টাচ নিউজ ডেস্কঃ দুবছর আগেও ঢাকা-সৈয়দপুরের ফ্লাইটে জনপ্রতি ভাড়া ছিল সর্বনিম্ন ২ হাজার ৭০০ টাকা। বর্তমানে একই রুটে ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৯৯৯ টাকায়। ভাড়া বৃদ্ধির ব্যাপারে এয়ারলাইনসগুলো বলছে জেট ফুয়েলের দাম বাড়ায়, বেড়েছে ভাড়া।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে যেখানে এক লিটার জেট ফুয়েল কিনতে এয়ারলাইনসগুলোকে খরচ করতে হতো ৪০ টাকা, সেখানে এখন গুনতে হচ্ছে ১০০ টাকা।

মূলত একটি ফ্লাইটের পরিচালনা ব্যয়ের অন্তত ৪০ শতাংশ নির্ভর করে জেট ফুয়েলের দামের ওপর। তাই জেট ফুয়েলের দাম বাড়লে সরাসরি প্রভাব পড়ে ভাড়ায়।

এদিকে জ্বালানির বাড়তি মূল্য সমন্বয় করতে ধাপে ধাপে বেড়েছে টিকিটের দাম। কোভিড-পূর্ববর্তী সময়ে প্রতি বছর প্রায় ৭ শতাংশ হারে বাড়ছিল আকাশপথের যাত্রীসংখ্যা।

এয়ারলাইনসগুলো জানিয়েছে, ভাড়া বাড়ার বিরূপ প্রভাব পড়েছে এই খাতে। কমে গেছে যাত্রীসংখ্যা। এতে করে লোকসানের মুখে পড়তে পারে দেশি এয়ারলাইনসগুলো।

জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান পদ্মা অয়েলের তথ্য বলছে, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে অভ্যন্তরীণ গন্তব্যের জন্য জেট ফুয়েলের দাম ছিল ৫৫ টাকা, মার্চে তা বেড়ে হয় ৬০ টাকা। এপ্রিলে তা ছিল ৬১ টাকা।

মে মাসে এক টাকা কমে দাম। এরপর আবার দাম বাড়ে। জুনে তা হয় ৬৩ টাকা, জুলাইয়ে ৬৬, আগস্টে ৬৭, অক্টোবরে ৭০, নভেম্বরে ৭৭ টাকায় পৌঁছে দাম।

এরপর ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে ২ টাকা করে কমলেও ফেব্রুয়ারি ও মার্চে ৭ টাকা করে বেড়ে হয় ৮৭ টাকা। এপ্রিলে বাড়ানো হয় ১৩ টাকা। এখন প্রতি লিটার বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়।

আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্যও বেড়েছে জেট ফুয়েলের দাম। এখন থেকে প্রতি লিটার জেট ফুয়েল কিনতে হবে ১ দশমিক শূন্য ২ ডলার বা ৮৮ টাকায়।

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ছিল ৫০ সেন্ট (৪২ টাকা), মার্চে ৫৫ সেন্ট (৪৬ দশমিক ৭৫ টাকা), মে মাসে ৫৬ সেন্ট (৪৭ দশমিক ৬ টাকা), জুনে ৫৯ সেন্ট (৫০ দশমিক ১৬ টাকা), জুলাইয়ে ৬২ সেন্ট (৫২ দশমিক ৭ টাকা), আগস্টে ৬৩ সেন্ট (৫৩ দশমিক ৫৫ টাকা), অক্টোবরে ৬৫ সেন্ট (৫৫ দশমিক ২৫ টাকা) এবং নভেম্বরে ৭৩ সেন্ট (৬২ দশমিক ০৫ টাকা)।

এ বছরের জানুয়ারিতে পদ্মা অয়েল প্রতি লিটার জেট ফুয়েল ৬৭ সেন্ট বা ৫৭ টাকায় সরবরাহ করেছে এয়ারলাইনসগুলোকে। আর ফেব্রুয়ারিতে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণ করা হয় ৭৫ সেন্ট বা ৬৪ টাকা।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে