টাচ নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি ড. বেনজির আহম্মেদসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরিচয় ও ছবি ব্যবহার করে হোয়াটসআ্যাপ খুলে প্রতারণার অভিযোগে নওগাঁয় আমিরুল ইসলাম (২৬) নামে এক প্রতারককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতার আমিরুল ইসলাম সদর উপজেলার খাগড়া গ্রামের আফছার আলীর ছেলে।

রোববার (২২ আগস্ট) বিকেলে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আবদুল মান্নান মিয়া।

তিনি বলেন, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজির সরকারি নম্বর দিয়ে খোলা হোয়াটসঅ্যাপ আইডিতে বেনজির আহম্মেদের ইউনিফর্ম পরিহিত ছবিযুক্ত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে ‘হাই’ মেসেজ আসে। পরে ডিআইজির মোবাইলে সেভ করা আইজিপির নম্বরের সঙ্গে কোনো মিল না থাকায় বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হয়। এরপর নিশ্চিত হওয়ার জন্য ওই হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে কল দিলে কেউ ফোন রিভিস করেনি। পরে বিষয়টি আইজিপিকে জানালে আইজিপি তাৎক্ষণিক ওই হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ব্যবহারকারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিলে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে আমাকে অবহিত করা হয়। এরপর জেলা পুলিশের সাইবার টিমের সভাপতি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজিউর রহমানের নেতৃত্বে সাইবার টিমের সদস্যরা হোয়াটসঅ্যাপ ব্যাবহারকারির পরিচয় শনাক্ত করে তাকে গ্রেফতার করে ও ব্যাবহার করা মোবাইল ফোনটি জব্দ করে।

পুলিশ সুপার বলেন, আটকের পর প্রাথমিক জিঞ্জাসাবাদে আসামি জানান, প্রায় ১০ থেকে ১২দিন আগে সে তার হোয়াটসঅ্যাপ আইডির নাম ও ছবি পরিবর্তন করে সেখানে আইজিপির ইউনিফর্ম পরিহিত ছবি এবং আইজিপির নাম ব্যবহার করে ভুয়া হোয়াটসঅ্যাপ আইডি খুলে পুলিশের বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে মেসেজ পাঠায়। পরে এসব ম্যাসেজের স্ক্রিনশট দেখিয়ে বিভিন্ন মানুষের কাছে বলে বেড়াত যে, তার সঙ্গে বড় বড় অফিসারদের সম্পর্ক আছে। পুলিশ অফিসারদের ছবি ব্যবহার করে সাধারণ মানুষদের সঙ্গে প্রতারণা ও এলাকায় প্রাধান্য বিস্তারের চেষ্টা করত সে। এমনকি এলাকার মানুষের সঙ্গে খারাপ আচরণ ও মারামারিও করত সে।

তিনি বলেন, সে কোনো পুলিশ সদস্য অথবা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা লাভ করছে কি না সে ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করতে আদালতে সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে এবং তার বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে