ষ্টাফ রিপোর্টার: কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ সাধারণ সম্পাদক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের তুখোড় ছাত্রনেতা মৃত্যুঞ্জয়ী ছাত্রনেতা সিরাজুল ইসলাম সিরাজের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার ৮ম বর্ষপূর্তি ২৫ শে জুলাই।

২০১৩ সালের এই দিনে তারেক রহমানের নামে কুটক্তি করার বিরুদ্ধে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবাদ মিছিলে পুলিশের বর্বর হামলার শিকার হন সিরাজ। পুলিশ তার পেটে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করলে তার নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে যায় পরে এক পথচারী মহিলার সহায়তায় হাসপাতালে নেওয়া হলে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সহযোগীতা এবং তত্ত্বাবাধয়নে চিকিৎসা চলে, পাঁচ দিন লাইফ সাপোর্ট ও আট দিন আইসিইউতে ছিলেন, শরীরে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ অপারেশন করে শরীরের নাড়ী ভুড়ির কিছু অংশ ও অনেক ভেইন কেটে ফেলতে হয়।

দীর্ঘদিনের অসুস্থতা কাটিয়ে আবার রাজপথে ফিরে আসেন সিরাজ, তবে এখনো সেই দুর্বিষহ স্মৃতি বুকে নিয়ে জিয়া পরিবারের নামে শ্লোগান দেয় সিরাজ, রাজপথে সবর থাকে নব-উদ্যমে।

গুলিবিদ্ধ সিরাজের সাথে এই প্রতিবেদকের কথা হলে তিনি জানান, সে দিন সকাল ১১ টার দিকে আমরা মিছিল নিয়ে বের হলে পুলিশ বিনা উস্কানিতে মিছিলে নির্বিচারে গুলি চালায়, আমি প্রথম গুলি খেয়ে মাটিতে পড়ে গেলে দ্বিতীয় দফায় পুলিশ কাছে এসে আমার পেটে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করে, বাঁচার আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম, আল্লাহতালার অশেষ রহমত আমার দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক ভাইয়ার সহযোগীতা সহ দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ, বড় ছোট বিভিন্ন পর্যায়ের ভাই- বন্ধু, বান্ধব ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ঐকান্তিক চেষ্টা ও ভালবাসায় মহান রব্বুল আল-আমিন হয়ত নতুন জীবন দিয়েছেন। যারা সেদিন গুলোতে পাশে ছিলেন তাদের প্রতি শুধু কৃতজ্ঞতা নয় হৃদয় থেকে শ্রদ্ধা ও ভালবাসা থাকে সব সময়। তাদের সেই দিনগুলোতে সহযোগিতা, সাহস, অনুপ্রেরণা আমাকে সুস্থ হতে সহযোগীতা করেছে। আবার রাজপথে ফিরে আসতে পেরে খুব ভাল লাগছে। শুকরিয়া মহনা রাব্বুল আল-আমিনের কাছে।

জীবনে শেষদিন পর্যন্ত শহীদ জিয়া নামে শ্লোগান দিতে চাই।

তিনি আরো জানান কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে দলের জন্য জীবন উৎস্বর্গ করতে পারলে স্বার্থক মনে করবো।

সিরাজ কে এখনো কেন্দ্রীয় সহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে দেখা যায়, তার শ্লোগান দেওয়ার কারিশমার জন্য ইতিমধ্যে জগন্নাথের শ্লোগান মাস্টার খেতাব আর্জন করেছে তৃর্ণমূল ছাত্রদলের কাছে। পারিবারিকভাবে বিএনপি পরিবারের সন্তান সিরাজের শিক্ষক পিতা ছিলেন পিরোজপুর সদর উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।

এ বিষয়ে পিরোজপুর জেলা বিএনপি’র সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক আলমগীর হোসেনর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, সিরাজ পিরোজপুর জেলার এক আদর্শ গর্বিত জাতীয়তাবাদী সন্তানের নাম, তার ত্যাগ, রক্ত দল ও আমরা ভুলতে পারি না, সাবেক ছাত্রনেতা হিসাবে ভাল লাগে যখন দেখি আমাদের আদর্শের সু-সন্তান সিরাজরা মৃত্যুকে বরন করে নিয়ে শহীদ জিয়া, দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়া ও তারুন্যের অহংকার জনাব তারেক রহমানের নামে জীবন বিলিয়ে দিতে কার্পণ্য করে না। এই সিরাজরাই আগামীদিনের অনুপ্রেরণা। এদের ভালবাসায় এই শহীদ জিয়া পরিবার ও বিএনপি বেঁচে থাকবে অনন্ত কাল।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে