টাচ নিউজ ডেস্ক: দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় জামিন পেয়েছেন পিরোজপুর পৌরসভার মেয়র হাবিবুর রহমান ওরফে মালেক ও তাঁর স্ত্রী নিলা রহমান।

সোমবার দুপুরে পিরোজপুরের জেলা ও দায়রা জজ এবং বিশেষ জজ মুহাম্মদ মুহিদুজ্জামান শুনানি শেষে তাঁদের জামিন মঞ্জুর করেন।

পৌর মেয়র হাবিবুর ও তাঁর স্ত্রীর আইনজীবী মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, শুনানি শেষে বিচারক আসামিদের বিরুদ্ধে দুদকের অভিযোগপত্র দাখিলের আগপর্যন্ত তাঁদের জামিন দেন। মামলায় পরবর্তী হাজিরার তারিখ আগামী ২০ অক্টোবর।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ মার্চ বরিশালে দুদকের সম্বনিত কার্যালয়ে পৌর মেয়র হাবিবুর রহমান, তাঁর স্ত্রী নিলাসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেন দুদকের উপপরিচালক আলী আকবর। এর মধ্যে একটি মামলায় পৌর মেয়র ও তাঁর স্ত্রীকে এবং অন্য মামলায় মেয়র ছাড়াও পৌরসভার ২৭ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আসামি করা হয়েছে। ২৮ মার্চ এই মামলায় মেয়র ও তাঁর স্ত্রী হাইকোর্টে হাজির হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে আগাম জামিনের আবেদন করেন।

বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীমের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চ্যুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ পাঁচ সপ্তাহের জন্য তাঁদের জামিন দেন। এরপর উচ্চ আদালত থেকে দেওয়া জামিন ও অন্তর্বর্তীকালীন আদেশগুলোর কার্যকারিতা ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত করা হলে সোমবার পৌর মেয়র ও তাঁর স্ত্রীর জামিনের শুনানির দিন ধার্য করেন পিরোজপুরের বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মুহিদুজ্জামান।

দুদক সূত্র জানায়, একটি মামলায় মেয়র হাবিবুর ও তাঁর স্ত্রী নিলার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ৩৬ কোটি ৩৪ লাখ ৭ হাজার ৯৩২ টাকার সম্পদ থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। অপর মামলায় মেয়র হাবিবুর, কাউন্সিলর ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি আবদুস সালাম ওরফে বাতেনসহ পৌরসভার ২৭ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি নিয়োগে অবৈধভাবে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়।

এ মামলায় অন্য আসামিরা হলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপপরিচালক (সাবেক) তরফদার সোহেল রহমান, পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আবু হানিফ, সচিব (অন্যত্র বদলি) মাসুদ আলম, হিসাবরক্ষক মাইনুল ইসলাম, সহকারী কর আদায়কারী মাহবুবুর রহমান, নিম্নমান সহকারী শারাফাতুন মান্নান, সহকারী কর নির্ধারক ওয়াদুদ খান, সহকারী কর নির্ধারক মিজানুর রহমান, টিকাদানকারী ফরহাদ হোসেন মল্লিক, সহকারী কর আদায়কারী মেহেদি হাসান, সহকারী কর আদায়কারী রাশিদা বেগম, বাজার আদায়কারী রাজু আহমেদ, বাতি পরিদর্শক রবিউল আলম, অফিস সহকারী মাকসুদা খানম, ফটোকপি অপারেটর আনোয়ার হোসেন, টিকাদানকারী জামিউল হক, টিকাদানকারী লাইজু আক্তার, টিকাদানকারী রোকসানা মজুমদার, টিকাদানকারী জান্নাতুল ফেরদৌসী, নৈশপ্রহরী ফজলুল হক, নজরুল ইসলাম, পিয়ন খাদিজা বেগম, দীপক কুমার পাল, সহকারী কর আদায়কারী মিজানুর রহমান ও প্রহরী রণজিৎ।

দুদকের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন মনসুর আহমেদ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে