টাচ নিউজ ডেস্কঃ চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায় প্রেমিক আলমগীরের গলায় ছুরি ধরে প্রেমিকাকে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। নির্যাতিতা বোয়ালখালী উপজেলার একটি বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় তিন জনকে গ্রেফতার করেছে বোয়ালখালী থানা পুলিশ।

বোয়ালখালী থানার মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ওই শিক্ষার্থী আলমগীর নামের এক ছেলেকে পছন্দ করে। বিষয়টি জানতে পেরে শুক্রবার সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীর মা তাকে বকাঝকা করে। মায়ের বকাঝকা শুনে এক পর্যায়ে অভিমান করে (৩ জুন) শুক্রবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ওই ছাত্রী ঘর থেকে বের হয়ে প্রেমিক আলমগীরের সাথে বোয়ালখালীর ফুলতল এলাকায় দেখা করতে যায়। এ সময় সাগর, রিমন ও সায়মন তাদের ভয় দেখিয়ে কামালের অটোরিক্সায় তুলে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন এলাকার নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। তারপর তার প্রেমিক আলমগীরের গলায় ছুরি ধরে তার সামনে প্রেমিকা শিক্ষার্থীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এ সময় শিক্ষার্থী যাতে চিৎকার করতে না পারে সেজন্য তার মুখ চেপে ধরে ধর্ষণকারীরা। পরে রাত ৩ টার দিকে অটোরিক্সা যোগে ওই শিক্ষার্থীকে তার ঘরের সামনে এনে নামিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়।

বাড়ি ফিরে ওই স্কুলছাত্রী তার মাকে ঘটনাটি জানালে শিক্ষার্থী মা শনিবার (৪ জুন) সকালে বাদী হয়ে বোয়ালখালী থানায় ৪ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করে। এ সময় ঘটনায় ব্যবহৃত অটোরিক্সা, মোটরসাইকেল ও ছোরা উদ্ধার করে।

গ্রেফতারকৃতরা হলো- বোয়ালখালী পৌরসভার পূর্ব গোমদণ্ডী ৪নং ওয়ার্ডের আলা উদ্দীন হাজি বাড়ীর মো, বাদশা মিয়ার ছেলে এমরান হোসেন সাগর (১৯), বোয়ালখালী পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের মোহাম্মদ রুস্তম আলী বাছেকের ছেলে সানিউল্লাহ আলী রিমন (২০) ও ৬নং পোপাদিয়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের চান মিয়া সওদাগর বাড়ির মোহাম্মদ কফিল উদ্দিনের ছেলে মো. কামাল উদ্দিনকে (২৬) । এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার ৩নং আসামি কধুরখীল ইউনিয়নের নাপিতের ঘাটা এলাকার সায়মন (২৪) পলাতক রয়েছে।

বোয়ারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.আবদুল করিম বলেন, স্কুল শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ মামলায় তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ভিকটিমের ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ মামলায় পলাতক আসামি সায়মনকে গ্রেফতারের অভিযান চলছে।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পটিয়া সার্কেল) মো. তারিক রহমান বলেন, সংঘটিত ধর্ষণের ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ আটককৃতরা ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। পলাতকদের আটকে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে