বিশেষ প্রতিনিধি: চীন বাংলাদেশের রোহিঙ্গা ইস্যুতে সহযোগিতা করবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আবুল কালাম আবদুল মোমেন।

বুধবার বেলা ১১ টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে ‘মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকদের স্বদেশে প্রত্যাবর্তন’বিষয়ক জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

বার্তা ও টেলিভিশন প্যাকেজ অনুষ্ঠান প্রযোজনা সংস্থা ‘হোম মিডিয়া’ এবং ‘ল্যান্ড মার্ক পাবলিকেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন হাউস লিমিটেড’ (এলটিভি বাংলা) এ সংলাপের আয়োজন করেন।

বিশিষ্ট অর্থনীতিবীদ ড.আহমদ আল কবির সংলাপে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন।

প্রতিষ্ঠনের চেয়ারম্যান বিশিন্ট সাংবাদিক কলামিস্ট ও টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাতা মো্ল্লা আতাউর রহমান মিন্টু সংলাপ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

ড. আবুল কালাম আবদুল মোমেন বলেন, মিয়ানমার যাদের উপর নির্ভরশীল তারা বাংলাদেশকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফরকালে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কথা বলেছে। তারা সবাই এক বাক্যে স্বীকার করেছেন রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন অবশ্যই প্রয়োজন। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীন অবশ্যই বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন যদি বিলম্বিত হয় এবং অনিশ্চয়তা দেখা দেয় তাহলে শুধু বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের ক্ষতি হবে না, যারা এ অঞ্চলে বিনিয়োগ করেছেন তারাও যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী অত্যন্ত ভীতু প্রকৃতির, তারা তাদের সরকারকে বিশ্বাস করে না। আমরা মিয়ানমারকে কিছু শর্ত দিয়ে বলেছি আপনারা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিয়ে গিয়ে দেখান, তাদের নাগরিকত্ব দেন এবং তাদের স্বাধীনভাবে থাকা ও চলাফেরা করার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার বিষয় উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে সারা বিশ্বে মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সারা বিশ্ব এখন বাংলাদেশের প্রশংসা করে। যা কোটি কোটি টাকা খরচ করেও অর্জন করা সম্ভব নয়। তাই বাংলাদেশের সবাইকে শেখ হাসিনার প্রতি যথেষ্ট কৃতজ্ঞ থাকা দরকার।

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে অবশ্যই ফিরে যাবে এবং গেলে সবাই একসঙ্গেই ফিরবে। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার জন্য যা যা করার দরকার আমরা তাই করছি এবং আমরা অবশ্যই সফল হবো।

সংলাপের মূল প্রবন্ধের আলোচনায় বিশিষ্ট অর্থনীতিবীদ ড. আহমদ আল কবির বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ঐতিহাসিকভাবে পূর্বতন আরাকান রাজ্যে বসবাস করে আসছে।কথিক আছে খৃষ্টপূর্ব ৩০০০ শতাব্দীতে রোহিঙ্গারা মায়ানমার নাগরিক হিসেবে আরাকানে বসবাসরত ছিলেন। বিগত ২৫ আগস্ট ২০১৭ সালে বাংলাদেশে বলপূর্বক বাস্তচ্যুত মায়ানমার নাগরিকেরা, প্রায় ৯ লক্ষ নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। কেবলমাত্র মানবতার দিক বিবেচনায় রেখে Mother of Humanity রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা সাময়িকভাবে বিশাল বিতাড়িত জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দান করেন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে মায়ানমার বাস্তচ্যুৃতদের অবস্থানের জন্য বাংলাদেশ পরিবেশ বিপর্যয়,গাছপালা নিধন, পাহাড় ধ্বংস, সংক্রামক ব্যাধি বিস্তার, সামাজিক অনাচারের শিকারে পরিনত হয়েছে। দীর্ঘদিন এরা বাংলাদেশে থাকলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ঝুকি,মাদক ও মানব পাচার সহ নানামুখী সমস্যার বিস্তার ঘটবে।

উক্ত সংলাপে বিশেষ অতিথি হিসেব আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন রিয়ার এ্যাডমিরাল হারুনুর রশীদ (অব.), সেন্টার ফর এনআরবি’র চেয়ারম্যান এম এস সেকিল চৌধুরী,বিশিষ্ট গবেষক ও সাংবাদিক স্বদেশ রায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর ড. মমতাজ খানম, বঙ্গবন্ধু শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের সভাপতি মো:মুশফিকুর রহমান মিন্টু,আইনজীবি তাওহীদা বিনতে রহমান আখি।

সংলাপে উপস্তিত ছিলেন, প্রফেসর ড.আনিসুর রহমান ফরাজি,এলটিভি বাংলার পরিচালক মুজিবর রহমান মাতব্বর, বিপ্লব মাহমুদ, আরিফ আহমেদ সাকিব, রুবিনা সুলতানা,সমাজ সেবি মাহমুদা বেগম লিপি।

সংলাপ পরিচালনা করেন হোম মিডিয়া এবং ল্যান্ড মার্ক পাবলিকেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন হাউস লিমিটেড (এলটিভি বাংলা)’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ রেজাউল হক টিটু।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে