টাচ নিউজ ডেস্কঃ ঈদের ছুটি শুরুর আগেই দুর্ভোগ শুরু হয়েছে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে। দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশদ্বার খ্যাত দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে গত ২ সপ্তাহ ধরে সৃষ্ট হওয়ায় যানজট এখনো বিদ্যমান। যার কারণে চালক ও যাত্রীরা পড়েছেন দুর্ভোগে। যাত্রীদের দাবি, ঈদের সময় যারা বাড়ি ফিরবেন তাদের এই নৌপথে মারাত্মক দুর্ভোগের মধ্যে পরতে হতে পারে।

রবিবার (২৪ এপ্রিল) সকাল থেকে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ‘ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা খুলনা মহাসড়কের প্রায় ৪ কিলোমিটার জুড়ে সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে পণ্যবাহী ট্রাক। সকালের দিকে যাত্রীবাহী বাসের সিরিয়াল না থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দীর্ঘ হয়েছে বাসের সারিও। এই প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে প্রায় আড়াই কিলোমিটার অংশ জুড়ে যাত্রীবাহী বাসের সিরিয়াল রয়েছে।

রোজা রেখে ও তীব্র গরমে কষ্ট পেতে দেখা গেছে যাত্রী ও চালকদের। ফেরির নাগাল পেতে ঘাট এলাকায় যাত্রীবাহী বাসকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে তিন থেকে ৪ ঘণ্টা। আর সেখানে পণ্যবাহী ট্রাকের সময় লাগছে ২৪ ঘন্টার মতো।

এদিকে ঈদের পূর্বপ্রস্তুতি হিসাবে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ২১ টি ফেরি চলাচলের কথা থাকলেও এখনো এসে যুক্ত হয়নি অতিরিক্ত ২টি ফেরি। ফলে বর্তমানে পাটুরিয়া- দৌলতদিয়া নৌরুটে ১৯টি ফেরি রয়েছে। এর মধ্যে আবার দুটি ফেরি মেরামতে পাঠানো হয়েছে। যার কারণে ১৭ টি ফেরি দিয়ে পারাপার করা হচ্ছে যানবাহন ও যাত্রীদের।

ঘাট সংশ্লিষ্টরা জানান, নষ্ট দুটি ফেরি মেরামত কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। এছাড়া নতুন দুটি ফেরি এই নৌরুটে যোগ দেবে। অথ্যাৎ ৪ টি ফেরি সংযুক্ত হলে এই যানজট কিছুটা কমবে। ঘাট কর্তৃপক্ষ এর আগে ৫ টি ঘাট সচলের কথা বললেও সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায় ৪টি ঘাট সচল রয়েছে।

বিআইডাব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) প্রফুল্ল চৌহান বলেন, ‘ঈদের ৩ দিন আগ থেকে অপচনশীল পণ্য পরিবহনকারী ট্রাক পারাপার বন্ধ থাকবে। তাই এই ট্রাকগুলো এখনই পার হচ্ছে বলে যানজট বাড়ছে। আর ১৭টি ফেরির সঙ্গে ৪ টি ফেরি যোগ হলেও এই যানজট দ্রুত কেটে যাবে।’

একটি ট্রাকের চালক হাফিজ বলেন, ‘রাত ৩ টার সময় ঘাটে এসেছি। এখনো ফেরির নাগাল পাই নাই। যাত্রীবাহী বাস ছাড়তেছে কিন্তু আমাদের ছাড়তেছে না। এই তীব্র গরমে গাড়ির মধ্যে টিকে থাকা অসম্ভব।’

হানিফ পরিবহনের চালক আফজাল বলেন, ‘এখুনি যদি এরকম অবস্থায় হয় তাহলে ঈদের ছুটি বাড়লে তখন অবস্থা আরো খারাপ হবে।’

এদিকে লঞ্চঘাটের সংযোগ সেতু ভাঙ্গা থাকায় লঞ্চ পারাপারের ক্ষেত্রেও দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন যাত্রীরা। ঈদকে সামনে রেখে এই ঘাটে ৩৩ টি লঞ্চ চলাচল করবে বলে জানিয়েছে বিআইডাব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ। তবে, সংযোগ সেতুর বিষয়ে বিআইডাব্লিউটিএ’র উদাসিনতা ক্ষোভ বাড়িয়েছে যাত্রীদের।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে