টাচ নিউজ ডেস্কঃ দেশের উত্তরের প্রান্তিক জেলা পঞ্চগড়ে কয়েক দিন ধরে জেঁকে বসেছে শীত। মাঘ মাসের শুরু থেকে এ জেলায় কনকনে শীত অনুভূত হচ্ছে। আর শীতের দাপটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন জেলার ৫ উপজেলার অসহায় ও খেটেখাওয়া মানুষ। শীতের কারণে কাজ করতে না পারায় অনেক কষ্টে জীবন-যাপন করছেন তারা।

রোববার (৩০ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকেন্দ্রে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা সারাদেশের মধ্যে সর্বনিম্ন।

এদিকে সরেজমিনে দেখা যায়, শনিবার বিকেলের পর থেকে এ জেলার ওপর দিয়ে হিমেল হাওয়া বইতে শুরু করে। সঙ্গে ঘন কুয়াশা আচ্ছাদিত থাকে; যা স্থায়ী থাকে আজ সকাল পর্যন্ত। তবে বেলার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশা কাটিয়ে খানিকটা সূর্যের মিষ্টি হাসি দেখা মিললেও তেমন উত্তাপ থাকছে না। তবে এ জেলায় ওপর দিয়ে সবসময় হিমেল বাতাস বয়ে যাচ্ছে। ফলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছে।

কনকনে শীতে সবচেয়ে দুর্ভোগে পড়েছে জেলার গরিব, অসহায় শীতার্ত মানুষ। তারা কনকনে শীতে তেমন কাজ করতে পারছেন না, আর যারা কাজের সন্ধানে বের হয় বাড়ি থেকে তাদের অনেকেই কাজ করতে পারলেও কেউ কেউ কাজ না পেয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। তবে তাদের অভিযোগ, প্রতিবছর শীতবস্ত্র বিতরণ করা হলেও তাদের ভাগ্যে জুটে না বলে দাবি এসব মানুষের। অন্যদিকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দিন দিন শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিস বলছে, কয়েক দিন ধরে উত্তর দিক থেকে বয়ে আসা হিমালয়ের হিম বাতাসের কারণে এ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তাপমাত্রা ওঠানামা করছে। তবে তাপমাত্রা আরও হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, উপ-মহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।

আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। টাঙ্গাইল, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, রাঙ্গামাটি, ফেনী, মৌলভীবাজার, যশোর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, বরিশাল এবং ভোলা, সীতাকুণ্ড উপজেলাসহ রংপুর এবং রাজশাহী বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর ইউনিয়নের ভেলুপাড়া এলাকার বাসিন্দা আশরাফ আলী বলেন, কয়েক দিন ধরে আমাদের এলাকায় কনকনে শীত অনুভূত হচ্ছ। সময়মতো আমরা কাজে যেতে পারি না। ফলে কাজ না পেয়ে বেকার সময় পার করতেছি।

একই কথা বলেন মহানন্দা নদীতে পাথর উত্তোলন করতে আসা পাথরশ্রমিক রবিউল ইসলাম। তিনি বলেন, সকাল থেকে কনকনে শীত অনুভূত হচ্ছে। নদীর পানি অনেক ঠান্ডা যার কারণে এখনও নদীতে নামতে পারিনি। পাথর উত্তোলন করতে না পারলে পরিবার-পরিজন নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে। তাই শীতে কামড়ের চেয়ে পেটের কামড়ের কষ্ট আমার কাছে বেশি।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, জেলার ৫ উপজেলার ৪৩ ইউনিয়ন ও ৩ পৌরসভায় এ পর্যন্ত ৩৪ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। প্রকৃত গরিব, অসহায় ও শীতার্ত মানুষদের মধ্যে এসব শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। শীতবস্ত্র চেয়ে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। তবে শীতবস্ত্র প্রতিদিনই বিতরণ করা হচ্ছে জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

এ বিষয়ে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাসেল শাহ বলেন, রোববার সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। যা সারাদেশের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে