টাচ নিউজ ডেস্কঃ গাঁজা চাষ ও এর ব্যবহার বৈধ করল থাইল্যান্ড। বৃহস্পতিবার (৯ জুন) এক সরকারি নির্দেশনায় গাঁজার ওপর দেশব্যাপী থাকা সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়েছে। এখন থেকে চাইলে দেশটির নাগরিকরা বাড়িতে গাঁজার চাষ করতে পারবেন। উৎপন্ন গাঁজা বিক্রিও করতে পারবেন বাজারে। মাদকদ্রব্যের তালিকা থেকে গাঁজার নাম কেটে দেয়া হয়েছে। ফলে এখন থেকে গাঁজার মালিকানা এবং খাদ্য ও পানীয়তে এর ব্যবহার বৈধ।

আল-জাজিরা জানিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বহুদিন ধরে নিষিদ্ধ থাকা গাঁজার বৈধতা দিল থাইল্যান্ড। তবে বিনোদনমূলকভাবে গাঁজার ব্যবহার এখনো আইনে নিষিদ্ধ রয়েছে। থাই সরকারের প্রত্যাশা, এ সিদ্ধান্তের ফলে স্থানীয় গাঁজার বাজার রমরমা হবে। সেই সঙ্গে কৃষিখাত ও পর্যটন ব্যবসাও চাঙা হবে।

গাঁজার উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে থাই সরকার। স্থানীয় বাসিন্দাদের গাঁজা চাষে উৎসাহী করতে বিনা মূল্যে ১০ লাখ গাঁজার বীজ সরবরাহ করার সিদ্ধান্তও নিয়েছে থাই সরকার। শুক্রবার (১০ জুন) থেকেই বীজ সরবরাহ শুরু হবে। দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্য ও জনগণের জন্য গাঁজা থেকে আয় করার এটা বড় সুযোগ।

বৃহস্পতিবার কার্যকর হওয়া এই নিয়ম অনুযায়ী, নিবন্ধন করা গৃহস্থরা সর্বোচ্চ ছয়টি টবে গাঁজা গাছ লাগাতে পারবেন। আর কোনো কোম্পানি চাইলে অনুমতি নিয়ে গাঁজার বাগানও করতে পারবে। এ ছাড়া গাঁজা দিয়ে বানানো নানা পদের খাবার ও পানীয় অর্ডার করা যাবে রেস্তোরাঁয়।

গাঁজাকে থাইল্যান্ডের একটি অর্থকরী ফসল হিসেবে প্রচারের জন্যই সবশেষ এ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে থাই সরকার। বিশ্বব্যাংকের মতে, দেশটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শ্রমশক্তি কৃষি কাজে নিয়োজিত।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ থাইল্যান্ডে ১৯৩০ সাল পর্যন্ত শরীরের ব্যথা ও ক্লান্তি দূর করার জন্য গাঁজা সেবন ছিল একটি প্রচলিত রীতি। ১৯৩৫ সালে গাঁজা সেবন, পরিবহন কিংবা বাজারজাত করার বিষয়ে আইনি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

প্রণীত আইন অনুযায়ী, ওই সময় গাঁজা উৎপাদন বা পরিবহন দণ্ডনীয় অপরাধ বলে গণ্য হতো এবং দায়ী ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাভোগ কিংবা ৪০ হাজার ৫০০ ইউরো পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হতো। প্রায় ৮৩ বছর পর ২০১৮ সালে গাঁজাকে ফের বৈধ ঘোষণা করে থাইল্যান্ড।

গ্রীষ্মমণ্ডলীয় জলবায়ু ও আবহাওয়ার কারণে থাইল্যান্ড গাঁজা চাষের জন্য আদর্শ জায়গা। সহজে উৎপাদনযোগ্য গাঁজা চিকিৎসা খাতে ব্যবহারের মাধ্যমে দেশীয় অর্থনীতির পাশাপাশি স্থানীয় ক্ষুদ্র কৃষকদের আয় বাড়াতে চায় দেশটির সরকার। কীভাবে এর সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা যায় সেই লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছেন কর্মকর্তারা।

থাইল্যান্ডে গাঁজা বৈধকরণের অন্যতম বড় সমর্থক জনস্বাস্থ্য বিষয়ক মন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল বলছেন, ‘গাঁজা কীভাবে ব্যবহার করতে হবে, আমাদের সবার সেটা জানা উচিত। আমরা যদি এ বিষয়ে সঠিক জ্ঞান অর্জন ও সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারি, তাহলে গাঁজা অর্থনৈতিকভাবে আরেক স্বর্ণের মতো মূল্যবান হয়ে উঠতে পারে।’

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে