বীর মুক্তিযোদ্ধা তাজুল ইসলাম: বর্তমানে দেশে যে অশান্তি বিরাজ করছে, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার উত্তেজনা বিরাজ করছে এ সকল কিছুর পেছনে রয়েছে একদল স্বার্থবাদী লোকের হাত। ধর্মীয় বিশ্বাসের অপব্যবহার করে তারা নিজেদের ফায়দা লুটে নেওয়ার চেষ্টা করছে। আন্দোলনের নামে মানুষ পুড়িয়ে যখন সফল হতে পারেনি, তখন তারা ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষকে দিয়ে দেশে অশান্তি তৈরির চেষ্টা করছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক, ইউটিবে অনেক আগে থেকেই উসকানিমূলক প্রচারনা চালচ্ছিলো বিএনপি। সাময়িক নানা ইস্যু তৈরি করে বিদেশের মাটিতে বসে এদেশের সহজ সরল মানুষে মস্তিষ্ক নিয়ে খেলছে তারা।

প্রবাসী সাংবাদিক কনক সারওয়ার, কর্নেল শহীদ উদ্দিন খানসহ বিদেশে পলাতক সাজাপ্রাপ্ত দেশদ্রোহী সামরিক কর্মকর্তা থেকে শুরু করে বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত কিংবা আইনের চোখে অপরাধী ব্যক্তিরা এখন জোট বেঁধেছে। তারা তাদের কু-কর্মের কারণে এ দেশে থাকতে পারছেন না বলে দেশের মানুষের সুখ-শান্তি তাদের সহ্য হচ্ছে না। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক তো নিজেকে এ দেশের নাগরিক বলে পরিচয়ও দেন না। তার নাকি লন্ডনে নাগরিক্ত রয়েছে। তবে কি করে তারা দাবি করে তারা এদেশের মানুষের ভালো চায়। আপনার যদি দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চান, তবে দেশে বাইরে পড়ে আছেন কেন? কেনই বা মিথ্য উসকানিমূলক তথ্য দিয়ে দাঙ্গা ছড়াতে চাইছেন।

বাংলাদেশ একটি শান্তি ও সম্প্রীতির দেশ। দেশে বেশ কিছুদিন বিএনপি-জামায়াত তর্জন-গর্জন দিচ্ছিল। ঢাকা দখল করতে আন্দোলন-হুমকির কথা বলেছিল। কিন্তু তারা দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে বাঙালির একটি ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজাকে ব্যবহার করতে চেয়েছে।

বিএনপির যেসব নেতারা বাংলাদেশে আছেন তারা প্রতিদিন টিভিতে আসছেন, টক শো করছেন। আবার তারাই বলেছেন, মিডিয়ার কণ্ঠরোধ করছে সরকার। মূল কথা হলো বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে খালেদা জিয়া আর তারেক রহমানের নানা দুর্নীতি-অপকর্মের কারণে তারা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। জনগণ এখন আর তাদের ডাকে সাড়া দেয় না। তাই দেশ-বিদেশে বসে বিএনপি এখন মিথ্য প্রপাগন্ডা ছড়ায়, দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করে আন্দোলনের নামে মানুষ পোড়ানোর রাজনীতি করতে চায়।

তবে যারা দেশের সহজ সরল মানুষকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে দেশের শান্তি বিঘ্ন করতে চাইছে তাদের জেনে রাখা উচিত এটা বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ। অসাম্প্রদায়িক এ দেশে ধর্মের দোহাই দিয়ে মানুষকে বোকা বানানো যাবে না।

লেখক: সভাপতি, সুইজারল্যান্ড আওয়ামী লীগ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে