ছবি: ত্রিবেণী রায় তনু

সেদিন রাতের বেলা লিখতে লিখতে হঠাৎ খেয়াল করলাম, কোথা থেকে যেন একটা দমকা হাওয়া শরীরে এক দারুন আলোড়ন তৈরি করে গেল! তবে একটা বিষয় নিশ্চিত যে এটা কোনো ঝোড়ো হাওয়া কিংবা শৈত্য হাওয়া নয়।
এ যেন এক বিশালতার হাওয়া!
উদ্বিগ্ন মস্তিষ্ক শীতল করতে এর চেয়ে কার্যকরী আর কিছু হতেই পারে না!

যদি সহজ ভাষায় বলি, তবে ব্যাপারটা এমন হয়, যে “নিকৃষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের আভাস প্রদানকারী হাওয়া”।
দূর্বল চুলের জন্য ভিটামিন-ই যতটা কার্যকরী, আমার দুর্বল মস্তিষ্কের জন্য সেই আলোড়ন সৃষ্ট করা হাওয়াটার কাজ ছিল, ‘ভিটামিন-ই’ এরই মতন।

মনে হয়েছিল, অনুভূতি ও চিন্তায় জন্মানো এক বিষে বিষাক্ত কীট হতে দীর্ঘকাল পর মুক্তি পেলাম।
সেই কীট কত জঘন্যভাবে আমার প্রত্যেক শিরায় শিরায় বিষ ছড়াচ্ছিল, তা আমি এতকাল বুঝতেও পারিনি!
আপনারা বিশ্বাস করবেন কিনা জানিনা,
সেদিনের পর থেকে আর আমি কোনো মানুষকে বিচার করিনি।
কার শরীর কেমন, কার পোশাক কেমন, কার যোগ্যতা কতটুকু, কার হাঁটাচলা বা অভ্যাস কেমন ইত্যাদি নিয়ে মাথা ঘামাইনি।

আসলে কি, আমরা প্রত্যেকেই প্রয়োজনীয় সামাজিকতার আড়ালে থাকা ভিন্ন মানুষ।
মনুষ্য প্রজাতির প্রেক্ষিতে বৈশিষ্ট্যগত কিছু মিল থাকাটা স্বাভাবিক, এবং সামাজিক ক্ষেত্রগুলোতে বিশেষ নিয়মকানুনে বাধ্যবাধকতা একান্ত গুরুত্বপূর্ণ! তবুও এসকল কিছুর বাইরেও আসলে প্রত্যেকেরই একটা রঙিন নিজস্বতা রয়েছে।

দৈনন্দিন জীবনে অভিনয় করতে করতে কতজন যে তাদের সেই নিজস্বতাটুকু হারিয়েছেন, তথা হারাতে বাধ্য হয়েছেন, তার হিসেব নেই। তারপরেও কেউ যদি সেটুকু নিজস্বতা ধরে নিয়ে বাঁচতে চান, তবে আমি কেউ নই এসব নিয়ে বলার।
আমাকে এই অধিকার কে-উ দেয়নি!

আমি আজন্ম কৃতজ্ঞ থাকব সেই বিপ্লবী দমকা হাওয়ার প্রতি, যেই হাওয়ার জন্যই দূর হয়েছে আমার মনে জন্মে থাকা সেই উচ্ছিষ্টগুলি!

লেখাঃ ত্রিবেণী রায় তনু। শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে