়ানো। হয়তো এবার নিঃশ্ব হবে আরো এক নারী।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে