টাচ নিউজ ডেস্কঃ সম্প্রতি ঢাকার আশুলিয়ায় ও গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে দুটি বাসে ডাকাতি হয়। ওই দুইটিসহ বিভিন্ন সময়ে দূরপাল্লার বাসে ডাকাতির সঙ্গে জড়িত আন্তঃজেলা ডাকাতচক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

গ্রেফতাররা হলেন ডাকাতচক্রের সর্দার হিরা শেখ ওরফে কালাম শেখ ওরফে সোলেমান শেখ (৪০), হাসান মোল্লা ওরফে ইশারত মোল্লা (৩৯), আরিফ প্রামাণিক ওরফে আরিফ হোসেন (৩৩), নুর ইসলাম (৫৩), রাজু শেখ ওরফে রাজ্জাক (৫৪), রেজাউল সরকার (৪৯), মো. রতন (৩৬), শরিফুল ইসলাম (৩৯), মো. হানিফ (৪২) ও নজরুল ইসলাম (৩৫)।

আজ রবিবার বেলা সাড়ে ১১টায় কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব জানায়, এই ডাকাত চক্রটি গত দেড় বছরে যাত্রীবেশে মহাসড়কে ১৫টির বেশি বাসে ডাকাতি করেছে। এ ছাড়া ঢাকা-দিনাজপুরগামী একটি বাসে ডাকাতির সময় ধর্ষণও করেন তারা। চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। কারাগারে গিয়ে তারা জামিন নিয়ে এসে আবারও ডাকাতির কাজে লিপ্ত হন।

সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত বর্ণনা দেন র‌্যাবের লিগ্যাল আ্যন্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। তিনি জানান, শনিবার রাতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ঢাকার আশুলিয়া এলাকা থেকে র‌্যাব সদরদপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-৮ এর একটি অভিযানিক দল তাদের গ্রেফতার করে। তারা ঢাকা-রাজশাহীগামী একটি বাসে ডাকাতির পরিকল্পনা করছিলেন।

গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি বিদেশি পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি, আটটি দেশি অস্ত্র, শ্যামলী এনআর ট্রাভেলসের চারটি টিকিট ও তিনটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়।

ডাকাতির কৌশল বর্ণনা করতে গিয়ে র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘ডাকাতির জন্য তারা ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন দূরপাল্লার আন্তঃজেলা বাসকে টার্গেট করেন। এক্ষেত্রে চক্রটির কয়েকজন সদস্য আগেই নির্দিষ্ট বাসের কাউন্টার থেকে টিকিট কিনে বাসে ওঠেন। অন্য সদস্যরা পরে বিভিন্ন কাউন্টার থেকে টার্গেট করা বাসে ওঠেন। এ ছাড়া যেসব দূরপাল্লার বাস কাউন্টার ছাড়া যাত্রী উঠায় তারা এসব বাসকে প্রাধান্য দিয়ে ডাকাতি করতেন।’

‘সাধারণত তারা মহাসড়কের নির্জন এলাকাকে বাস ডাকাতির জন্য বেছে নেন। ডাকাতি করার পর তারা আবার আশুলিয়ায় ফিরে আসেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় তারা বাড়িঘরে ডাকাতি করতেন বলে জানা গেছে,’- বলেন তিনি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে