টাচ নিউজ ডেস্কঃ ভর্তুকি সামাল দিতে গ্যাসের দাম বাড়ানোর চিন্তা করছে সরকার। এলক্ষ্যে বিতরণ কোম্পানিগুলো গ্যাসের দাস বাড়ানোর প্রস্তাব তৈরি করে তা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে জমা দেওয়া শুরু করেছে।

বিইআরসি সূত্র জানিয়েছে, এরমধ্যেই বিতরণ সংস্থা বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড তাদের প্রস্তাব জমা দিয়েছে। কোম্পানিটি দেশের নোয়াখালী, কুমিল্লা এবং চাঁদপুর জেলায় গ্যাস বিতরণ করে থাকে।

বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড তাদের প্রস্তাবে এক চুলা ৯২৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা এবং দুই চুলা ৯৭৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২১০০ টাকা নির্ধারণ করার কথা বলেছে। এছাড়া আবাসিক পর্যায়ে প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারী গ্রাহকদের প্রতি ঘনমিটারের বর্তমান মূল্য ১২.৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৭.৩৭ টাকা নির্ধারণ করার প্রস্তাব করেছে। সিএনজি প্রতি ঘনমিটার ৩৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭৬.০৪ টাকা, হোটেল রেস্টুরেন্টে ২৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৯.৯৭ টাকা, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে ১৭.০৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৭.২ টাকা, ক্যাপটিভ পাওয়ারে ১৩.৮৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০.০৯ টাকা এবং চা শিল্পে ১০.৭০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৩.২৪ টাকা করার প্রস্তাব করেছে। আরও প্রস্তাব করা হয়েছে বিদ্যুৎ ও সার কারখানায় থাকা বর্তমানে ৪.৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯.৬৬ টাকা।

এছাড়া প্রতি ঘনমিটার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি খরচ ৩৬ দশমিক ৬৯ টাকা। কিন্তু মুসক, অগ্রিম আয়কর, ফিন্যান্সিং চার্জ, ব্যাংক চার্জ, কমিশন, রি- গ্যাসফিকেশন চার্জ, ভোক্তা পর্যায়ে উৎসে কর সব মিলিয়ে মোট খরচ ৫০.৩৮ টাকা। এই বাড়তি মূল্য বিতরণ কোম্পানির ওপরে বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে কারণে ভোক্তা পর্যায়ে দাম না বাড়িয়ে বিকল্প উপায় দেখছে না কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, ভর্তুকির চাপ কমাতে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারের দাম বাড়ানোর চিন্তা করছে সরকার। গ্যাস ও বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়াতে এরমধ্যেই পেট্রোবাংলা সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোকে আনুষ্ঠানিক নোটিশ পাঠিয়েছে। এর অংশ হিসেবে সোমবার (১৭ জানুয়ারি) বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। অন্যান্য কোম্পানিগুলোকেও দ্রুত প্রস্তাব পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে পেট্রোবাংলা। সূত্রে জানা গেছে, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই সকল কোম্পানির প্রস্তাব বিইআরসিতে জমা পড়বে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে