নওশাদ হোসাইন: কোথায় বসবাস করছি আমরা, কেন আমাদের জীবন নিয়ে এভাবে খেলা করা হচ্ছে, বাংলাদেশে এখন সব থেকে আলোচিত বিষয় হচ্ছে ডেঙ্গু, যে রোগে আক্রান্ত হওয়ার পরপরই খুব দ্রুত মানুষ মৃত্যুর কোলে ঝুঁকে পড়ছে, ৩১শে জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে ১৪ জন মৃত্যুবরণ করেছেন,ঠিক ৩১শে জুলাই রোজ বুধবার ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল শরীয়তপুরের জাজিরার বর্ষা আক্তারের। পেশায় তিনি একজন স্কুল শিক্ষিকা ছিলেন, মৃত্যুকালে তিনি তার 6 বছরের ছেলে আফরিন রহমান ও দের বছরের এক দুধের শিশুকে রেখে যান। তার স্বামী শাহেদ আলী নারায়ণগঞ্জের সোনালী ব্যাংকে চাকরি করেন।

গত জুলাই মাসে রেকর্ডসংখ্যক ১৫ হাজার ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়। ২৯শে জুলাই সোমবার সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৪৭৭ জন, যা প্রতি ঘন্টায় ৬২ জন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।যেখানে গত বছর ২০১৮ সালে ১০ হাজার ১৪৮ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নেয়, সেখানে ২০১৯ চলতি বছরের এখনো ৫ মাস বাকি থাকতেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১৭ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এই অবস্থায় দেখা যায় বিভিন্ন হসপিটাল থেকে শুধু জুলাই মাসেই ১৫ হাজার রোগী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নেন। এবং এসব রোগীরা সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন হসপিটালে ভর্তি হন।

এর সাথে সাথে চিকিৎসাবিদরা বলছেন আগস্টে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্তের সংখ্যা আরো ছাড়িয়ে যাবে।এদিকে আমাদের দেশে যে কোন বিষয়ে মৃতের সংখ্যা নিয়ে সর্বদাই একটা ধোঁয়াশা থেকে যায়, এ পর্যন্ত বেসরকারি হিসাব মতে মৃতের সংখ্যা অর্ধশতাধিক বললেও আমাদের দেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর রোগ তথ্য, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আই ডি সি আর ) এর তথ্য মতে ৩১ শে জুলাই পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১৪ জন বলা হয়েছে। যার মধ্যে শুধু জুলাই মাসেই মারা গেছে ১০জন।

আমরা এমন এক পরিস্থিতিতে বসবাস করছি, যেখানে ডেঙ্গু বিশেষজ্ঞরা বলেই যাচ্ছেন আগস্ট মাসে এই পরিস্থিতির আরো অবনতি হবে, কিন্তু নগরপিতাদের তা নিয়ে কোন মাথা ব্যথা নেই, তারা এটাকে এক প্রকার গুজবই মনে করে নিচ্ছেন, যেখানে দেশের শীর্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০০ শিক্ষার্থী ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত, সেখানে আমাদের নগর পিতারা কনসার্টের আয়োজন করেন এমন নিউজও আমরা দেখতে পাই। বাংলাদেশে এখন বর্ষাকাল, কখনো রোদ কখনো বৃষ্টি, খানিক থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে আর জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে, এবং এতে করেই বেড়ে যাচ্ছে ডেঙ্গু মশার প্রজনন।চিকিৎসা বিদদের সাথে সাথে সারাদেশের মানুষের যখন একটাই চাওয়া পর্যাপ্ত কার্যকর ওষুধ ছিটিয়ে ডেঙ্গু নিধন করা, কিন্তু সিটি কর্পোরেশন একদমই আমলে নিচ্ছেন না এমনটাই দেখা যাচ্ছে শহর ঘুরে। পাড়া মহল্লার অলিগলি ঘুরে বিভিন্ন জায়গায় এখনো ময়লার স্তুপ দেখা যায়।হয়তো তারা ভাবেন সাধারন জনতা মরলে তাদের ক্ষতি নেই, যারা সন্তান হারা হন,আর যে সকল সন্তানরা তাদের মা বাবাকে হারিয়ে এতিম হয়ে রয় তাদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার ক্ষমতা এই সিটি কর্পোরেশনের নেই। তাইতো তারা মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ দিয়ে জনগণের চোখে ধুলো দিচ্ছেন, বাজেটের টাকায় কাজ না করে কেড়ে নিচ্ছেন এক একটা তাজাপ্রাণ।

ডেঙ্গুর চিকিৎসা খরচ মেটাতে অধিকাংশ পরিবার যেখানে হিমশিম খাচ্ছে,সেখানে সিটির দায়িত্বে থাকা মেয়েরা দিব্যি এসি রুমে বসে বলে দিচ্ছেন এগুলো গুজব,তবে সাধারন জনগন মনে করেন ভিআইপি বা দায়িত্বশীলদের পরিবারের কেউ আক্রান্ত না হলে তাদের টনক নড়বে না, তবে কি এদেশে সাধারণ জনগণের কোন মূল্য নেই? প্রশ্নটা থেকেই গেল। কলেজ ভার্সিটির প্রতিটা শিক্ষাঙ্গনের শিক্ষার্থীরা হোস্টেলে আতঙ্কিত জীবন-যাপন করছেন, কখন না জানি তারা ঐ মহামারি ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে যান।

তাই প্রতিটা শিক্ষার্থীর দাবি, প্রতিটা পরিবারের দাবি, প্রতিটা জনসাধারণের দাবি, অতি শীঘ্রই আমাদের নগর পিতারা যেন এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে মহামারী আকার ধারণ করা ডেঙ্গু নামক মৃত্যুকূপ থেকে নগরবাসীকে মুক্তি দেন। শহরকে পরিষ্কার রেখে এডিস মশার ওষুধ প্রয়োগ করে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন এটাই জনতার একমাত্র প্রত্যাশা। নিধন হোক এডিস মশা, বেঁচে থাকুক সর্বস্তরের সাধারণ জনতা।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে