স্টাফ রিপোর্টার: প্রতারণা করে দ্বিতীয় বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে এক সৌদি প্রবাসীর বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, জামালপুরের মৃত নবাব আলীর ছেলে সৌদি প্রবাসী মো. কামরুল হাসানের (৪৫) সাথে রোকসানা বেগমের (৩৭) ইসলামি শরীয়ত মোতাবেক বিবাব হয়। তাদের তেইশ বছরের সংসার জীবনে তিন ছেলে সন্তান দুনিয়াতে আসে।

প্রায় সতের বছর যাবত কামরুল হাসান প্রবাসে আছেন। প্রবাসে থাকা অবস্থায় মোবাইলে ফোনে খুলনার আফিয়া অসিমা সর্নালী নামে এক মেয়ের সাথে প্রেম হয়। কামরুল আগের বিয়ের কথা লুকিয়ে সর্নালীকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেয়। সর্নালী বিয়েতে রাজি হলে কামরুল নিজের বয়স লুকোনোর জন্য পাসপোর্ট জালিয়াতি করেন। পার্সপোট স্কান করে এডিট করে বয়স কমিয়ে দ্বিতীয় বিবাহ করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কামরুলের প্রথম স্ত্রী রোকসানা বেগম জানান, প্রায় পাঁচ বছর যাবত সে আমার সাথে খারাপ আচরণ করে আসতেছে। আমি সংসার খরচ চাইলে অশ্লীন ভাষায় গাল মন্দ করেন। এছাড়াও প্রায় সময়ই আমার স্বামী আমাদের সাথে কোন সম্পর্ক রাখবে না বলে হুমকি দেয়। আমি সংসারের খরচ না চালাতে পেরে আমার বড় ভাই মিজানের বাসায় অবস্থান নেই। নেই। নেই। গত ১২ অক্টোবর ২০১৯ সালে আমার স্বামী বাংলাদেশে আসেন কিন্তু আমাদের সাথে কোন দেখা করেন নাই। প্রবাসের যাওয়ার পরে এ বিষয়ে আমার স্বামীর কাছে জানতে চাইলে আমাকে বড় ধরনের ক্ষতি করবে বলে হুমকি প্রদান করেন। আমাকে হুমকি দেওয়ার কারনে ঢাকার ভাটারা থানায় ৬ আগস্ট একটি সাধারণ ডায়রি করি। ডায়রি নং ২৫৭।

তিনি আরো জানান, তাছাড়াও আমি বিভিন্ন মানুষের কাছে শুনতে পাই আমার স্বামী খুলনার আফিয়া অসিমা সর্নালী নামে এক মেয়েকে বিয়ে করেছেন। আমি গত ৪ আগস্ট ২০২০ রাতে মোবাইলে আমার স্বামীর কাছে বিবাহের কথা জানতে চাইলে সে বিষয়টি স্বীকার করেন। এবং আমার সন্তাদের কথা দ্বিতীয় স্ত্রী সর্নালীকে বলতে নিষেধ করেন। আমার সন্তাদের কথা দ্বিতীয় স্ত্রী কোনভাবে জানতে পারলে বড় ধরনের বিপদে পরবো বলে আমার স্বামী হুমকি দেয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কামরুল হাসানের প্রথম স্ত্রীর বড় ভাই মো. মিজানুর রহমান জানান, প্রায় পাঁচ বছর যাবত কামরুলের সাথে আমার বোনের ঝামেলা চলতেছে। আমার বোনসহ তার সন্তানের কোন খোজ খবর না রাখায় আমার বাসায় তাদের রাখি। কামরুল খুলনায় দ্বিতীয় বিবাহ করেছে জানতে পেরে বিষয়টি আমি সমঝোতার চেষ্টা করি। কিন্তু সে উল্ট আমাকে হুমকি প্রদান করেন। সাথে আমার বোনের ঝামেলা চলতেছে। আমার বোনসহ তার সন্তানের কোন খোজ খবর না রাখায় আমার বাসায় তাদের রাখি। কামরুল খুলনায় দ্বিতীয় বিবাহ করেছে জানতে পেরে বিষয়টি আমি সমঝোতার চেষ্টা করি। কিন্তু সে উল্ট আমাকে হুমকি প্রদান করেন। কিন্তু সে উল্ট আমাকে হুমকি প্রদান করেন। এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলেই কামরুল বিভিন্ন অজ্ঞাত লোক দিয়ে আমাকে হুমকি দেয়। গত ১০ আগস্ট সকালে আমার বাসা থেকে বের হয়ে মেইন রাস্তায় আসলে দুজন লোক আমাকে বলে তোর বোনের বিষয়টা নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করবি না। আমি তাহাদের পরিচয় জানতে চাইলে হুমকি দিয়ে চলে যায়। তাই আমি ভাটারা থানায় ১৭ আগস্ট একটি সাধারণ ডায়রি করি। ডায়রি নং ৯০৮।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে