টাচ নিউজ ডেস্ক: “জিনিয়া” এই একটা নাম বিগত কয়দিন ফেসবুকে বেশ বহুবার দেখেছি। সেপ্টেম্বর মাস টা আমার জন্য খারাপ যাচ্ছে। ওর নিখোঁজ সংবাদটা যতবারই দেখি বুকটা মোচড় দিয়ে উঠে। ভাবছি কিছু লিখবো কিন্তু মনটা এতোটাই অস্থির বার বার লিখে মুছে ফেলেছি।

সময় টা ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর, আমার মায়ের মৃত্যুবার্ষিকীর ২ দিন আগে টিএসসিতে একা বসে ছিলাম একটা বান্ধবীর অপেক্ষায় কারন ওর স্কুলের বাচ্চাদের ওই বিশেষ দিনে খাওয়াবো সেই বিষয়ে আলোচনার জন্য।  হঠাৎ একটা মেয়ে এসে আমার পাশে বসলো আর আমাকে একটা গোলাপ দিলো। আমি বললাম আমার ফুল লাগবে না, ও বললো আপু এটা তোমাকে দিলাম আমার টাকা লাগবে না। কিন্তু তুমি একা বসে আছো কেন? মন খারাপ?

আমি অবাক আমাকে আমার মনের খবর কেউ জিজ্ঞেস করেনা কিন্তু ও হঠাৎ?  আমি ওকে একটা আমার ব্যাগ থেকে বের করে চকলেট দিলাম। শুরু টা সেখানেই…

আমাকে যেখানেই দেখে দৌড়ে আসে আর বলে আমার জন্য জমিয়ে রাখা চকলেট গুলো কই দাও। আমি বললাম নাই। ও বলে তোমার টাকার ব্যাগ টা বের করো তারপর দেখছি৷ ওর সাথে একটা সখ্যতা গড়ে ওঠে।

একটা সময় আমি বিভিন্ন সংগঠনে সময় দিয়ে বন্ধুমহল থেকে কিছুটা বিচ্ছিন্ন ছিলাম কিন্তু টিএসসিতে গেলে আমার সেটা কখনোই মনে হতো না। জিজ্ঞেস করতাম খেয়েছিস? কিছু বলতো না।

জিনিয়া ২০ টাকার খাবারে এতো খুশি হতো যেটা আমি হাজার টাকায় ও কোথাও পেতাম না। আমি শুনেছি ও আমার বন্ধুদের কাছে আমাকে টিএসসিতে না দেখলে জিজ্ঞেস করতো,আমি কেনো আসিনা। ওর মুখের হাসিটা দেখার জন্য হলেও আমি ওর পাশে ক্যাফেটেরিয়া খাবার দিয়ে বসে থাকতাম আর ও খিল খিল করে হাসতো।

আমি ওকে টাকা দিলে ও নিতে চাইতো না, কেনো জানি না। ও আমাকে দেখলেই জড়িয়ে ধরতো। আমার বান্ধবী রাও জিনিয়াকে চেনা শুরু করলো। ও টিএসসিতে বেশ পরিচিত মুখ। ওকে নিয়ে লিখলে আমার শেষ হবে না।

তবে আমি চাই, পৃথিবী সুস্থ হয়ে যে প্রানবন্ত টিএসসিতে আমরা সবাই ফিরবো সেখানে “জিনিয়া”র মতো অক্সিজেনরা থাকবে।

(ফেইসবুক থেকে সংগৃহিত)

লেখক: অর্নিতা দাস অর্নি, সাংগীত বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে