টাচ নিউজ ডেস্কঃ সপ্তাহখানেক আগেই জন্ম নিয়েছে প্রথম সন্তান। কয়েকদিনের মধ্যে ছুটি নিয়ে কন্যা সন্তানকে দেখতে যাওয়ার কথা ছিল চট্টগ্রামের কুমিরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের নার্সিং অ্যাটেনডেন্ট কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান মনিরের।

কিন্তু সে আশা আর পূরণ হলো না। শনিবার (৪ জুন) রাতে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নে বিএম কনটেইনার ডিপোতে বিস্ফোরণের ঘটনায় আগুন নেভাতে গিয়ে প্রাণ হারাণ মনির। এ ঘটনায় রোববার দুপুর পর্যন্ত তিনিসহ ৩৭ জন মারা গেছেন।
মনিরুজ্জামান মনির রাতে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

জানা গেছে, আগুনের শিকার হওয়ার পর নিজের মামা মির হোসেনকে কল দিয়েছিলেন মনির। বলেন, ‘আমার শরীর পুড়ে গেছে। আমি হয়তো আর ফিরব না। আমার কলিজা মেয়েটার মুখ আর দেখা হবে না মামা। তুমি একটু দেখে রাখিও।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মনিরের বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের নাইয়ারা গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল হকের ছেলে। তারা পাঁচ ভাই, এক বোন। তিনি বরিশাল বিয়ে করেছেন। এক সপ্তাহে আগে তার স্ত্রী বরিশালে বাবার বাড়িতে একটি মেয়ে সন্তানের জন্ম দেন। এটিই এ দম্পতির প্রথম সন্তান।

সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের মেম্বার জয়নাল আবেদীন জানান, মনির কিছুদিন আগে ঢাকা থেকে বদলি হয়ে চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসে আসেন। একমাত্র সন্তানকে দেখার জন্য বরিশাল যাওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু সে সুযোগ পাননি তিনি। আমরা তার মৃত্যুতে শোকাহত।

নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক হোসেন জানান, আমরা মনিরের মৃত্যুর বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে জেনেছি। বিস্তারিত জেনে আমাদের পক্ষ থেকে যে ধরনের সহায়তা দরকার, তা করব।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে