মো.শহিদুল ইসলাম: রাজধানীতে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। ডেঙ্গু ঢাকার বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাপকভাবে। দেশের ৬৪ জেলায় ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে।আজ সারাদেশের মানুষ এক মহাআতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। কখন কে আক্রান্ত হয় সে ভয়ে রয়েছে। এবার বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই ডেঙ্গুর আগ্রাসন দেখা দিয়েছে। সরকারি হিসাবে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা ১৩ হাজারেরও বেশি। এ বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুজ্বরের প্রকোপ ক্রমেই ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে এত রোগী ভর্তি হয়েছে- যা অকল্পনীয়। হাসপাতালে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। হাসপাতালের মেঝেতেও জায়গা নেই। এক হাসপাতালে জায়গা না পেয়ে রোগীর স্বজনরা দিশেহারা হয়ে ছুটছে অন্য হাসপাতালে। অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েছেন।

পরিকল্পিত কার্যকর উদ্যোগ এবং নাগরিক সচেতনতাই কেবল পারে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা থেকে মানুষকে মুক্তি দিতে।

আমরা এমন এক পরিস্থিতিতে বসবাস করছি, যেখানে ডেঙ্গু বিশেষজ্ঞরা বলেই যাচ্ছেন আগস্ট মাসে এই পরিস্থিতির আরো অবনতি হবে, কিন্তু নগরপিতাদের তা নিয়ে কোন মাথা ব্যথা নেই, তারা এটাকে এক প্রকার গুজবই মনে করে নিচ্ছেন, যেখানে দেশের শীর্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত, সেখানে আমাদের নগর পিতারা কনসার্টের আয়োজন করেন এমন নিউজও আমরা দেখতে পাই। বাংলাদেশে এখন বর্ষাকাল, কখনো রোদ কখনো বৃষ্টি, খানিক থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে আর জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে, এবং এতে করেই বেড়ে যাচ্ছে ডেঙ্গু মশার প্রজনন। চিকিৎসা বিদদের সাথে সাথে সারাদেশের মানুষের যখন একটাই চাওয়া পর্যাপ্ত কার্যকর ওষুধ ছিটিয়ে ডেঙ্গু নিধন করা, কিন্তু সিটি কর্পোরেশন একদমই আমলে নিচ্ছেন না এমনটাই দেখা যাচ্ছে শহর ঘুরে। পাড়া মহল্লার অলিগলি ঘুরে বিভিন্ন জায়গায় এখনো ময়লার স্তুপ দেখা যায়। হয়তো তারা ভাবেন সাধারন জনতা মরলে তাদের ক্ষতি নেই, যারা সন্তান হারা হন, আর যে সকল সন্তানরা তাদের মা বাবাকে
ডেঙ্গুর চিকিৎসা খরচ মেটাতে অধিকাংশ পরিবার যেখানে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে সিটির দায়িত্বে থাকা মেয়েরা দিব্যি এসি রুমে বসে বলে দিচ্ছেন এগুলো গুজব,তবে সাধারন জনগন মনে করেন ভিআইপি বা দায়িত্বশীলদের পরিবারের কেউ আক্রান্ত না হলে তাদের টনক নড়বে না, তবে কি এদেশে সাধারণ জনগণের কোন মূল্য নেই? প্রশ্নটা থেকেই গেল। কলেজ ভার্সিটির প্রতিটা শিক্ষাঙ্গনের শিক্ষার্থীরা হোস্টেলে আতঙ্কিত জীবন-যাপন করছেন, কখন না জানি তারা ঐ মহামারি ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে যান।
তাই প্রতিটা পরিবারের দাবি, প্রতিটা জনসাধারণের দাবি, অতি শীঘ্রই আমাদের নগর পিতারা যেন এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে মহামারী আকার ধারণ করা ডেঙ্গু নামক মৃত্যুকূপ থেকে নগরবাসীকে মুক্তি দেন। শহরকে পরিষ্কার রেখে এডিস মশার ওষুধ প্রয়োগ করে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন এটাই জনতার একমাত্র প্রত্যাশা। নিধন হোক এডিস মশা, বেঁচে থাকুক সর্বস্তরের সাধারণ জনতা।

মো. শহিদুল ইসলাম, জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সহসভাপতি ও সভাপতি ঢাকা মহানগর পূর্ব এবং জাসদের মেয়র প্রার্থী।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে