টাচ নিউজ ডেস্কঃ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত এত রোগী প্রতিদিন হাসপাতালে আসছে যে, তাদের চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন আইসিডিডিআর’বির চিকিৎসক-নার্সরা। সিট খালি না থাকায় প্রতিদিনই অনেক রোগী ফেরত যাচ্ছেন।

আইসিডিডিআরবি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তাদের হাসপাতালে সিট খালি নেই। সব সিটে রোগী আছে। হাসপাতালের বাইরে সাতটি তাঁবুতেও রোগীদের রেখে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। এখন আর রোগীদের জায়গা দেওয়া যাচ্ছে না।

রোববার (২৭ মার্চ) দুপ‌ুরে আইসিডিডিআর’বি ঘুরে দেখা গেছে, ডায়রিয়ায় রোগীদের বেশিরভাগই শিশু ও বৃদ্ধ। হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীরা সম্মিলিতভাবে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। সেবা দেওয়ার ব্যাপারে তাদের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি দেখা যায়নি।

দুপুর ১টায় দেখা গেছে, অসংখ্য রোগী ও তাদের স্বজনরা হাসপাতালে আছেন। এসব রোগীর বেশিরভাগই সিএনজিচালিত অটোরিকশায় আসছেন। কিছু রোগী অ্যাম্বুলেন্সে করে আসছেন। কিন্তু, হাসপাতালে ঢোকার পর রোগীদের বহনের জন্য পর্যাপ্ত হুইলচেয়ার পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করছেন অনেক রোগীর স্বজন। হুইলচেয়ার না পেয়ে রোগীদের কোলে করে হাসপাতালের ভেতরে নিতে দেখা গেছে।

জরুরি বিভাগের সামনে রোগী ও তাদের স্বজনদের ভিড় দেখা গেছে। সিট খালি না থাকায় অনেক রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বিদায় দেওয়া হচ্ছে। যারা ভর্তি হতে পারছেন, তাদের স্বজনদেরকে রোগী ভর্তি করতে হাসপাতালের এদিক-সেদিক দৌড়ঝাঁপ করতে দেখা গেছে।

হাসপাতাল গেটে নিজাম নামের এক রোগী জানান, মিরপুর থেকে এসেছেন তিনি। গত ২৪ ঘণ্টায় তাকে ১০-১২ বার টয়লেটে যেতে হয়েছে। এখানে আসার পরও দুইবার টয়লেটে গেছেন। কিন্তু তাকে ভর্তি না করে ‘সিট নেই’ বলে বিদায় করে দিয়েছেন ডাক্তার। সঙ্গে মাত্র তিনটা স্যালাইন ও এক পাতা ট্যাবলেট দিয়েছেন।

নিজামের মতো অনেক রোগীকে চিকিৎসা নিয়ে পরিপূর্ণ সুস্থ হওয়ার আগেই হাসপাতাল ছাড়তে হচ্ছে। এসব বিষয়ে কোনো চিকিৎসক অফিসিয়ালি রাইজিংবিডির সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। তারা রোগীদের চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ততার দোহাই দিয়ে সরে গেছেন।

তবে কয়েকবার অনুরোধ করার পর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইসিডিডিআর’বির এক চিকিৎসক বলেন, ‘রাজধানীসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকায় ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। ঘণ্টায় ৬০ জনের বেশি রোগী আসছে। সিট থাকলে ভর্তি করা হচ্ছে। অন্যথায়, প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।’

ওই চিকিৎসক বলেন, ‘আইসিডিডিআরবির ইতিহাসে এত রোগীর চাপ দেখিনি। হাসপাতালের শয্যার চেয়ে আগত ডায়রিয়া রোগী বেশি হওয়ায় তাঁবু টাঙিয়েও রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ১৩০০ রোগী ভর্তি আছেন আইসিডিডিআরবিতে।’

পরিপূর্ণ সুস্থ হওয়ার আগেই রোগীদের রিলিজ করে দেওয়া হচ্ছে, এমন অভিযোগের জবাবে হাসপাতালের সিনিয়র ম্যানেজার (ডেভেলপমেন্ট ও কমিউনিকেশন) এ কে এম তারিফুল ইসলাম খান বলেন, ‘হাসপাতালে প্রচুর রোগী আসছেন। সিট থাকা এবং রোগীর শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে ভর্তি করা হচ্ছে। যারা বিপদমুক্ত হচ্ছেন, তাদেরকে রিলিজ করে নতুন সিরিয়াস রোগীদের ভর্তি করা হচ্ছে। এছাড়া কোনো বিকল্প নেই।’

এদিকে আইসিডিডিআরবি বলছে, সারা বছর গড়ে দৈনিক ৪০০ থেকে ৫০০ ডায়রিয়া রোগী এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। বর্ষার আগে রোগীর সংখ্যা কিছুটা বাড়ে। সাধারণত মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহে রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় থেকে শেষ সপ্তাহে রোগী চূড়ান্তভাবে বাড়ে। কিন্তু এ বছর ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে। এখনই রোগীর প্রচণ্ড চাপ আছে। আসছে বর্ষায় রোগীর এ চাপ সামলানো আরও কঠিন হতে পারে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে