সোহাগ শরীফঃ অ্যাকুরিয়ামে চাষযোগ্য বিদেশি ক্ষতিকর সাকার ফিসে সয়লাব দেশের বিভিন্ন নদনদী, হাওর ও জলাশয়। এই মাছটি উন্মুক্ত জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়ায় দেশীয় প্রজাতীর মাছ হুমকির মুখে পড়ছে।

মাছটির বৈজ্ঞানিক নাম হিপোসটোমাস প্লেকোসটোমাস। মাছটি সাকার মাউথ ক্যাটফিস (সাকার) নামেই পরিচিত। সাকার মাছ বাড়ি বা অফিসে রাখা অ্যাকুরিয়ামের শোভাবর্ধন জন্য রাখা হত। মাছটিকে অনেকে চেনে অ্যাকুয়ারিয়ামে মাছের ময়লা খেকো মাছ হিসেবে। কারণ শোভাবর্ধনের পাশাপাশি মাছের বর্জ্য এবং অ্যাকুরিয়ামের অন্যান্য ময়লা খেয়ে ফেলে এই মাছ। অনেকে শুরুর দিকে অ্যাকুরিয়াম ফিশ হিসেবে পালন করলেও পরবর্তীতে মাছটি বড় হয়ে গেলে পুকুর বা ডোবায় ছেড়ে দেন। সেখানে মাছটি নতুন পরিবেশে খাপ খেয়ে বংশ বিস্তার শুরু করে। দেশে এর ব্যাপক বিস্তার ঘটলে মৎস্য খাত হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন গবেষকরা। দেশীয় প্রজাতির মাছের ক্ষতি সাধন হয় এমন যে কোন বিদেশি মাছ চাষ বাংলাদেশে দণ্ডনীয় অপরাধ।

দেশের বিভিন্ন নদ-নদী, হাওর ও উন্মুক্ত জলাশয়ে ভংকর সাকার ফিস ছড়িয়ে পড়ায় দেশীয় প্রজাতির অনেক মাছ খেয়ে শেষ করে দিচ্ছে। এটি চিংড়ি, কালি বাউস, মাগুর ও শিং মাছসহ ছোট শামুক জাতীয় শক্ত খোলের প্রাণী খেয়ে সাবাড় করে ফেলে।

তথ্যমতে, সাকার ফিস জলজ পোকামাকড় ও শেওলার পাশাপাশি ছোট মাছ এবং মাছের পোনা খেয়ে থাকে। তা ছাড়া সাকার ফিসের পাখনা খুব ধারালো। মাছের সঙ্গে লড়াই করার সময় ধারালো পাখনার আঘাতে সহজেই অন্য মাছের দেহে ক্ষত তৈরি হয় এবং পরবর্তী সময়ে পচন ধরে সেগুলো মারা যায়। সাকার ফিস রাক্ষুসে প্রজাতির না হলেও প্রচুর পরিমাণে খাবার ভক্ষণ করে। এতে খাদ্যের জোগান নিয়ে তীব্র প্রতিযোগিতা তৈরি হয় অন্য মাছের সঙ্গে। বেশিরভাগ সময়ই দেশীয় প্রজাতির মাছ সাকার ফিসের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে না পেরে জলাশয় থেকে ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যায়।

মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মাছটি অ্যাকুয়ারিয়ামের জন্য ভালো। এটি অন্যান্য মাছের আবর্জনা ও শ্যাওলা খেয়ে অ্যাকুয়ারিয়ামের পরিবেশ ভালো রাখে। কিন্তু উন্মুক্ত পরিবেশের জন্য এই মাছটি খুবই ক্ষতিকর। সেজন্য কোথাও উন্মুক্ত জলাশয়ে এই মাছ পাওয়া গেলে ধ্বংস করতে হবে।

এসএস//

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে