নজিব আকবরঃ বেকারত্ব নিয়ে অনেক আলাপ হলেও ফল পাওয়া যাচ্ছে না কারণ যারা এগুলো শুনার কথা তারা ভাবতে থাকেন যে , তারা যা বলেন তাই সঠিক অন্যকারো কথা শুনার প্রয়োজন নাই। এটা আমাদের বড় একটা সমস্যা।

বেকারত্ব সমস্যা আয়ত্তে আনতে আমাদের ৩ পথ অবলম্বন করা উটিত বলে আমি মনে করি। প্রথমতঃ

, তরুণদের কাজে দক্ষ হতে হবে। এ লক্ষ্যে প্রতিটি জেলা উপজেলায় দক্ষ জনশক্তি তৈরির জন্য সরকারি-বেসরকারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে। যেখান থেকে দক্ষতা অর্জন করে মানুষ দক্ষ জনশক্তিতে রুপান্তর হবে।

দ্বিতীয়তঃ আমাদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করতে হবে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করতে হলে প্রথমেই চাকুরীর সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। শুধু তাতেই হবে না এ সুযোগের বাস্তবায় করতে হবে। জীবনে প্রথম গিয়েছিলাম ঢাকার ফার্মগেইটে একটি বেসকাররি প্রতিষ্ঠানে চাকুরীর ইন্টারভিউ দিতে। গিয়ে শুনেছিলাম সেখানে ওই অফিসের কেউ নেই, আশেপাশের লোকজন বলেছিলো তারা নাকি চাকুরী দেয় না। চাকুরীর কথা বলে টাকা হাতিয়ে নিতো, সেদিন উধাও হয়েছিলো, সেখানে কোনো কর্মসংস্থান ছিলো না। এমন অনিয়ম এখনো অহরহ হচ্ছে যা বন্ধ করার জন্য মনিটরিং ও আইনের প্রয়োগ প্রয়োজন। এছাড়াও আমাদের দেশের সরকারি, বেসরকারি, স্বায়ত্বশাষিত, আধা-স্বায়ত্বশাষিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে দীর্ঘদিন যাবত নিয়োগ বন্ধ আছে। ওই পরিমাণে নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না। প্রয়োজনীয় জরিপ করে নিয়োগ বাড়াতে হবে।

তৃতীয়তঃ উদ্যোগক্তা তৈরি করতে হবে, তবে ‍ইচ্ছে হলেই উদ্যোগক্তা হওয়া যায় না। এক্ষেত্রে ব্যংককে এগিয়ে আসতে হবে। ব্যংকের আবার কিছু সমস্যা আছে, যেমন মাত্রাতিরিক্ত সুদ, বিভিন্ন চার্জের নামে অর্থ আদায়, ঋণ অনুমোদনের নামে ঘাটে ঘাটে হয়রানি, যানমালের নিরাপত্তা। এসব বিভিন্ন কারনে অনেকেই শিল্পে বিনিয়োগ করছেন না, তারা বিদেশে টাকা পাচার করছেন এটা বন্দ্ব করতে হবে।

ফলে এই জায়গাগুলো থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি যে জাতীয় পণ্য আমাদের দেশে উৎপাদন সম্ভব সে জাতীয়/সম-জাতীয় পণ্য আমদানি বন্ধ করতে হবে। আমরা পাটের ব্যগের প্রচলনের কথা বলি, আমাদের মন্ত্রী-বুদ্ধিজীবী সবাই বলেন। তবে একদিকে আমারা মুখে পাটের ব্যবহারের কথা বলি অন্যদিকে খুলনায় পাটকলগুলো বন্ধ করে দিচ্ছি। তার মানে আমাদের কথার ফুলঝুড়ি না হয়ে কথাগুলো বাস্তবে প্রয়োগ করতে হবে।

কর্মসংস্থান তৈরির মাধ্যমে আর্থনৈতিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে হবে। দক্ষ জনশক্তির বিকল্প নাই আর দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে অন্যতম ভূমিকা রাখবে সুদবিহীন ঋণ। একসময়ে বাংলাদেশে ডঃ লুৎফর রহমান কর্মসংস্থান ব্যংক তৈরি করার পরে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রী ঋণ নিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চেষ্টা করেছিলো। অনেকে সফলও হয়েছিলো। কিন্তু আমারা সেই প্রকল্পগুলো ধ্বংস করে দিয়েছি।

বেকারত্ব সমস্যার সমাধান করতে হলে অবশ্যই নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উদ্যোক্তা তৈরির বিষয়ে নজর দিতে হবে। উদ্যোক্তাদের সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে যাতে তারা দেশের জন্য নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে। তরুণদের দক্ষ করার পাশাপাশি সুদবিহীন ঋণ দিয়ে দক্ষতাকে কাজে লাগানোর সুযোগ করে দিতে হবে।

লেখকঃ নজিব আকবর,সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল-পিডিপি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে