সোহাগ শরীফ: চাষাবাদ ছাড়াই প্রাকৃতিক ভাবে গড়ে ওঠা ডুমুর গাছ দেখা যায় গ্রামের বন-বাদাড়ে। দেশের পার্বত্য অঞ্চলে ডুমুর তুলনামূলক বেশি পরিলক্ষিত হয়। কাঁচা ডুমুর সবজি হিসেবে রান্না করে খাওয়া যায় ।

ভেষজ গুণসম্পন্ন উদ্ভিদ হচ্ছে এটি। বিভিন্ন রোগ সারাতে এর ব্যবহার হয়ে থাকে। ডুমুরের পাতা, কাঁচা ও পাকা ফল, নির্যাস, বাকল, মূল চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে।প্রতি ১০০ গ্রাম ডুমুরে খাদ্যশক্তি ৩৭ কিলোক্যালরি, ১২৬ মাইক্রোগ্রাম ক্যারোটিনসহ
ভিটামিন এ, বি, সি ও অন্যান্য উপাদান আছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গুটিবসন্ত, ডায়াবেটিস,হৃদ্‌রোগ, কিডনি ও মূত্রসংক্রান্ত সমস্যা, স্নায়বিক দুর্বলতা, মস্তিষ্কের শক্তিবৃদ্ধি, সর্দি-কাশি, ফোড়ার চিকিৎসায় ডুমুর কার্যকর।এতে রয়েছে ক্যারোটিন,ক্যালসিয়াম ও ক্যালরি।এর পাতা গবাদীপশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়।গ্রামীন জনপদে ডুমুরগাছের পাতা দিয়ে শিং ও মাগুর মাছ পরিষ্কার করতে দেখা যায়।

প্রতি ১০০ গ্রাম ডুমুরে জলীয় অংশ রয়েছে ৮৮ দশমিক ১ গ্রাম, খনিজ পদার্থ শূন্য দশমিক ৬, হজমযোগ্য আঁশ ২ দশমিক ২, খাদ্যশক্তি ৩৭ গ্রাম, আমিষ ১ দশমিক ৩, চর্বি শূন্য দশমিক ২, শর্করা ৭ দশমিক ৬, ক্যালসিয়াম ৮০ মিলিগ্রাম, লৌহ ১ দশমিক ১ মিলিগ্রাম, ক্যারোটিন ১৬২ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি১ শূন্য দশমিক শূন্য ৬ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি২ শূন দশমিক শূন্য ৫ মিলিগ্রাম ও ভিটামিন সি ৫ মিলিগ্রাম।

এছাড়াও ডুমুরে আছে প্রচুর দরকারি ফাইবার। এ ফাইবার হজমে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে।শরীরে মেদ কমাতে ডুমুর অত্যান্ত উপকারী।পরিমিত ডুমুর ফল খেলে শরীরে সোডিয়াম-পটাশিয়ামের ভারসাম্য ঠিক থাকে।ফলে উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে।

ডুমুরে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা র‍্যাডিকেলসকে নষ্ট করে। এতে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমে। শুকনো ডুমুর রক্তের ট্রাইগ্লিসারিডসকে কমায়। ডুমুর ফল কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়, ফোঁড়া ও চর্মরোগ
নিরাময়ে বেশ কার্যকর।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে