টাচ নিউজ ডেস্কঃ ঝালকাঠিতে পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টার দিকে  জেলার নলছিটি উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দক্ষিন পশ্চিমে ছোট্ট একটি সাজানো গোছানো গ্রাম হাড়িখালি।

গাছ,মাছ,খাল,বিল,ধান প্রকৃতির এক অপরূপ পল্লী জনপদ হাড়িখালি গ্রাম।হাড়িখালি গ্রামের প্রধান পাকা সড়কের উত্তর দিকে শেষ প্রান্তে ইট সলিং রাস্তা সংলগ্ন খালের পাড়ে হতদরিদ্র কৃষক ও ছোট্ট চা পানের দোকান আলমগীর জোমাদ্দারের বাড়ি। বাড়ির সামনে পূর্ব দিকে উঠান, এরপর সড়ক সংলগ্ন খাল। বাড়ির পিছনে পশ্চিম, দক্ষিণ ও উত্তরদিকে আবাদি জমিন।

বাড়িতে থাকেন আলমগীর জোমাদ্দার(৩৫), স্ত্রী রিনা বেগম,(২৬)পুত্র নুর হোসেন(০৫) ও তাদের আদরের কন্যা আমিনা দেড় বছর। অস্বচ্ছল এই পরিবারটির দুই সন্ত্রানকে নিয়ে অনেকটা সুখে দুঃখে দিন কাটছিল।

প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে কৃষি কাজ সেরে দোকানে বসতেন গৃহকর্তা আলমগীর।হঠাৎ করে গত ৫ জানুয়ারি পরিবারটিতে নেমে আসে শোকের ছায়া। প্রতিদিনের মতো কৃষি কাজ সেরে সকাল ৮টার দিকে ঘরের সামনে দোকানে বসেন আলমগীর। দোকানে বসে জানতে পারেন ছোট কন্যা আমিনাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না,সে খালে পাড়ে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন। এলাকাবাসী পানিতে খুঁজে না পেয়ে নলছিটি ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের খবর দেয়।

পরে ফায়ার সার্ভিস এসে উদ্ধার করতে না পেরে বরিশালের ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলকে খবর দেয়। তারা ২ ঘণ্টা খোঁজাখুঁজি করে হাড়িখালি-দেলদুয়ার খাল থেকে আমিনার মৃতদেহ উদ্ধার করে।
এসব দেখে হতবাক আলমগীরের মাথায় যেনো আকাশ ভেঙ্গে পড়ে।

১৭ মাস বয়সী শিশুসন্তানের নানা ধরনের স্মৃতি ভাসতে থাকে তাদের চোখের সামনে।ঘটনার দিনের বিভিন্ন স্মৃতি কথা এভাবেই বর্ননা করছিলেন সন্তানহারা পিতা আলমগীর জোমাদ্দার।

পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যু এখন দেশের বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্র ঘটছে। কিন্তু আলমগীরের পরিবার তা নিয়ে ভাবছে না। তাদের ভাবনার ঘোরপাক খায় কেবলই মাত্র ১৭ মাস বয়সের হারানো শিশুর মুখ। মা রিনা বেগমের মুখে আমিনাকে হারানোর হাহাকার। খোদা কেনো তার বুকের ধন এভাবে কেড়ে নিলো।

কিভাবে খালের পানিতে শিশুটি পড়ে গেল জানতে চাইলে শিশুটির মা রিনা বেগম হাউমাউ করে কেঁদে বলেন, প্রতিদিনে মত ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টার দিকে মেয়েকে রোদে বসিয়ে ঘরের কাজ করছিলাম। এসময় বাড়ির উঠানে ছেলে নুর হোসেন ও বোন আমিনা খেলছিল।আমি ঘর থেকে দুই ছেলে মেয়েকে দেখতেও পাচ্ছিলাম। ১৫-২০ মিনিটের ব্যবধানে মেয়ে আমিনাকে দেখতে না পেরে খুঁজতে শুরু করি। পিছনের বাগান,বাবার দোকান ও আশপাশে খুঁজে না পাওয়ায় আমার মনে খটকা লাগে। নিরুপায় হয়ে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করি। এলাকাবাসী এসে নিশ্চিত হয়ে খালের পানিতে পড়ে গেছে।

শিশুটির বাবা আলমগীর জোমাদ্দার বলেন, প্রতিদিনের মতো সকালে পারিবারিক কাজ সেরে দোকানে যাওয়ার সময় ওদের দুই ভাই বোনকে উঠানে খেলাধুলা করতে দেখি। ঘটনার দিন কিভাবে যে কি হলো বুঝলাম না। আলমগীরের বক্তব্য, আল্লাহর মাল আল্লাহ নিয়ে গেছে। এই দুর্ঘটনার পর তার মনে হয়নি বাড়িতে স্ত্রী কিম্বা তার পরিবারের কোন অবহেলা ছিলো।

তিনি আরো বলেন, “আল্লাহর মাল আল্লাহ নিয়ে গেছেন” এখানে মানুষের কারো হাত নেই!

বাড়ির ৪ সদস্যের মধ্যে ১৭ মাসের কন্যা শিশু আমিনা ছাড়া সবাই সাঁতার জানেন।হাড়িখালি গ্রামটিতে কোন নদী না থাকলেও খাল এবং পুকুর থাকায় ছোট বেলা থেকেই সবাই পুকুরেই সাঁতার শিখে। আমিনার বয়স পাঁচ বছর হলে সেও সাঁতার শিখে যেতো। তাহলে হয়তবা আর এমন বেদনাময় কষ্টের ইতিহাসের সাক্ষী হতে হতো না গ্রামবাসীকে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে