মো. শহিদুল ইসলাম:
দেশ, মাটি ও মানুষের জন্য বঙ্গবন্ধুর আহবানে ছাত্র অবস্থয় একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ করেছি। অর্জন করেছি প্রিয় স্বাধীনতা। শুধু স্বাধীনতা অর্জন করেই থেমে থাকিনি। স্বাধীন দেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন, গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছি। পাশাপাশি ১৯৭৬ সালে গঠিত মুক্তিযোদ্ধা সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছি। এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তি সময়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে যে কোনো সংগ্রামেই থেকেছি অপ্রতিরোধ্য। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সহসভাপতি ও ঢাকা মহানগর পূর্বের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি। অন্যদিকে ১৯৭৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন শাস্ত্রে সর্বোচ্চ ডিগ্রিও অর্জন করি।
পরবর্তিতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সংক্রিয় রাজনীতি ও সংগ্রামের পাশাপাশি দেশের মানুষের কল্যাণে ১৯৮৬ সালে ঢাকার ডেমরা আসনে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করি। এছাড়া ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা ৫ আসনে প্রার্থীতা দাখিল করার পর ১৪ দলীয় জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তা প্রত্যাহার করি।পরবর্তীতে ২০১৫ সালে জাসদ মনোনিত মেয়র প্রার্থী হিসাবে ঢাকা দক্ষিন সিটি কর্পোরেশন এ মেয়র নির্বাচন করি। নির্বাচন এর তিন দিন আগে ১৪ দলের সিদ্ধান্ত মোতালেব মেয়র সাইদ খোকন কে সমর্থন দিয়ে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করি। তবে রাজনীতির মাঠে আন্দোলন-সংগ্রাম-সাফল্যে সরব থেকেছি এখনও।

এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নিয়ে নিজের কিছু স্বপ্ন ও উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। আগামীতে মেয়র হিসেবে সেবার সুযোগ পেলে এসব স্বপ্ন বাস্তবায়নের মাধ্যমে গড়ে তুলব পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও প্রযুক্তিবান্ধব নতুন এক ঢাকা। এসব পরিকল্পনার মধ্যে অন্যতম প্রধান কাজ হবে পরিচ্ছন্ন এবং প্রযুক্তিবান্ধব ও নিরাপদ ঢাকা গড়ে তোলা। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, সিটি কর্পোরেশন ও বাড়ির মালিক সমিতির যৌথ উদ্যোগে নগরের সব জায়গায় সিসিটিভি স্থাপনের ব্যবস্থা করা হবে। এসব সিসিটিভির মাধ্যমে নগরের পরিচ্ছন্ন কর্মীদের উপস্থিতি ও কাজের মনিটরিং যেমন করা যাবে, তেমনি রাস্তায় বা কোনো বাসার সামনে কোনো অপরাধ সংগঠিত হলে তারও ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। একই সঙ্গে পুরো দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনকে দ্রæত গতির ওয়াইফাই ইন্টারনেটের আওতায় আনা হবে। এতে বাড়ির মালিক বা ভাড়াটিয়ার সঙ্গে সিটি কর্পোরেশনের যোগগাযোগ ব্যবস্থা যেমন আরও উন্নতি হবে, তেমনি বাড়ির মালিক বা ভাড়াটিয়াদের ছেলেমেয়ে বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের নূন্যতম ফি’য়ের মাধ্যমে দ্রæত গতির ওয়াইফাই সুবিধা দেওয়া হবে, যাতে তারা আউটসোর্সিং বা অনলাইন বিজনেসে মনোযোগী হয়ে বেকারত্ব দূর করে সাবলম্বি হতে পারে। পাশাপাশি সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে বেকার তরুণ-তরুণীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হবে। আর এ পদক্ষেপ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বছরে কমপক্ষে ৫ লাখ তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব বলে মনে করি।
এসব পরিকল্পনা বস্তবায়নের জন্য হোল্ডিং ট্যাক্সও বাড়ানোর প্রয়োজন হবে না। বরং কমানো হবে। আর বাড়িভাড়াও যেনো মালিকরা যখন-তখন না বাড়ান সেদিকও খেয়াল রাখা হবে। অন্যদিকে পরিচ্ছন্ন নগর গড়তে পরিচ্ছন্ন কর্মীর সংখ্যা আরও ৫ গুণ বাড়ানো হবে। এছাড়া গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানি-পয়ঃনিস্কাশন ও বিনোদন সুবিধা বৃদ্ধির জন্য সিটি কর্পোরেশনকে আমলাতান্ত্রীক প্রশাসনের ওপর নির্ভর না করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও নাগরিকদের সঙ্গে নিয়ে নগরের সব এলাকায় সমানভাবে উন্নয়ন করা হবে। যেখানে থাকবেনা কোনো দুর্নিতি বা অনিয়ম।
বাড়ির মালিক বা ভাড়াটিয়ার পাশাপাশি নগরের বস্তিবাসী, রিকশাঅলা, হকার, গার্মেন্টস কর্মী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, নিম্ন আয়ের মানুষ ও ভিক্ষুকদের জন্য সিটি কর্পোরেশনের নির্ধারিত জায়গায় স্বল্প বিনিয়োগে বসবাসের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে। হকারদের জন্য শহরের নির্ধারিত জায়গায় থাকবে ব্যবসা করার সুযোগ। অন্যদিকে লাইসেন্স ছাড়া কেউ রিকশা চালাতে পারবে না। এছাড়া রিকশাঅলা ও হকারদের জন্য সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব বহুতল ভবন নির্মাণ করে এক বা দুই রুমের আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে। প্রতিদিন নির্ধারিত নূন্যতম টাকা প্রদান করে রিকশাঅলা, হকার ও ক্ষুদ্র আয়ের মানুষ একসময় এ আবাসনের নিজস্ব মালিকানা অর্জন করবেন। নগরের গৃৃহকর্মে নিয়োজিত নারী-পুরুষদেরও এ সুবিধা দেওয়া হবে। এছাড়া নতুন রাস্তাঘাট নির্মাণ, আধুনিকায়ন ও পুন:র্নিমাণের পাশাপাশি জনসাধারণের সুবিধার্থে ফুটপাতের অবৈধ দখল স্থায়ীভাবে বন্ধ করার ব্যবস্থা করা হবে। সব মিলিয়ে আধুনিক, প্রযুক্তিবান্ধব ও সবুজ ঢাকা গড়ে তোলাই হবে এসব পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ।
সততা, মেধা ও যোগ্যতার সমন্বয়ে শৈশব থেকেই নিজেকে জনকল্যাণমূলক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত রেখেছি। অংশ নিয়েছি মুক্তিযুদ্ধেও এবং দেশের কল্যাণে এখন কাজ করছি। এরই ধারাবাহিকতায় নাগরিকরা যদি সেবা করার জন্য নগরপিতার আসন দেন, তাহলে নিজেকে বিলিয়ে দেব সেবার সব শাখা-প্রশাখায়।

লেখক: মো. শহিদুল ইসলাম, জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সহসভাপতি ও সভাপতি ঢাকা মহানগর পূর্ব।
সাবেক ঢাকা সিটি কর্পোরেশন জাসদের মেয়র প্রার্থী।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে