টাচ নিউজ ডেস্ক

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ঘোষণা করেছেন, আবার ক্ষমতায় এলে জর্দান উপত্যকা ইসরাইলের ভূখণ্ডের সাথে একীভূত করে নিবেন। আগামী সপ্তাহে ইসরাইলের জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর এই নির্বাচনে জেতার জন্য জর্দান উপত্যকা ‘দখল’ করার অঙ্গীকার করে ভোটারদের মন জয় করতে চাইছেন।

মৃত সাগরের উত্তর দিকে পশ্চিম তীর ও জর্দান সীমান্তবর্তী একটি ভূখণ্ড জর্দান উপত্যকা। যেটি বর্তমানে পশ্চিম তীরের সঙ্গে যুক্ত। এলাকাটিতে বেশ কিছু ইহুদি বসতি স্থাপন করেছে ইসরাইল।

নেতানিয়াহু মঙ্গলবার এক বক্তৃতায় বলেন, জুদিয়া ও সামারিয়া এলাকার বসতিগুলোর ওপর ইসরাইলি স্বার্বভৌমত্ব প্রয়োগের জন্য ফিলিস্তিন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি পরিকল্পনা একটি ঐতিহাসিক সুযোগ। উত্তর ও দক্ষিণ পশ্চিমতীর বিষয়ে- জুদিয়া ও সামারিয়া নাম দুটি ইহুদিদের ধর্মগ্রন্থে উল্লেখিত। তাই সেই নামদুটিই ব্যবহার করেছেন নেতানিয়াহু।

ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, কয়েক মাসের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর যে শান্তি পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে সেটি উপস্থাপনের জন্য তিনি অপেক্ষা করছেন। অন্যথায় বিলম্ব না করেও জর্দান উপত্যকা ইসরাইলের সাথে একীভূত করে নিতে পারেন।

ইসরাইল আগেও অনেকবার তাদের নিরাপত্তার জন্য জর্দান উপত্যকার গুরুত্বের কথা উল্লেখ করেছে।

এদিকে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানয়াহুর এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মাদ সাত্তেহ। তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, নেতানিয়াহুর নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হতে পারে না ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড।

নেতানিয়াহুর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে তুরস্কও। তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসগলু মঙ্গলবার নেতানিয়াহুর এই বক্তব্যকে অবৈধ, বেআইনি ও আগ্রাসী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, একটি বর্ণবাদী ও জাতিবিদ্বেষী রাষ্ট্রের এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ যোগ্য নয়।

আরব লিগের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও এক বিবৃতিতে এই বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছেন।

২০০৯ সাল থেকে টানা ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসছেন লিকুদ পার্টির নেতা বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু। এর আগে ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৯ পর্যন্তও প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ইসরাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশিদিন প্রধানমন্ত্রী থাকার রেকর্ড তার।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে